হোম » অপরাধ-দুর্নীতি » সোনাইমুড়ীর সরকারি বরাদ্দকৃত এক প্রকল্প একাধিকবার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ চেয়ারম্যান মীরন অর রশিদ

সোনাইমুড়ীর সরকারি বরাদ্দকৃত এক প্রকল্প একাধিকবার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ চেয়ারম্যান মীরন অর রশিদ

মোহাম্মদ হানিফ: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউপি চেয়ারম্যান মীরন অর রশিদের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিরীহ লোকজনকে মারধর, মাদক ব্যবসা সহ বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। 
এছাড়া সরকারি বরাদ্দকৃত এক প্রকল্প একাধিকবার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ। যেনতেন ভাবে প্রকল্পের কাজ করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
চেয়ারম্যান মীরনের নানা অপকর্ম ক্রমশ বেড়েই চলছে। তাঁর অবৈধ কর্মকাণ্ডের থাবায় ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে পুরো সমাজ ব্যবস্থায়।
গোপন সূত্রে যায়, চেয়ারম্যান মীরন সরকারি ডোবা দখল করে নির্মাণ করেছেন মনোয়ারা কমপ্লেক্স। আর ওই মার্কেটের ছাদেই প্রতিদিন সন্ধ্যার পরেই বসে মাদকের পাইকারী বাজার। আর এসব মাদক আনা নেওয়া করে থাকেন মীরনের অন্যতম সহযোগী মাসুদ আলম। এই যায়গা থেকেই চেয়ারম্যানের ইশারায় মাদক প্রবেশ করে বজরার বিভিন্ন অলিগলিতে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় উচ্চ পর্যায়ের একজন জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় বীরদর্পে এধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছেন মীরন। আর একারণে থানা প্রশাসন তার মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের সাহস করেনা। এমনকি অনেক সময় প্রশাসনের বিভিন্ন অসাধু সদস্যরা যোগ দেয় মীরনের মাদকের আসরে।
বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীরন অর রশিদের বিভিন্ন অপকর্ম যেন হার মানাচ্ছে বাংলাদেশের কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারকে। মীরনের এসকল অপকর্মের বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করেনা এলাকাবাসী। প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় মারধর সহ হেনস্তার শিকার হয়েছেন ইউনিয়নের একাধিক যুবক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বজরার বারাহি নগর গ্রামের বাসিন্দা ও বজরা ইসলামগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী  জানান, চেয়ারম্যানের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলায় একাধিকবার হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিনি।
চেয়ারম্যানের মীরনের রোষানলে পড়ে বেশ কয়েকজন যুবকই মারধোরের শিকার হয়েছেন। তবে এই প্রতিবেদকের সাথে ভয়ে কথা বলতে রাজি হননি কেউ।
 বিভিন্ন সরকারি জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে বজরা ইউনিয়নের মূর্তিমান আতঙ্ক মিরনের বিরুদ্ধে। বজরা ইউনিয়নে খাস জমি পেলেই তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন সময় দখল করে নেন সেসব জমি। বজরা বাজারের ফুটপাত, বজরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই পাশ, ইস্প্রিং পুল সংলগ্ন পুরো খালই তার দখলে। এছাড়া ইসলামগঞ্জ বাজার সংলগ্ন নোয়াখালী-ঢাকা হাইওয়ের দুই পাশ টিন দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। হাইওয়ের বেশ কিছু জমি দখল করে তুলেছেন দোকান-পাট। চড়া দামে বিক্রিও করেছেন সেসব দোকান।
তার ভয়ে পুরো ইউনিয়নবাসী আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে বজরা ইউনিয়নবাসী প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!