গ্রাম হবে শহর তার দৃষ্টান্ত উল্লাপাড়ার কোনাগাঁতী গয়হাট্টা ও খোশালপুর

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ গ্রামের নাম কোনাগাঁতী গয়হাট্টা ও খোশালপুর। প্রধান মন্ত্রীর অঙ্গীকার গ্রাম হবে শহর তার দৃষ্টান্ত এক সময়ের অবহেলিত এই গ্রাম দুটিকে গড়া হয়েছে শহরের আদলে। নান্দনিক এই গ্রাম গুলো এখন দূর থেকে মানুষকে হাতছানি দেয়। সুন্দর সুন্দর পাকা রাস্তা প্রবেশ করেছে উভয় গ্রামে। রাস্তার পাশে বসানো হয়েছে সোলার পথ লাইট। দুপাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো হয়েছে নানা ধরণের গাছ। উভয় গ্রামের প্রবেশ মুখে স্থাপন করা হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন। ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশুদ্ধ পানির। গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দুটি অরাজনৈতিক বিনোদন ক্লাব। গ্রামবাসীর বসার জন্য রাস্তার পাশে নির্মান করা হয়েছে পাকা বেঞ্চ। মানুষের সুবিধার জন্য বসানো হয়েছে নতুন বাজার। সব মিলিয়ে এ গ্রাম দুটি যেন একেবারেই অন্যরকম জনপদ।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের কোনাগাঁতী গয়হাট্টা ও খোশালপুর গ্রাম দুটি একেবারে লাগোয়া। আয়তন ৩ বর্গকিলোমিটার। লোক সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার। পাঁচ বছর আগেও এই দুটি গ্রামে বা এর পাশে কোন পাকা রাস্তা ছিল না। বর্ষার দিনে এক হাঁটু কাঁদা মারিয়ে গ্রামে ঢুকতে হতো। লোকজনকে রাতে চলতে হতো অন্ধকারে। অভাব ছিল বিশুদ্ধ পানির। সামান্য জিনিসপত্র কিনতেও লোকজনকে ছুটতে হতো দূরের বাজারে। গ্রাম দুটোর ভিতরের সকল রাস্তা অলিগলি সবই এখন পাকা করা হয়েছে। এখন কোন সমস্যা নেই গ্রামের বাসিন্দাদের। শতভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা এখন শহরের মানুষের মতই পাচ্ছেন নানা সুবিধা। অল্প সময়েই পাল্টে গেছে গ্রামের চেহারা মানুষের জীবন চিত্র।

শুক্রবার সরেজমিনে কোনাগাঁতী গয়হাট্টা ও খোশালপুর গ্রামে গিয়ে চোখে পড়ে পরিচ্ছন্ন নান্দনিক এই গ্রাম দুটির দৃশ্যমান উন্নয়ন ও আধুনিকতার ছাপ। কথা হয় গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে। এখানকার বাসিন্দা কায়েম উদ্দিন ও সাহেব আলী সরকার জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে গ্রাম দুটি ছিল ইউনিয়নের মধ্যে খুবই অবহেলিত। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও খাবার পানির। পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আল-আমিন সরকার নির্বাচিত হবার পর তার উদ্যোগে গ্রাম দুটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। পাকা করা হয় গ্রামের প্রবেশ পথ। সংযোগ দেওয়া হয় প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ। বসানো হয় মানুষের হাত ধোয়ার বেসিন ও বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনের প্লান্ট। গঠন করা হয় মানুষের বিনোদনের জন্য ‘পাঞ্জেরীথ ও ‘স্বপ্নচূড়াথ নামের দুটি স্বেচ্ছাসেবী অরাজনৈতিক ক্লাব।

এখানে সবার অংশগ্রহণে গড়া হয় আপদকালীন তহবিল। বিপদে-আপদে অসুখে বা কারো বিয়ের সময় এই ক্লাবের তহবিল থেকে অর্থ দেওয়া হয়। রাস্তার পাশে দেওয়া হয়েছে পথ লাইট। গ্রাম দুটির সঙ্গে উপজেলা সদর ও জাতীয় মহা সড়কের সংযোগ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এখন মানুষ দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করেন। গ্রামে চেয়ারম্যান বাজার নামে প্রতিষ্ঠিত বাজারের কারণে মানুষকে তাদের প্রয়োজনে দূরে কোথাও যেতে হয় না। এখানকার শিক্ষার্থীরা পাকা রাস্তার সুবাদে সহজেই পার্শ^বর্তী স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে পারছে। আধুনিক এসব সুবিধায় গ্রাম দুটির মানুষের জীবন ধারা এখন পাল্টে গেছে। পার্শ^বর্তী এলাকার লোকজনকের ুএখন গ্রাম দুটি যেন হাতছানি দেয়।

এব্যাপারে পূর্ণিমাগাঁতী ইউ.পি চেয়ারম্যান আল-আমিন সরকার জানান, তিনি নির্বাচিত হবার পর তার ইউনিয়নের গ্রাম গুলোর চেহারা পাল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে ইউনিয়নের একসময়ের সবচেয়ে অবহেলিত গ্রাম হিসেবে পরিচিত কোনাগাঁতী গয়হাট্টা ও খোশালপুর গ্রাম দুটিকে তিনি বেছে নেন মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য। এসব গ্রামের নানামুখী উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য প্রস্তুত করেন বিভিন্ন প্রকল্প। পরে উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের আন্তরিক সহযোগিতায় কোনাগাঁতী ও খোশালপুর গ্রাম দুটিকে শহরের আদলে গোড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এজন্য এখন পর্যন্ত তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। তিনি তাকে সহযোগিতার জন্য তানভীর ইমামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে জানান, আগামীতে তার ইউনিয়নের অপর গ্রাম গুলোর চেহারাও পাল্টে দেবার জন্য তিনি ইতোমধ্যেই বেশ কিছু কর্মসূচি প্রনয়ন করেছেন। এব্যাপারে তিনি ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।