২০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যুনতম মজুরি ঘোষণার দাবী

মে দিবসের সমাবেশে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) ব্যক্তিমালিকানা নির্বিশেষে ২০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যুনতম মজুরি ঘোষনার দাবী জানিয়েছে। মে দিবস উপলক্ষে অদ্য ১ মে শনিবার সকাল ১১টায় তোপখানা রোডস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্বাস্থ্য বিধি মেনে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে টিইউসি নেতৃবৃন্দ এই দাবী জানান। একইসাথে নেতৃবৃন্দ দেশের সকল শ্রমিক কর্মচারী মেহনতি জনগনকে তাদের স্বাস্থ্য, খাদ্য ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং জাতীয় ন্যুনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা আদায়ের সংগ্রাম

জোরদার করার আহবান জানান। টিইউসির সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন টিইউসির সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা, অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সায়েরা খাতুন ও মোঃ সেলিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মে’র বীর শহীদদের আতœদান ও লড়াই সংগ্রামের ১৩৫ বছর  এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর উদযাপন করছি। অথচ আজও আমাদের

দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনে প্রকৃত স্বাধীনতা আসেনি। তারা আজও ৮ ঘন্টা কাজ ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত। আজও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নেই। ন্যায্য মজুরী, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন এমনকি কর্মস্থলে নিরাপত্তার অধিকার নিয়ে লড়াই করতে গিয়ে জীবন দিতে হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের আত্বদানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলুন্ঠিত করে একদিকে শোষণ-নির্যাতন, লুটপাট এবং সস্তা শ্রমের উপর দাড়িয়ে এক

লুটেরা ধনিক শ্রেণি গড়ে উঠেছে অপরদিকে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা দুষ্কর হয়ে দাড়িয়েছে। সমাবেশে টিইউসি নেতৃবৃন্দ নিম্নোক্ত দাবীতে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করার আহবান জানান।

(১) জাতীয় ন্যুনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষনা করতে হবে।
(২) প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক নির্বিশেষে সকল শ্রমজীবী মানুষের জীবন-স্বাস্থ্য, চাকুরী-কর্মসংস্থান এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
(৩) বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বাঁশখালীর শ্রমিক হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুসারে ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসা-পূণর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
(৪) ঈদের আগে পাটকল ও গার্মেন্টসসহ প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল সেক্টরের শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতনভাতা ও একমাসের মূল মজুরির সমপরিমাণ বোনাস দিতে হবে।
(৫) আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ মোতাবেক অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করাসহ বাংলাদেশের সংবিধান ও আইএলও কনভেনশন অনুসারে শ্রমআইন ও শ্রমবিধিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করতে হবে।
(৬) রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল ও চিনিকল সহ বন্ধকৃত সকল কলকারখানা চালু করতে হবে।

সমাবেশ শেষে লাল পতাকার মিছিলসহ বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্কপের সমাবেশে যোগদান করে।