হোম » জাতীয় » সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ইন্তেকাল করেছেন

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ইন্তেকাল করেছেন

আওয়াজ অনলাইনঃ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ইন্তেকাল করেছেন। শনিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিলো ৯২ বছর।

সাবেক রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধ্যক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মরদেহ আজ নেয়া হবে তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার কেন্দুয়ায়। সেখানেই হবে তার প্রথম জানাজা। জানাজা শেষে আজই সাহাবুদ্দীন আহমদের মরদেহ ঢাকা নিয়ে আসা হবে। রাতে সিএমএইচের মর্গে রাখা হবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পরে সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গণে নেয়া হবে তার মরদেহ। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হবার পর, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন । তার নেতৃত্বে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ৫ম জাতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আবারো রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর করা সাহাবুদ্দীন আহমদের কর্মজীবনের সূচনা হয় ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব পালন করেন।সাহাবুদ্দীন আহমদ তার কর্মজীবনে প্রথমে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬০ সালের জুন মাসে তাকে বিচার বিভাগে বদলি করা হয়। তিনি ঢাকা ও বরিশালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হন। ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি তাকে বাংলাদেশ হাইকোর্টের বিচারক পদে উন্নীত করা হয়।১৯৮০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাহাবুদ্দীন আহমদকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ করা হয়। বিচারপতি হিসেবে বাংলাদেশ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর ওপর তার দেয়া রায় দেশের শাসনতান্ত্রিক বিকাশের ক্ষেত্রে এক অনন্য ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৮৩ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ।

তৎকালীন সরকার তার সেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ১৯৭৮ সালের আগস্ট থেকে ১৯৮২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি তাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর এরশাদবিরোধী গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ পদত্যাগ করেন এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হয়।

ওই দিনই রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করে উপরাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সরকার প্রধানের দায়িত্ব পান। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার নেতৃত্বে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সাহাবুদ্দীন আহমদের চাহিদা অনুসারে দেশের সংবিধানের এগারোতম সংশোধনীটি আনা হয়। এর ফলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পরও তিনি ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান এবং ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

সাহাবুদ্দীন আহমদ আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন ১৯৯৬ সালে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ওই বছর ক্ষমতায় এসে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে।

১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর নেন। ২০০১ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অবসরে যাওয়ার পর গুলশানের বাসভবনে অনেকটা নিভৃত জীবন যাপন করছিলেন সাহাবুদ্দীন আহমদ।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধ্যক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাকে ঢাকায় সম্মিলতি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিলো ৯২ বছর।

দীর্ঘদিন ধরেই সাহাবুদ্দীন আহমদ বার্ধ্যক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মরদেহ আজ নেয়া হবে তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার কেন্দুয়ায়। সেখানেই হবে তার প্রথম জানাজা।

জানাজা শেষে আজই সাহাবুদ্দীন আহমদের মরদেহ ঢাকা নিয়ে আসা হবে। রাতে সিএমএইচের মর্গে রাখা হবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পরে সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গণে নেয়া হবে তার মরদেহ। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হবার পর, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তার নেতৃত্বে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ৫ম জাতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আবারো রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণায় জন্মগ্রহণ করেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর করা সাহাবুদ্দীন আহমদের কর্মজীবনের সূচনা হয় ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব পালন করেন।

সাহাবুদ্দীন আহমদ তার কর্মজীবনে প্রথমে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬০ সালের জুন মাসে তাকে বিচার বিভাগে বদলি করা হয়। তিনি ঢাকা ও বরিশালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হন। ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি তাকে বাংলাদেশ হাইকোর্টের বিচারক পদে উন্নীত করা হয়।

১৯৮০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাহাবুদ্দীন আহমদকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ করা হয়। বিচারপতি হিসেবে বাংলাদেশ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর ওপর তার দেয়া রায় দেশের শাসনতান্ত্রিক বিকাশের ক্ষেত্রে এক অনন্য ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত।

১৯৮৩ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ।

তৎকালীন সরকার তার সেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ১৯৭৮ সালের আগস্ট থেকে ১৯৮২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি তাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর এরশাদবিরোধী গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ পদত্যাগ করেন এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হয়।

ওই দিনই রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করে উপরাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সরকার প্রধানের দায়িত্ব পান। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার নেতৃত্বে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সাহাবুদ্দীন আহমদের চাহিদা অনুসারে দেশের সংবিধানের এগারোতম সংশোধনীটি আনা হয়। এর ফলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পরও তিনি ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান এবং ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

সাহাবুদ্দীন আহমদ আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন ১৯৯৬ সালে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ওই বছর ক্ষমতায় এসে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে।

বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর নেন।

২০০১ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অবসরে যাওয়ার পর গুলশানের বাসভবনে অনেকটা নিভৃত জীবন যাপন করছিলেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধ্যক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাকে ঢাকায় সম্মিলতি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সংগৃহীত

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!