পুরুষশূন্য সোনারগাঁয়ের নয়াগাঁও গ্রাম সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু

মো: কবির হোসেন,(সোনারগাঁ) নারায়ণগঞ্জ:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামে আধিপত্য বিস্তার একটি কোম্পানির বালু ভরাটকে কেন্দ্রকরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় আলী আহম্মেদ (৬৫) নামের আরো একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। রোববারদুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। গতকাল সোমবার ময়না তদন্ত শেষে পাশ্ববর্তী  পিরোজপুর গ্রামেরসামাজিক কবরস্থানে বিকেলে দাফন করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলার পর নয়াগাঁও গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। ওই গ্রামে নিরাপত্তার জন্য ১৬ সদস্যের একটি  পুলিশ দল মোতায়েন করা হয়েছে। মসজিদেও মুসল্লি শূন্য হয়েপড়েছে। ওই গ্রামে বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলী আহম্মেদ হত্যাকান্ডের ঘটনায় সোনারগাঁথানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের হাজী আলাউদ্দিনের সঙ্গে একই এলাকারব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান ওরফে সাদেক মোল্লার আধিপত্য বিস্তার একটি কোম্পানির বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দ্বন্ধ চলেআসছে। ঘটনায় শুক্রবার রাত টার দিকে আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে হামলায় ১০ আহত হয়। পরদিন শনিবার সকালে উভয়পক্ষের লোকজন মুখোমুখি সংঘর্ষে ২০জন আহত হয়। এদের মধ্যে আলাউদ্দিন পক্ষের সমর আলী সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়ার পর মারা যান। ঘটনায় নিহত সমর আলীর ভাই আব্দুল আলী বাদী হয়ে মো. জজ মিয়াকে প্রধান আসামীকরে ১৭জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে আহত সাদেকুর রহমানের স্ত্রী শেফালী বেগম বাদী হয়ে হাজীআলাউদ্দিনকে প্রধান আসামী করে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে সাদেকুর রহমানের পক্ষের আলী আহম্মেদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার দুপুরেমারা যান। গতকাল সোমবার বিকেলে আলী আহম্মেদের ময়না তদন্ত শেষে পাশ্ববর্তী গ্রাম পিরোজপুরের  সামাজিক কবরস্থানেদাফন করা হয়েছে।

আলী আহম্মদের পুত্রবধু কাকলী আক্তারের অভিযোগ, হাজী আলাউদ্দিনের সন্ত্রাসী বাহিনী শনিবার সকালে তাদের বাড়িতেপ্রবেশ করে এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করে তাদের। ঘটনায় তার শশুর আলী আহম্মেদ আহত হওয়ার পরপুনরায় হামলার ভয়ে চালিভাঙ্গা মেয়ের বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ার ঢাকা মেডিকেল কলেজহাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি রোববার দুপুরে মারা যান। আলাউদ্দিন বাহিনীর তান্ডবের ভয়ে লাশ নিজ গ্রামেরসামাজিক কবরস্থা দাফন না করে পাশ্ববর্তী পিরোজপুর কবরস্থানে দাফন করতে হয়েছে।

সরেজমিনে সোমবার বিকেলে নয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নারী শিশু ছাড়া ওই গ্রামে কোন পুরুষ নেই। সোনারগাঁ থানারএসআই ইয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের পুলিশ সদস্য দুটি গাড়ি নিয়ে ওই গ্রামে অবস্থান নিয়েছে। মসজিদে আযানেরপরও কোন মুসল্লি দেখা যায়নি। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন একজন মুসল্লি ছাড়া নামাজে কেউ অংশ নেননি। বাড়ি বাড়ি ঘরেতালা ঝুলিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে লোকজন।

মফিজউদ্দিন নামের ওই মুসল্লি জানান, হত্যাকান্ডের পর মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন ছাড়া কেউ আসে না।মসজিদটা এক সময়মুসল্লি ভর্তি ছিল। দুদিন ধরে অবস্থা চলছে।

   

নয়াগাঁও গ্রামের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সোনারগাঁ থানার এসআই ইয়াউর রহমান বলেন, গ্রামে কয়েকবাড়িতে নারী শিশুছাড়া কাউকে দেখা যায়নি। পুরুষ শূন্য পুরো গ্রাম। আতংকে অনেকেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। গ্রামের নিরাপত্তার জন্যরাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা গ্রহন করা হয়েছে। আলী আহম্মদ নামের আরোএকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছে শুনেছি। এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। নয়াগাঁও গ্রামে নিরাপত্তার জন্যপুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।