
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে প্রিন্সিপাল সাব্বির উদ্দিন আহমেদ প্রণীত ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ‘সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার ও সমন্বিত নতুন শিক্ষা-কারিকুলাম প্রবর্তনকে সামনে রেখে সমাজ-চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, জ্ঞানী-গুনীজনের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিএনসি’র সভাপতি জনাব এ,কে,এম, বদররুদ্দোজা।
সিএনসি’র নির্বাহী পরিচালক জনাব মাহবুবুল হকের তত্ত্ববধানে এ আলোচনা সভায় প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার, বিচারপতি জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তিনি আল কুরআনের মৌলিক শিক্ষা ও নীতির ভিত্তিতেই একটি মূল্যবোধ সম্পন্ন উন্নততর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন। ৭ম শতাব্দীতে মদীনায় রাসূল (স. ) এর ওপর ভিত্তি করেই একটি সুস্থ-সবল সমাজ ও শক্তিশালী মানবিক রাষ্ট্র গড়েছিলেন। এ রাষ্ট্র ও শিক্ষা মডেল ৫০০ বছর ধরে পৃথিবীতে মুসলমানদের অজেয়, অপ্রতিদ্বন্দ্বী আর সবচেয়ে উন্নত করে রেখেছিল।
দুনিয়ার কোন শক্তিই তখন মুসলমানদের মোকাবেলা করতে পারেনি। বিশেষ মেহমান সাবেক সচিব ও চেয়ারম্যান এনবিআর জনাব ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগি বাস্তবায়ন সম্পর্কে আলোচনা করেন। বিশেষ মেহমান ও আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জনাব ড. সুকোমল বড়ুয়া, সাবেক সচিব জনাব এ এম এম নাসিরুদ্দীন। প্রধান আলোচক কবি জনাব জাকির আবু জাফর পার্থিব ও পারলৌকিক বিষয়ে সমন্বিত শিক্ষা-প্রনালীর রূপরেখার ইতিবাচকতার ওপর চমৎকার ভাষায় আলোচনা করেন। হৃদয়গ্রাহী ও কবিত্বময় এ আলোচনা সকলকে মুগ্ধ করে।
আরো আলোচনা করেছেন লেখক, গবেষক, সমাজ চিন্তক, সিএনসি’র উপদেষ্টা জনাব শাহ্ আবদুল হালীম, স্বনামধন্য ইতিহাস গবেষক, লেখক জনাব মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক কালচারাল অফিসার, রাশিয়ান কালচার সেন্টার এবং নাট্য ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব জনাব সাইদুর রহমান সাইদ, জাতীয় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের মহাসচিব, কবি ও গবেষক জনাব শাহ্ সিদ্দিক, সংবাদিক ও সম্পাদক জনাব মোস্তফা কমাল মজুমদার, প্রকাশক ৭১ প্রকাশনি জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, শিক্ষাবিদ, কবি ও লেখক কর্নেল (অব.) আশরাফ আল দীন, সাবেক সচিব জনাব শেখ একে মোতাহার হোসেন, বৈষম্য বিরোধী নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ড. আব্দুল মালেক ফরাজি প্রমুখ।
আলোচনায় শিক্ষা সংস্কারের নানা দিক নিয়ে আলোচিত হয়। গবেষক শাহ্ সিদ্দিক ক্লাস সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত আরবীতে ১০০ মার্ক যোগ করার প্রস্তাব দেন। অনেকেই একমুখী শিক্ষা প্রনয়ন করার ওপর জোর দেন। আমাদের স্বাধীনতার ৫৩ বছরে বহু শিক্ষা-কমিশন গঠিত হলেও যুগোপযোগি, সমন্বিত নৈতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা-পদ্ধতি প্রনয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত ষোল বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে সরকারী দুর্বৃত্তপনায়। শিক্ষারথী ও শিক্ষাব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে গভীর সংকট। জাতির এই ক্রান্তিকালে ‘সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার’ জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টির ওপর আলোকপাত করেছে এ সেমিনারের মাধ্যমে।
জাতীয় জীবনের দুর্যোগ ও অস্থির সময়ে শিক্ষা সংস্কারে এ ধরনের সংলাপ আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া আমাদের শিক্ষা সংস্কার করে একটি মূল্যবোধভিত্তিক সমতা, ন্যায় বিচার, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামো তৈরীর ওপর আলোচকগন জোর দেন। দক্ষ, নৈতিক ও মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন জনশক্তি তৈরী করতে হলে প্রয়োজন সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষাদান। মানবিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করতে হলে ইসলামী শিক্ষা দর্শন ছাড়া উপায় নেই। এরকম আরো অসংখ্য আলোচনা ও মতবিনিময় আয়োজনের মাধ্যমে সিএনসি’ শিক্ষা সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।