বোরহানউদ্দিনে বোরোর ফলনে খুশি চাষিরা ব্যস্ত এখন ধান কাটায়

জেএম.মমিন,ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন  উপজেলায় চলতি মৌসুমে  ইরি/বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবং পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন স্থানীয় কৃষকরা ৷  উচ্চ ফলনশীল বীজ নির্বাচন, সময় মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে কীটনাশক, সার, সেচ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকার কারনে ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগ এবং বিভিন্ন এলাকার ধান চাষিরা ৷ তবে করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে ন্যায্যমূল্য পাওনা নিয়ে শঙ্কিত কৃষকগন।  বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৩৪০  হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ৮১০ হেক্টর।  উপজেলার  ৪ হাজার ২ শত জন কৃষকের মাঝে এবার বিনামূল্যে  ৮ হাজার ৪ শত
কেজি জিংক সমৃদ্ধ  ব্রি ধান ৭৪ ও হাইব্রিড জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।কৃষি বিভাগ আরো জানায়,জিংক সমৃদ্ধ ধানের হেক্টরপ্রতি ফলন ৭.২ মেট্রিক্স টন।অন্যদিকে হাইব্রিড এর ফলন প্রায় ১০ মেট্রিক টন। সরকার কর্তৃক  নির্ধারিত প্রতি মণ শুকনা ধানের মূল্য ১০৮০ টাকা।আর প্রতি মন ধানের উৎপাদন খরচ ৬৪০ থেকে ৮০০ টাকা। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, অবারিত মাঠে সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহ। বাতাসে দুলছে ধানের হলুদ শীষ।দৃষ্টি সীমানা জুড়ে হলুদের ছোঁয়া দেহ- মনের প্রশান্তি জুড়ায়। এবং ইতিমধ্যেই কৃষকদের মধ্যে শুরু হয়েগেছে ধান কাটার উৎসব ৷
তাদের মধ্যে কুতুবা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের কৃষক অহিদ সর্দার, শাহজাদা কাজী  জানান, এবার মাঠে হাইব্রিড  ধানের ব্যাপক ফলন দেখা যায়। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে ।  সাচড়া ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর সাবধী বলেন,৩ একর জমিতে তিনি হাইব্রিড ধান করেন।ফলন  হেকটর প্রতি ১০ টন।পক্ষিয়া ইউনিয়নের রবি আলম,জহুর আহমেদ জানান,প্রতি শতাংশে তারা ৩২ কেজি ধান পেয়েছেন। গংগাপুর ইউনিয়নের আমির হোসেন,আবুল হোসেন,নুরুল ইসলাম বর্দার,দেউলা ইউনিয়ের মাহাবুব ঘুরানী, সাচড়া ইউনিয়ের শাহিন গুরিন্দা,কাচিয়া ইউনিয়নের আলমগীর বলেন, ধানের বাজার দর ভালো থাকার পাশাপাশি ধান কাটা শেষ হওয়া পর্যন্ত যদি এভাবে  খরা
থাকে এবং শ্রমিকের মজুরি সাধ্যের মধ্যে থাকে তাহলে আমাদের খরচ উঠে যাবে। আমরা লাভের মুখ দেখবো ৷ তারা আরো জানান, বিভিন্ন প্রজাতির ধানের প্রকারভেদে প্রতি মন ধান ৬৫০ থেকে ৭২০ টাকা পাইকারী দরে বিক্রি হচ্ছে ৷  উপজেলা কৃষি কর্মকতা  মোঃ ওমর ফারুক বলেন,  চলতি ইরি বোরো মৌসুমে মাঠে রোগ বালাই ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রব না থাকায় এবং আবাহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে বাম্পার ফলন  হয়েছে। পুরোদমে ফসল কর্তণ শুরু হয়েছে।উপজেলায় ৭ টি হারভেস্টার মেশিন আছে তাই ধান কর্তণে কৃষকের কোন সমস্যা হবে না।