হোম » সারাদেশ » ঠাকুরগাঁওয়ে পেট্রোল ও অকটেন মিলছে না : জনসাধারণের ভোগান্তি

ঠাকুরগাঁওয়ে পেট্রোল ও অকটেন মিলছে না : জনসাধারণের ভোগান্তি

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে মটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের মালিকদের ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। এ অবস্থা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলছে। পূর্ব কোন ঘোষনা ছাড়াই ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ রাখায় জনসাধারণের ভোগান্তি বেড়েছে।
জানা যায়, গত এক সপ্তাহ থেকে জেলর প্রায় বেশিরভাগ ফিলিং ষ্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর কারন হিসেবে ষ্টেশন মালিকেরা জানান, ডিপো থেকে পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ রাখার কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় শুরুর কয়েকদিন শুধু পেট্রোল বন্ধ থাকায় অকটেন দিয়ে যানবাহন চালাচ্ছিলেন জনসাধারণ। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে অকটেনও মিলছে না। পেট্রোল পাম্পগুলোতে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে তা জানা নেই কারও।
মটরসাইকেল চালক মজিবর রহমান শেখ বলেন, পরিবারের সকলকে নিয়ে ঈদে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হই। প্রেট্রোল পাম্পে নিয়ে গেলে তারা পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া বন্ধ রেছেছে। এর কারন জানতে চাইলে তারা কোন উত্তর দিতে পারেনি।  পৌর শহরের মাইক্রো চালক সুজন ইসলাম বলেন, আমার গাড়ি পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে চলে। গাড়ি ভাড়াতে চালিয়ে সংসার চালাই। কিন্তু কয়েকদিন থেকে পেট্রোল ও অকটেন না পাওয়ায় গাড়ি বের করতে পারছি না।
সদর উপজেলার মথুরাপুর কাদের ফিলিং ষ্টেশনের ম্যানেজার রুহুল আমিন বলেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কি কারনে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে তা জানায়নি তারা।  ঠাকুরগাঁও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক জানান, জেলায় ফিলিং স্টেশনের সংখ্যা ৩৬টি। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ২৪টি, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ২টি, হরিপুর উপজেলায় ২ টি, রাণীশংকৈল উপজেলায় ৪ টি ও পীরগঞ্জ উপজেলায় ৪ টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। জেলায় দৈনিক পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯০ হাজার লিটার। এরমধ্যে পেট্রোল ২৩ হাজার লিটার, অকটেন সাড়ে ১৬ হাজার লিটার ও ডিজেলের চাহিদা ৫০ হাজার লিটার। এখন জেলায় প্রায় ১৪ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ কম হচ্ছে। ফলে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ‘জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট হয়েছে বিষয়টি জানা নেই। তেল সংকটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি করে থাকে তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি ।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!