
অর্ণব আল আমিন, বাসাইল, টাঙ্গাইলঃ জনদুর্ভোগ লাঘবে বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া সড়কের উপর জনসাধারনের যাতায়াতে জনদুর্ভোগ লাঘবে অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মান করে দিয়েছে। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার অন্যতম জনগুরুত্বপুর্ণ সড়ক বাসাইল-নাটিয়াপাড়া সড়ক । এটি হাবলা ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের এক মাত্র সড়ক। এছাড়াও বাসাইলের মানুষের ঢাকা যাতায়াতের সহজ মাধ্যম এটি। ২০২০ সালের বন্যায় এই সড়কটির উপর বাসাইল দক্ষিণপাড়া ও আদাজানের মাঝামাঝি এলাকায় নির্মিত কালভার্টটি পানির সোতে ধসে পড়ে। ফলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শীকার হয় এলাকাবাসী। ওই দুর্ভোগ এড়াতে মাটি ফেলে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। এ বারের বন্যায় মাটির সেই বাধও ভেঙ্গে যায়। এতে বাসাইলের সাথে দুই ইউনিয়ন ও মির্জাপুরের একটি ইউনিয়নে মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জনদুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ইমারজেন্সি মেইন্টিনেন্সের আওতায় একটি কাঠের সেতু নির্মানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যন আলহাজ শাহাদত হোসেন খানকে এ প্রকল্পের সভাপতি করে সেতুটি নির্মানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। নানা প্রাকৃতিক প্রতিকুলতার মধ্যেও তিনি দ্রুত সেতুটি নির্মান করে হালকা যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেন। তবে পন্যবাহী ভারি যান চলাচলের বিরম্বনা রয়েই গেল।
জানা যায় চলতি বন্যার শুরুতেই গতবারের মাটির বাধটি পানির স্রোতে ভেঙ্গে যায়। ফলে মির্জাপুর উপজেলার একটি ও বাসাইলের দুইটিসহ বানভাসি তিনটি ইউনিয়নের মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বাসাইল উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়া দুটি উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম এলাকাটি পরিদর্শন করেন। পরে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে কাঠ দিয়ে সেতু তৈরীর উদ্যোগ নেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্জ শাহাদত হোসেন খানকে এ সেতু নির্মানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি কাঠ দিয়ে ইউক্যালিপটাস গাছের গুলি ও মেহগুনী গাছের তক্তা দিয়ে ৬০ ফিট লম্বা ১৫ ফিট উচ্চতা ও সাড়ে ৬ ফিট প্রসস্থ সেতু তৈরীর কাজ শেষ করেন।
এ সেতুর উপর দিয়ে সিএনজি ও বেটারি চালিত অটোরিক্সা, মটর সাইকেল, ভ্যানগাড়িসহ মানুষ চলাচলের পথ সুগম হয়েছে। এতে খুসি এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ। পন্যবাহী ভারি যান চলাচলের উপযোগী হয়নি। আদাজান গ্রামের কৃষক শমসের আলী জানায় বন্যায় সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের যাতায়াতের খুব কষ্ট হইছে। আনেক ঝুঁকি নিয়ে নৌকা বা কলাগাছের ভেলা দিয়ে পারাপার হতে হইতো। এ ভাঙ্গায় কাঠের ব্রীজটি নির্মান হওয়ায় ভোগান্তি দূর হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাঈদ, আলতাফ, সুমনসহ এলাকাবাসী বলেন, বন্যায় পাকা সড়কের কাঁচা বাধটি হঠাৎ ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের যাতায়াতের কষ্ট বেড়ে যায়। হাট বাজারে মালামাল আনা নেয়ায় চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে । কাঠের সেতুটি নির্মান করে দেওয়ায় হালকা যানবাহন সিএনজি, রিক্সা, ভ্যান, সাইকেল, মটর সাইকেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যসামগ্রী নিয়ে যাতায়াত করা যাবে। এছাড়াও শিশু ও বৃদ্ধ মানুষের পারাপারে দুর্ভোগ লাগব হলো।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন অর রশিদ বলেন জরুরি ভিত্তিতে কাঠের সেতুটি নির্মান করে যাতায়াতে ভোগান্তি থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করা হয়েছে। প্রকল্প সভাপতি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ শাহাদত হোসেন জানান ৬০ ফিট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ছয় ফিট প্রস্থ ও প্রায় ১৫ ফিট উচ্চতা র কাঠের সেতু নির্মান করা হয়েছে। ইউক্যালিপটাস গাছের গোলী ও মেহগুনী গাছের তক্তা দিয়ে ব্রীজটি নির্মান করা হয়েছে। এর রেলিংএ স্টীল ব্যবহার করা হয়েছে। এ সেতুটির উপর দিয়ে প্রাইভেট, সিএনজি, ভ্যান, রিক্সা ও মটরসাইকেল স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারবে।তবে পন্যবাহী ভারি যান চলচল করতে পারবে না। আমার প্রায় সাড়ে তিন থেকে চারলক্ষের মতো টাকা খরচ হয়েছে। এখনো কোন বিল পাইনি।
এ ব্যপারে বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম জানান এবছর বন্যায় সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার তিনটি ইউনিয়নের হাজারও মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগে পড়ে। নৌকা ছাড়া পারাপারের কোন উপায় ছিলো না। তাই জরুরী ভিত্তিতে একটি কাঠের সেতু নির্মানের মাধ্যমে যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব করা হয়েছে।। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে কাজের প্রকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কাজ শেষ হলেও এখনো কোন বিল পরিশোধ করা হয়নি। তিনি বলেন এ প্রকল্পে ব্যায় হবে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা। এখানে স্থায়ী একটি ব্রীজ নির্মানের প্রস্তবনা পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল জলিল জানান। ইমারজেন্সি মেইন্টেনেন্সের ভিত্তিতে জনদুর্ভোগ লাঘবে কাজটি করা হয়েছে। অস্থায়ীভাবে হালকা যান ও মানুষ চলচলের জন্য সেতুটি নির্মান করা হয়েছে।কাজটি পরিমাপ করে ও গুণগতমান দেখে এর ব্যায় ধরা হবে। পরে টেন্ডার প্রকৃয়ার মাধমে বিল পরিশোধ করা হবে। তিনি জানান এখানে একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মানের প্রস্তবনা দেওয়া আছে।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ