
মাহবুবুল হক সিদ্দিকিঃ আমার পিতা ছানাউল হক সিদ্দিকী, গত ২৭ জুলাই২০২১,মঙ্গলবার বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজিউন।)
আমার পিতার প্রথম পরিচয় তিনি একজন সংস্কৃতি কর্মী। জীবনে বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। মঞ্চকে খুবই ভালোবাসতেন। জীবনের বহু সময় মঞ্চে দিয়েছেন। তিনি প্রচলিত বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন। পিয়ানো বাজানোর দক্ষতা ছিলো অসাধারণ। সংস্কৃতি জগতের কিছুটা খারাপ অবস্থায় তিনি হঠাৎ ধর্মকর্মে মনযোগী হয়ে উঠলেন। তবে তিনি ধর্মের বাড়াবাড়ি পছন্দ করতেন না। নিজেই নিজের ধর্মকর্ম নীরবে নিভৃতেই চালিয়ে গেলেন।
রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত করতেন। বিগত বিশ পঁচিশ বছরে বাবা কখনো নামাজ কাযা করেননি। এক সময় ঢাকা ছেড়ে চলে গেলেন গ্রামের বাড়িতে। সেখানেও সকলের সাথে মিশতেন। ভালো কিছু উদ্যোগের সাথে ছিলেন। সবাইকে সাহায্য করতেন। একদম নিভৃতচারী হয়ে গেলেন। শহরে আসতে চাইতেন না।
আমি পিতার একজন পূত্র যে তিনি আমাদের সকল কাজকেই সমর্থন করতেন। কখনো ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতেন না। তিনি পত্রিকা, বই পড়তেন। নাটক আর সাহিত্যের ভক্ত ছিলেন। বই পেলে না পড়ে ছাড়তেন না। গান গাইতেন, শুনতেন। মান্নাদে,শ্যমল মিত্র,মেহেদী হাসানের ভক্ত ছিলেন।
বাবা আমার অসাধারণ বন্ধু ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে অন্তরে বিশ্বাস থাকলে কামিয়াবি হবেই। তিনি বলতেন মন হলো সকল শক্তির কেন্দ্র। মনকে জাগ্রত করে বিশ্বাস। যারা বিশ্বাস করে কর্ম করেছে তারাই সফল হয়েছে।
আমার দাদার একমাত্র পূত্র। অগাধ সম্পত্তি ছিলো দাদার। তার অনেকাংশে তিনি মঞ্চ আর নাটকের পেছনে ব্যয় করেছেন। শেষ বয়সে আর্থিক অনটন ছিলো। তাতে তিনি বিচলিত হতেন না। আমরা ভাই বোনেরা কেউ ভাবতেই পারিনি আমাদের পিতা এত তারাতাড়ি চলে যাবেন।
আমার পিতার বিদেহি আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

আরও পড়ুন
মালায়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী
৬ দিনের সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, রওনা হবেন রোববার
নিত্যপণ্যে কর কমানোর কথা বিরোধীদল বলছেনা, বিশেষ শ্রেণির স্বার্থই তাদের কাছে বড় – প্রধানমন্ত্রী