
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় এজাদুল হক নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের পাশেই কাঁঠাল গাছের সঙ্গে বাধা ছিল দড়ি এবং কিছুটা দূরে পড়ে ছিল সিরিঞ্জ। ফলে লাশ ঘিরে বাসা বেঁধেছে রহস্য। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা এনিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বৃহস্পতিবার (২৮শে এপ্রিল) ভোরে ওই উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বালুয়াহাটা ধর্মতলা গ্রামের একটি ফলবাগান থেকে এজাদুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, বুধবার রাত ৯ টার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। ৪৮ বছর বয়সী এজাদুল উপজেলার খুপী দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আজিজার আকন্দ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের মৃতের অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ শামছুন্নাহারকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, মৃত এজাদুলের ছেলে রুহুল আমিনের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরেই তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। তার লাশ রুহুলের শ্বশুরবাড়ি বালুয়াহাটা গ্রামের ধর্মতলায় পাওয়া যায়। বালুয়াহাটা গ্রামের লুৎফর রহমান মৃতের ছেলে রুহুলের শ্বশুর। নিহতের ছেলে দাবি করছেন তার বাবাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ি না ফেরায় গত বুধবার দিবাগত রাত থেকেই এজাদুলকে তার পরিবারের লোকজন খুঁজাখুজি শুরু করেন। পরে ঐদিন রাত তিনটার দিকে বালুয়াহাটা গ্রামের ধর্মতলার একটি ফল বাগানে এজাদুলের সন্ধান পান তারা। তবে সেখানে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন তিনি। এমন অবস্থায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। শজিমেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃত এজাদুলের পুত্রবধূ শামছুন্নাহারকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শামছুন্নাহার আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাকে বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা থেকে থানায় আনা হয়।
স্বজনদের বরাত দিয়ে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত ৯ টার দিকে এজাদুল মুঠোফোনে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন উপজেলার জামিলবাড়ি বাজারে অবস্থান করছেন তিনি। বৃষ্টির কারণে সেখানে আশ্রয় নেন। এসময় ছেলের শ্বশুরবাড়িতে যাবে বলেও মুঠোফোন জানান এজাদুল। এরপর থেকেই তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তার লাশ পাওয়া গেছে।
ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য এজাদুলের লাশ শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতের পুত্রবধূকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, শামছুন্নাহারকে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা। সোনাতলায় তার দাদাবাড়িতে অবস্থান করছিলেন শামছুন্নাহার । তবে পালিয়ে নয়, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে তিনি সেখানে ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান