
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ড্রেজার ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে জুয়েল (২৬) নামের এক প্রবাস ফেরত যুবককে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন দেয়। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকার সাহেরা গার্ডেন এর পাশে প্রতিপক্ষ তাকে গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যা করে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। ঘটনার রাতে জুয়েলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্বজনরা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। নিহত জুয়েল একই এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছোট ছেলে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান করছে।
নিহতের পরিবার জানায়, জুয়েল দুই মাস আগে প্রবাস থেকে ছুটিতে দেশে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা কাঁচপুরের লিটন খান নামে এক ব্যক্তির সাথে ড্রেজারের ব্যবসা করছে। নিহতের বড় ভাই সোহেল বলেন, দুই মাস যাবৎ শাহজালাল, আলীম ও ইলিয়াছের সাথে ড্রেজারের ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ চলছিল। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে নানা হুমকিও প্রদান করে। তাছাড়া চলমান এই বিরোধ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসে মিমাংসাও করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা আমার উপর এবং আমার ছোট ভাইয়ের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। আশেপাশের লোকজনের সহযোগিতায় আমি বেঁচে গেলেও আমার ছোট ভাই সোহেলকে তারা পেটে গুলি করে এবং বা হাত কুপিয়ে কেটে ফেলে। এতে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। আমরা প্রশাসনের উর্ব্ধতন কর্তৃপক্ষের এর উপযুক্ত বিচার চাই।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। দুপুরে অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন জ¦ালিয়ে দেয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভায়। বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জানান, স্থানীয় হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে খোজখবর নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে ২জনকে আটক করা হয়েছে। তবে প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন
সাইকেল চালানো নিয়ে তুচ্ছ বিরোধ, ভৈরবে বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
বগুড়ায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার উন্নয়ন সেমিনার: সুষম উন্নয়নের আশাবাদ
বদলগাছী উপজেলার ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পথগুলো যেন মরণফাঁদ