হোম » সারাদেশ » জনবহুল স্থানে মাস্ক পরার পরামর্শ ভারত সরকারের

জনবহুল স্থানে মাস্ক পরার পরামর্শ ভারত সরকারের

আওয়াজ আনলাইন: ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জনবহুল স্থানে মাস্ক পরার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।  চীনে হঠাৎ করে কোভিড সংক্রমণ বাড়ার ফলে ভারতে এই সতর্কতার কারণ বলে জানা যায়।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, চীনে কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার (২১ ডিসেম্বর) ভারতের কেন্দ্র সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় বসেন। এতে সবকিছু পর্যালোচনা শেষে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এখন থেকেই জনসমাগমস্থলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কোভিড পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে সপ্তাহে একবার করে বৈঠক করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্র সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মানদাভ্য। সভা শেষে টুইটারে দেওয়া পোস্টে মন্ত্রী লেখেন, কোভিড এখনো শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি সতর্ক থাকার ও এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা প্রস্তুত।

কোভিড মোকাবিলায় ভারত সরকারের গঠিত টাস্ক ফোর্সের প্রধান ভি কে পল অবশ্য আশ্বস্ত করে বলেছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রতিদিন পর্যাপ্তসংখ্যক পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে অবশ্যই সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। আকাশপথে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ-বিষয়ক নির্দেশনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এনডিটিভি জানায়, সভার আগে এ সম্পর্কিত এক সূত্র জানিয়েছিল, ভ্রমণের সূত্রে কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধি ঠেকাতে কী করা যায়, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হবে। সে ক্ষেত্রে দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা আসতে পারে। যদিও ভি কে পল এমন কোনো নির্দেশনা জারি হয়নি বলে জানিয়েছেন।

এদিকে সতর্কতা হিসেবে প্রতিদিন শনাক্ত হওয়া সব কোভিড নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ওপর জোরারোপ করেছে কমিটি। কমিটি জানিয়েছে, ভারতের কোন অঞ্চলে কোন ধরনের কোভিড স্ট্রেইনের সংক্রমণ হচ্ছে, তা জানা থাকাটা জরুরি। তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

কেন্দ্র সরকারের স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও চীনে কোভিড পরিস্থিতি আবার খারাপ হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের ভেতরে বিদ্যমান কোভিড ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তে জিনোম সিকুয়েন্সিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এতে যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

প্রসঙ্গত, চীনে হঠাৎ করেই কোভিড সংক্রমণ বেড়ে গেছে। চলমান শীতে এই সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে। এদিকে দীর্ঘ কঠোর কোভিডনীতির কারণে দেশটির অর্থনীতিও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের জোগান নিয়েও দেশটি ভুগছে।

এনডিটিভির তথ্যমতে, বুধবার সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৯টি নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ জন মারা গেছে। সব মিলিয়ে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মারা গেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৭ জন।

সূত্রঃ এনটিভি

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!