লালমনিরহাটে একটি বাঁশের টার ২০হাজার মানুষের ভরসা

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর উপজেলায় মহান স্বাধীনতার ৫০বছর কেটে গেলেও কেউ কথা রাখেনি! রত্নাই নদীর উপর একটি পাকা সেতুর অভাবে ২ পাড়ের ১৫-২০হাজার মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। একটি বাঁশের টারের উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রব্য সামগ্রী মাথায় করে প্রতিনিয়তই পারাপার  হতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের বাড়ীবনমালী গ্রামে রত্নাই নদীর উপর ১৫-২০হাজার মানুষ অস্থায়ী বাঁশের টার দিয়ে লালমনিরহাট জেলার  লালমনিরহাট সদর  উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকে।

এদিকে রত্নাই নদীর বাঁশের টারের দক্ষিণে বাড়ীবনমালী, চরবুদারু গ্রাম ও আলোকদিঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁশুরীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। অপরদিকে রত্নাই নদীর বাঁশের টারের উত্তরে চরখাটামারী, চর সোনাইকাজি, কোদালকাটি, বস্তিখাটামারী, ধনিরাম গ্রাম ও চরখাটামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরখাটামারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় অবস্থিত।

এ এলাকাগুলো কৃষি নির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে ধান, পাট, ভুট্টা, আলু, শাক সবজিসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদন হয়। এ এলাকা শস্য ভান্ডার খ্যাত। পাকা ব্রীজ না থাকায় এ এলাকায় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সর্বদা। বাঁশের টারের উপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে ১৫-২০হাজার মানুষ। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা পাকা সেতু  নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কেউ প্রতিশ্রুতি  রক্ষা  করেননি।

বাড়ীবনমালীর বিষ্ণু চন্দ্র বলেন, আমরা কুলাঘাটে যাওয়ার সময় অনেক কষ্ট করে যেতে হয়। গুনতে হয় বাড়তি টাকা। চরখাটামারী এলাকার সিএইচসিপি মিজানুর রহমান বলেন, এখানে সেতু হলে আমাদের কর্মস্থলে যেতে আধা ঘন্টা সময় বাচবে এবং অনেক সুবিধা হবে।

চরখাটামারীর একজন ছাত্র বলেন, আমাদের এই এলাকা থেকে বড়বাড়ি কলেজে যেতেও অনেক কষ্ট করতে হয়।স্থানীয় প্রতিনিধি আলীমুদ্দিন ভুইয়া বলেন, এখানে সেতু হলে দুই পাড়ের মানুষের অনেক উপকার হবে। উল্লেখ্য যে, ভোগান্তী লাঘবের জন্য এই বাড়ীবনমালী ও চরখাটামারী এলাকার মাঝখানে একটি সেতু নির্মানর দাবি এলাকাবাসীর।