ঈদগাঁওতে বাপার পাঠচক্র অনুষ্ঠা

মোঃ রফিকউদ্দিন লিটন: ঈদগাঁওতে বাপার পাঠচক্র অনুষ্ঠানঃ মাতারবাড়ি কয়লা-ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ফলে স্থানীয় মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে|

কক্সবাজারের কয়লা- ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হাজার হাজার টন বিষাক্ত পারদ, নাইট্রোজেন ডাই- অক্সাইড, সালফার ডাই- অক্সাইড, ছাই ও বস্তুকণা উৎপাদন করবে। যা দূষণ সৃষ্টির মাধ্যমে উক্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধন করবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করা পর্যটন এলাকা হিসেবে কক্সবাজারের টিকে থাকার সক্ষমতাকে নষ্ট করবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন- বাপা- কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখা কর্তৃক ঈদগাঁওতে আয়োজিত শিক্ষা ও পাঠচক্র অনুষ্ঠানে রিসোর্স পারসনদের বক্তব্যে এ তথ্য উঠে এসেছে। রিসোর্সপারসনরা আরো বলেন, কক্সবাজার ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এর অনন্য পর্যটন সম্ভাবনা, মৎস্য শিকার, চিংড়ি এবং লবণ উৎপাদনের উপর। যা স্থানীয় অর্থনীতির মূল নিয়ামক। এ মূল্যবান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কর্মরত আছে ২,৪৭,০০০ মানুষ। যাদের উপার্জনের উপায় নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে আছে পরিবারের ১২৩৫ মিলিয়ন মানুষ। প্রস্তাবিত ১৭ টি কয়লা- ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর এবং সম্পর্কিত শিল্প কারখানা স্থাপিত হলে হাজারো মানুষের জীবিকা নির্বাহের এ উৎস সমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সাথে এসব প্রকল্প নির্মাণের ফলে কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রিক অর্থনীতি বিপদে পড়বে।

বৃহত্তর ঈদগাঁও পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে পাঠচক্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত ব্রিফ করেন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিম।
এতে রিসোর্সপারসন ছিলেন চুনতি ইসলামিয়া মহিলা ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যাপক ও বাপার সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মমতাজ উদদীন আহমদ মহসিন এবং লোহাগাড়ার আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক ও বাপার শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শাহাব উদ্দিন।
পাঠচক্রের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বাপার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাসান তারেক, নাইক্ষ্যংদিয়া উম্মেহানি (রাঃ) বালিকা দাখিল মাদরাসার সুপার ও বাপার ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোকতার আহমদ, বাপার সহ- সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নুরুল হুদা, সহ- মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক শেফাইল উদ্দিন, সহ- জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার জানে আলম জুম্মান, জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন পিন্টু ও কার্যকরী সদস্য তানভিরুল ইসলাম আইয়ুব।
অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের দপ্তর সম্পাদক এম, নাসির উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শফি আলম, ব্যবসায়ী জাফর আলম, সার্চ মানবাধিকার সোসাইটি কক্সবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক রাশেদুল আমির চৌধুরী প্রমুখ।
আলোচনায় অংশগ্রহনকারীরা বলেন, প্লাবন- প্রবণ এলাকায় নির্মিতব্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটিয়ে গ্রীড কে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যুৎ নিরাপত্তায় ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
তাদের মতে, জাপান সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ি কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং নির্মাণ কাজের ফলে বিগত পাঁচ বছরে স্থানীয় মানুষ, অর্থনীতি এবং পরিবেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্গন, পরিবেশ বর্ণবাদ, বৈষম্য, বাস্তুচ্যুতি, জোরপূর্বক অভিবাসন এবং পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেছে
অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য গৃহীত দূষণ প্রশমন ও নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ গুলো সফল হয়নি এবং চলমান ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বহুল আলোচিত।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ কর্তৃক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন প্রতিবেদন- কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা- ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গুচ্ছ স্থাপনঃ পরিবেশগত ও আর্থ-সামাজিক প্রভাব নিরূপণ শীর্ষক গবেষণা গ্রন্থের উপর এ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে রিসোর্সপারসনরা অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে সংগঠনের পরিচিতি ও অভিষেক অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা হয়।

2