হোম » প্রধান সংবাদ » এবারের রমজানে মসজিদে নতুন বিধিনিষেধ

এবারের রমজানে মসজিদে নতুন বিধিনিষেধ

আওয়াজ অনলাইনঃ এবারের রমজানে মসজিদে ইফতার ও সেহেরির আয়োজন করা যাবে না। সোমবার এই নির্দেশনা জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। করোনা মোকাবিলায় সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ১০টি শর্ত মানার অনুরোধ জানানো হয়েছে মসজিদগুলোকে।

এতে আরো বলা হয়, মসজিদের প্রবেশদ্বারে স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিজ বাসায় ওযু করে সুন্নত নামাজ পড়ে আসতে হবে। মসজিদে বিছানো যাবে না কার্পেট, সঙ্গে আনতে হবে নিজ নিজ জায়নামাজ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে উল্লেখিত নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

মসজিদে জামায়াতে নামাজ পড়তে যেসব শর্ত মানতে হবে: 

১. অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে, মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লীকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

২. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওযু করে, সুন্নাত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৩. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে, মুসল্লীগণের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে ।

৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

৫. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোন অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামায়াতে অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে।

৬. সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদের ওযুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না

৭. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত কল্পে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

৮. মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।

৯. করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে খতিব ও ইমামগণ দোয়া করবেন।
১০. সম্মানিত খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।

তারাবির নামাজে সর্বোচ্চ ১২ জন অংশ নিতে পারবেন বলে জারি করা হয় নির্দেশনা।

এর আগে এবছর মার্চের ২৯ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৮দফা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল রোববার লকডাউন প্রসঙ্গে আরো কিছু নির্দেশনা দেয়।

এছাড়া, কাতারে সামাজিত দূরত্ব নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে। এসব নির্দেশনা মানা না হলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!