হোম » সারাদেশ »  করোনাকে পুঁজি করে প্রায় দুই বছর বন্ধ সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ গেটলক সার্ভিস

 করোনাকে পুঁজি করে প্রায় দুই বছর বন্ধ সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ গেটলক সার্ভিস

মারুফ বিল্লাহ রুবেল, শ্যামনগর: সাতক্ষীরা মুন্সিগজ্ঞ গেটলক সার্ভিস বন্ধ থাকাই এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাতক্ষীরা-দেবহাটা-কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সহ এই রুটে চলাচলকারী লাখো মানুষ। বাস মালিক সমিতির নেতারা ও সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিলেও এই রুটে এখনও চালু হয়নি গেটলক সার্ভিস।
জানা যায়, জেলা শহরের সাথে শ্যামনগর, কালীগঞ্জ, দেবহাটা উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়ক। ১৯৯৬ সালে শ্যামনগরের উপকূলীয় এলাকাসহ কালিগঞ্জ ও দেবহাটার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই রুটে মুন্সীগঞ্জ-খুলনা গেটলক সার্ভিস চালু করা হয়। সার্ভিসটি অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা নিয়ে একটানা ২০১৩ সাল পর্যন্ত চলে। কিন্তু লোকাল বাস মালিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মারাত্মক আকার ধারণ করায় সার্ভিসটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে মালিক সমিতি, প্রশাসন ও কয়েকজন সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে মুন্সীগঞ্জ-সাতক্ষীরা গেটলক সার্ভিস পুনরায় চালু হয়।
যা ২০১৫ সাল যেতে না যেতেই বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৯ সালে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় মালিক সমিতি, প্রশাসন ও কয়েকজন সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে মুন্সীগঞ্জ-সাতক্ষীরা গেটলক সার্ভিসটি পুনরায় চালু হয়। দুঃখের বিষয় কিছু দিন যেতে না যেতেই অদৃশ্য কারণে সার্ভিসটি আবারও বন্ধ হয়ে যায়। সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যটকসহ লাখ লাখ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। শ্যামনগরের মানুষকে প্রতিদিন দুইবার বাস পরিবর্তন করে জেলা শহরে আসতে হয়। এতে পথেই দিন কেটে যায় মানুষের।
সূত্র জানায়, যখন মুন্সিগঞ্জ-খুলনা গেটলক সার্ভিস চালু ছিলো তখন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আধা ঘন্টা পরপর এবং দুপুরের পর থেকে ১ ঘন্টা পর পর বাস চলাচল করতো। খুুলনা-মুন্সীগঞ্জ গেটলক সার্ভিসের সময় নির্ধারণ করা ছিল মাত্র চার ঘণ্টা। অবশ্য তার অনেক আগেই মানুষ তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যেত। সকালে যাত্রীরা খুলনায় যেয়ে দৈনন্দিন কাজ সেরে বিকালে শ্যামনগর-মুন্সীগঞ্জ ফিরে আসত। আবার খুলনার যাত্রীরা সকালে বেরিয়ে মুন্সীগঞ্জ শ্যামনগর ঘুরে দৈনন্দিন কাজ সেরে বিকালে ঘরে পৌঁছাতো। খুব অল্প সময়ে এ সার্ভিসটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলো। এটা বন্ধ হওয়ায় শুধু এলাকার মানুষের ভোগান্তি বাড়েনি- এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উপকূলীয় এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ব্যবসায়ীরা সরাসরি খুলনা থেকে তাদের পণ্য এ সার্ভিসে পরিবহন করতো।
এতে একদিকে তাদের যেমন সময় সাশ্রয় হতো অন্যদিকে পরিবহন খরচ কম হতো। শুধু তাই নয় গেটলক সার্ভিস না থাকায় পর্যটকদের সুন্দরবনে ভ্রমণে যাওয়ার আগ্রহ কমেছে। বর্তমান পরিবহন ব্যবস্থায় সাতক্ষীরা থেকে মুন্সিগঞ্জ যেতে দিনের একটা বড় সময় চলে যায়। দুই ঘণ্টার গেটলক সার্ভিসের পথে এখন সময় লাগে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। মুন্সীগঞ্জ থেকে কালিগঞ্জ পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট, কালীগঞ্জ থেকে সাতক্ষীরা আসতে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। আর দুই বাস পরিবর্তন করতে যাত্রীদের আরও একঘণ্টা বেশি সময় লেগে যায়।
বাস যাত্রী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মুন্সিগঞ্জ থেকে সাতক্ষীরায় যেতে আমাদের পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। বাসেই যদি এতো সময় চলে যায় তাহলে প্রয়োজনীয় কাজ মেটাবো কি করে। ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বলেন, গেটলক সার্ভিস যখন ছিলো তখন এ এলাকার মানুষের ভোগান্তি অনেক কম ছিলো। অল্প সময়ে কাজ মিটিয়ে বাড়ি ফিরতে পারতাম। কিন্তু এখন যে অবস্থা তাতে মুন্সিগঞ্জ থেকে কোন মানুষ ডাক্তার দেখাতে জেলা শহরের গেলে তাদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যেতে হয়। কারণ ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় কিন্তু রাস্তা শেষ হয় না।
কয়েকজন সরকারি-বেসরকারি চাকুরীজীবী জানান, আমাদের জেলা শহর থেকে শ্যামনগর, কালিগঞ্জে অফিস করতে যেতে হয়। কিন্তু এতো জটিলতা যে সময় মত অফিসে পৌঁছানো খুব কষ্টকর হয়ে যায়। বাস শ্রমিক সমিতির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এটা শ্রমিক সমিতির কোন বিষয় নয়। কালীগঞ্জ-সাতক্ষীরা বাস মালিক সমিতির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গেটলক সার্ভিস বন্ধ রয়েছে।
বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফসার আলী সরদার বলেন, করোনার কারণে গেটলক সার্ভিসটি বন্ধ ছিল। আমরা আবার সার্ভিসটি চালুর জন্য পরামর্শ করছি। আশা করি খুব দ্রুত সার্ভিসটি চালু হবে। সাতক্ষীরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ বলেন, জনসাধারণের স্বার্থে আমরা গেইটলক সার্ভিস চালু করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। তবে কালিগঞ্জ বাস মালিক সমিতির কিছু মানুষের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এটি বন্ধ রয়েছে। সকলের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত গেটলক সার্ভিস চালু করা হবে।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার বলেন, সকলের প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালে বাস মালিক কর্তৃপক্ষ গেটলক সার্ভিসটি চালু করেছিল। কিন্তু বর্তমানে বন্ধ থাকায় জনসাধারণের চলাচলে খুব ভোগান্তি হচ্ছে। জনস্বার্থে আবারো দ্রুত গেটলক সার্ভিসটি চালু করলে ভোগান্তি কমবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!