হোম » প্রধান সংবাদ » হাবিপ্রবিতে নির্মাণজট; ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা 

হাবিপ্রবিতে নির্মাণজট; ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা 

আজিজুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ১০তল বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ৬ তল বিশিষ্ট আবাসিক হল, ৫ তল বিশিষ্ট মেডিকেল সেন্টার নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগান্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ হাজার শিক্ষার্থী।এতে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম ও চিকিৎসা সেবা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দশতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৭ই মে ।১৮ মাসের চুক্তিতে কাজ শুরু হলেও প্রায় ৩৪ মাসেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিকদার কন্সট্রাকশন। ভবন নির্মাণে ধীরগতির কারণে শ্রেণিকক্ষ সংকট, ল্যাবের অভাব, সেশনজটসহ নানা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে উন্নত চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হলে গত বছরের শুরু থেকেই এ হাসপাতাল থেকে সেবা নিতে পারত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ।
কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।বারবার মেয়াদ বাড়ানো এবং ব্যয়ের কিছু অপ্রাসঙ্গিক খাত তৈরি করায় এ প্রকল্পে ব্যয়ও বেড়েছে সমান হারে।
সম্প্রসারণ মেডিকেল সেন্টারের নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম মেয়াদের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১ই আগস্ট। ২০১৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বরে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল প্রকল্পটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নাজির কন্সট্রাকশন’কে ।কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক সমস্যা নিরসনে ৭২০ আসন বিশিষ্ট ৬ তল বিশিষ্ট একটি আবাসিক হল নির্মাণের কাজ শুরু করে ২০১৯ সালের ২৯শে জুন।প্রকল্পের ৫ মাস মেয়াদ থাকলেও ১৯ মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি এম/এস.এমবি এলএস-জেভি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
২১ কোটি ৭১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৮ শত পয়ষট্টি টাকা ব্যয়ে ৭২০ আসন বিশিষ্ট ৬ তলা ছাত্রী হলের নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ছিলো ৫ মাস ২ দিন।প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে।কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২০ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর’২৯ পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ২০২১ সালের জুনে তৃতীয়বারের মতো সময়বৃদ্ধি করা হয়েছে।মাসের পর মাস সময়সীমা বৃদ্ধির কারণে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক ছাত্রীরা।
এদিকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।কিন্তু কাজ শুরু হলেও আজও শেষ হয়নি মসজিদটির সংস্কারের কাজ। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন,শিক্ষক, শ্রেণী কক্ষ, ল্যাব সংকটের জন্য আমরা দীর্ঘ সেশনজটে রয়েছি।নির্ধারিত সময়ে ১০ তল একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হলে আমরা শ্রেণী এবং ল্যাব কক্ষের সুবিধা পেয়ে যেতাম। কিন্তু আমাদের মত ভবনেও নির্মাণজটে ভুগছে। এদিকে বছরের পর বছর একটি আবাসিক হল নির্মাণ করেই চলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।আর যেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে সেখানে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।
এবিষয়ে শিকদার কনস্ট্রাকশন থেকে আলমগীর হোসেন বলেন,আমাদের বেশ কয়েকটি বকেয়া বিল পড়ে ছিলো।তবে বিলগুলো পরিশোধ করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে মেডিকেল ও রাস্তার কাজ এবং ৮ মাসের মধ্যে ১০ তলা একাডেমিক ভবন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারবো।  এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান,আমাদের যত পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন ছিলো, সে অনুযায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট শাখা হতে তুলতে না পারায় বকেয়া বিল হয়েছিল।তবে আমরা অর্থ পরিশোধ করেছি এবং সার্বক্ষণিক তদারকি করে যাচ্ছি।সর্বশেষ সময়সীমা বৃদ্ধি পর্যন্ত নির্মাণাধীন সকল ভবনের নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!