বরগুনায় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার উপজেলার ৫ নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরী লামিয়া আক্তার রিতি স্থানীয় নূর আলমের মেয়ে এবং কদমতলা বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, রোববার সকালে নিজ ঘরে গ্যাস ট্যাবলেট খায় রিতি। এতে অসুস্থ হলে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তিতে অবস্থার সংঙ্কটাপন্ন হলে চিকিৎসক বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নেয়ারে পথেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম।
এদিকে স্থানীয়দের দাবী, বরগুনা পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে আফরোজের সাথে রিতির মায়ের পরকিয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে এলাকাবাসির মধ্যে কাণাঘুষা সৃষ্টি হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে আফরোজের সঙ্গে রিতির আয়োজন করেন মা আসমা। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় আদালতের মাধ্যমে নোটারি করে বিয়ে পড়ানো হয়। এ বিয়ের ১ বছর পর রিতির বাবা নুরে আলম দেশে ফিরে মেয়ের বিয়ে মেনে না নিয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পরে রিতির স্বামি আফরোজও পাথরঘাটা থানায় নিজ স্ত্রীকে ফেরত চেয়ে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও রিতির সঙ্গে বিয়ের নোটারিসহ অন্যান্য সব ডকুমেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ কারণে হয়তো আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলেও ধারনা স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে রিতির স্বামী আফরোজ মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার শ্বশুরবাড়ির সাথে মামলা চলার কারণে গত এক বছর ধরে শ্বশুর বাড়ির কারো সাথে যোগাযোগ হয় না, এমনকি স্ত্রী লামিয়া আক্তার রিতির সাথেও কোন প্রকার যোগাযোগ নাই। তবে আমার শ্বশুর-শ্বাশুরি আমার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে পারে।’
অপরদিকে রিতির বাবা নুরে আলম জানান, বছর খানেক আগে আফরোজ রিতিকে স্ত্রী দাবি করে আমাকে, আমার স্ত্রী আসমা ও রিতিকে আসামি করে পাথরঘাটা আদালতে একটি মামলা দায়ের করে হয়রানি করে আসছে। মামলাটি এখনও চলমান। হলফনামায় বিয়ে দেখিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শনিবার ভাইরাল হয়। রিতি এগুলো দেখে অপমানে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করে।