
মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বেশিভাগকেই দলের মনোনয়নবঞ্ছিত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়তে হবে।আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ‘বিদ্রোহী’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে দলের নমনীয় মনোভাবের সুযোগ নিয়ে এখন তারা নিজ নিজ আসনে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে চান। যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকে দলের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তিত আছেন।
নোয়াখালী-১ আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগের তিন নেতা মনোনয়নপত্র নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।দলীয় সূত্রে জানা যায়,নোয়াখালী- ১( চাটখিল সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে দ্বাদশ নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সরকারি জাহাঙ্গীর আলম, সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার রুহুল আমিন ও চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির সহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছন । মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ৩ জন, কিন্তু প্রার্থী হবে ১ জন।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে । স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই মনোনয়নপত্র জমা দেন।
চাটখিলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়ার কাছে ও সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন এর কাছে নিজে উপস্থিত হয়ে এই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যেই তিনি এ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন , আজকের জনস্রোতই প্রমাণ করে দেয়, নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে সকলেই পরিবর্তন চায়। সকলের একটাই চাওয়া গরীব-দুঃখী ও মেহনতী মানুষের স্বপ্নের ঠিকানা, নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থল স্থান আমাদের মাঝে খুজছেন । তবে , এইখানকার নেতাকর্মীরা কেউই কিন্তু নৌকার বিরুদ্ধে না, সকলেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিগত ১০ বছরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সাধারণ জনগণকে অত্যাচার, নির্যাতন, নিজ দলের নেতাকর্মীদের মামলা-হামলা দেয়া, পুলিশ দিয়ে হয়রানি, বিএনপি-জামাতের লোকজনদের চাকরি ও ঠিকাদারি কাজ দেয়া সহ সকল ধরণের দুর্নীতি থেকে এই আসনের জনগণ মুক্তি চায় বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়া সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩ নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন এইচ এম ইব্রাহিম এমপিকে দেওয়া হলেও দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিং এর দ্বন্দ্ব পাত্তি হিসেবে এই আওয়ামী লীগের তিন নেতা ঘোষণা দিয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, এই আসনে আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের নেতাকর্মীদের দলীয় কোন কোন্দলের জের ধরে মামলা হামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাটিয়েছে।দলীয় নেতাকর্মীদের একে অপরকে দিয়ে হামলা করেছে। এ কারণে এখানে পরিবর্তন চায়।

চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বলেন, দলীয় লিডারের কারণে এই আসনে আওয়ামী লীগ কয়েকভাবে ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। সাবেক এমপি এই আসনের দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিগত সময়ে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছেন। এখন আর ফাঁকা মাঠে গোল দেয়া চলবে না। তিনি এই আসনে পরিবর্তন চান। তবে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনো বাধা দেননি। তাই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।আগামী নির্বাচনে ভোটারগণ যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন এই আশা তিনি ব্যক্ত করেন।
নোয়াখালী -১ আসনের এমপি এইচএম ইব্রাহিম বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে কোন কথা বলবো না। সবাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় লোক। তিনি বিগত সময়ে এই আসনের দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা রাস্তাঘাট মসজিদ মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন হয়েছে। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন, নৌকার প্রতি সম্মান রেখে দলের অন্যান্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন বলে তিনি আশাবাদী। তবে নোয়াখালী ১ আসনে কোন দলীয় গ্রুপিং নেই।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ