বগুড়ার গাবতলীতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে অপহৃত শিশুকে হত্যা

রায়হানুল ইসলাম (বগুড়া) ঃ বগুড়ার গাবতলীতে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে অবশেষে ৩৮দিন পর অপহৃত ৬বছরের এক শিশুকে হত্যা করলো অপহরণকারীরা। হত্যার পর অপহরণকারীরা নিজেরাই ফোন করে মরদেহের সন্ধান দেয় পরিবারকে। অপহরণকারীদের ফোনের সূত্র ধরে ২১জানুয়ারী রাতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে তার পরিবার। অপহৃত শিশু হানজালাল (৬) গাবতলীর রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী পিন্টু প্রামানিকের ছেলে।

জানা গেছে, গত ১৩ডিসেম্বর বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে শিশু হানজেলাল অপহৃত হয়। ঘটনার রাতেই এ বিষয়ে নিয়ে গাবতলী থানায় জিডি করা হয়। ছেলে অপহরণের খবর পেয়ে দু’দিন পর বাবা পিন্টু প্রমানিক মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেন। এরপর স্থানীয় করতোয়া পত্রিকাতেও ছেলের সন্ধান চেয়ে নিখোঁজ বিজ্ঞাপন দেন ওই শিশুর মা তাছলিমা বেগম। শিশুটির বাবা জানান, অপহরণকারীরা তাছলিমা বেগমের মোবাইলে ফোন করে প্রথমে ৫ লাখ ও পরে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল। টাকা না দিলে ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যে নম্বর থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল সেই একই নম্বর থেকে শিশুটির মাকে ফোন করে টাকা না পাওয়ায় তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সেই সাথে তাদের বাড়ির পাশের নিশুপাড়া তিনমাথার মোড়ে পুকুরে মরদেহ আছে বলেও জানায় অপহরণকারীরা। পরে পুকুর থেকে পলিথিনে মোড়ানো এবং ইট বেঁধে পানিতে ডুবে রাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইয়া, সহকারী পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) সাবিনা ইয়াসমীন, মডেল থানার ওসি মোঃ নুরুজ্জামান, তদন্ত ওসি আনোয়ার হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স।

এ ব্যাপারে মডেল থানার ওসি মোঃ নুরুজ্জামান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অতি দ্রুত অপহরণকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। থানার ওসি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, হানজালাল মায়ের বাদীত্বে করা সাধারণ ডায়েরীর তদন্তের ভার দেয়া হয়েছিলো এস.আই আব্দুল হাইকে।