হোম » অপরাধ-দুর্নীতি » বগুড়ায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বগুড়ায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

এম এ রাশেদ: বগুড়ার সদরে ২,শতক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জীবন নাহার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

গত বুধবার (১৭ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের কুটুর বাড়ি গ্রামের স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই গৃহবধুর নাম জীবন নাহার। তিনি ওই এলাকার পলাশের স্ত্রী।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মূলত পূর্ব শত্রুতা ও জমির বিরোধে গৃহবধূকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মাথায় গুরুতর আঘাত থেকে তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের পরিবার এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ চারজনের নাম বলেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে তিনটি দল অভিযান শুরু করেছে।’

নিহতের স্বামী পলাশ বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই মাত্র দুই শতক জমির জন্য আমার স্ত্রীকে ওরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই। পুলিশ সদস্য আবেদুর তার চাকরির প্রভাব খাটিয়ে আমাদের হেনস্তা করে আসছিল। তবে এভাবে আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলবে ভাবিনি। জানলে তাদেরকে আগেই সব দিয়ে দিতাম।’

রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম রাজু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার মীমাংসা করেছি। তারপরও এ ঘটনা ঘটিয়ে তারা অপরাধ করেছে। তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।’

নিহতের ভাসুর রাজু বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবেশি পুলিশ সদস্য আবেদুর রহমানের সঙ্গে বাড়ির সামনের দুই শতক জমি নিয়ে ১৫ বছর ধরে বিরোধে মামলা চলছে। এ নিয়ে ঢাকায় পুলিশে কর্মরত আবেদুর ছুটি কাটাতে বাড়িতে আসলে সব সময় হুমকি দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার সকালে ধান কাটা তিন শ্রমিককে খাবার দিয়ে আমার ভাইয়ের স্ত্রী বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আবেদুরসহ তার দুই ভাই বিপ্লব, জহুরুল ও তার ছেলে কনক আমার ভাইয়ের স্ত্রীকে ধরে আমবাগানে নিয়ে গিয়ে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

অভিযুক্ত আবেদুর রহমানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তার পরিবারের সদস্য ও তিনি পলাতক রয়েছেন।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!