
আজিজুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ হলেও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গত সাড়ে চার(৪) মাসও উপাচার্য নিয়োগ পায়নি। দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস উপাচার্য ছাড়াই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। চলতি বছরে ১ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ৬ষ্ঠ উপাচার্যের (ভিসি) মেয়াদ। ২১ বছর বয়সী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য কে হবেন তা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা।
এরই মধ্যে উপাচার্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেড-১ পদমর্যাদা এবং বিভিন্ন শাখায় দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপকরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ২১ বছরের পথচলায় ৯৭ জন অধ্যাপক পেয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এদের মধ্যে গ্রেড-১ পদমর্যাদার অধ্যাপকগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাপ্তরিক শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন ‘প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম’ এবং ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদ’ থেকে পরবর্তী উপাচার্যের জন্য নিজেদের মধ্যে এক ডজনের বেশি একটি নামের তালিকা ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় জমা দিয়েছেন। এ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন, সাবেক-বর্তমান রেজিস্ট্রার, শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নামও রয়েছে। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, মন্ত্রীসহ বিভিন্ন জায়গা লবিং ও তদবির করছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন, অধ্যাপক ড. বলরাম রায়, অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক প্রমুখ। এদিকে একাধিক সূত্র জানা যায়, অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মাহফুজুল বারি ও অধ্যাপক ড. ইয়াছিন খন্দকার এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানের নামও শোনা যাচ্ছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য শিক্ষক রয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য না দিয়ে নিজ ক্যাম্পাস থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, বিগত কয়েকবছর দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে উপাচার্য সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন। প্রশাসন সবসময় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ দিয়ে বলত তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলে আমরাও সিদ্ধান্ত নেবো। কিন্তু উপাচার্যসহ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ভুলেই গেছেন হাবিপ্রবিও একটি স্বায়িত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ভর্তি পর থেকেই দেখছি আন্দোলন ছাড়া শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় হয়নি। হয়ত তারা ভুলেই গেছেন শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যই তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য চাই না।
এবিষয়ে সাবেক শিক্ষার্থী কাবিদ আহমেদ মানিক জানান, অবশ্যই ক্যাম্পাস থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেয়া উচিৎ। ক্যাম্পাসের শিক্ষক ক্যাম্পাসের আবেগকে যেভাবে মূল্যায়ন করবে অন্য কারো পক্ষে সেটা অসম্ভব। তবে যেই আসুক তাকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. শ্রীপতি সিকদার জানান, ২০ বছর বয়সী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সিনিয়র শিক্ষক ও যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার জন্য। কিন্তু যেখান থেকেই আসুক না কেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি যোগ্য ব্যক্তিকেই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেবেন।
তিনি আরও জানান, কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ হয় সেটা বিষয় নয়।তিনি কতটুকু শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে সেটাই বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড বিধান চন্দ্র হালদার জানান, আমিও চাই অতিদ্রুত উপাচার্য নিযুক্ত হোক।

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান