অভিনেতা আব্দুল কাদের আর নেই

আওয়াজ অনলাইন : রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। আজ শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শোবিজ অঙ্গনে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তার মরদেহ হাসপাতাল থেকে বাসায় নেয়া হবে। দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুল কাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন অনেকদিন ধরে। ক্যান্সার জটিল আকারে ছাড়িয়ে পড়েছিল সারা শরীরে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে গেল ৮ ডিসেম্বর ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর শহরের সিএমসি হাসপাতালে নেয়া হয়।

তবে তাঁর রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় কেমোথেরাপি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন ভারতের চিকিৎসকরা। পরে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে রাজধানীরএভারকেয়ার হাসপালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। অবশেষে সব চিকিৎসার ঊর্ধ্বে চলে গেলেন তিনি।

নিভে গেল দারুণ উচ্ছ্বাসে ভরা এক প্রাণ। আব্দুল কাদের হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। এ ছাড়া তিনি হুমায়ূন আহমেদের ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকে দুলাভাই চরিত্রেও দারুণ প্রশংসিত হন।

১৯৫১ সালে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল কাদের। তার পিতার নাম আবদুল জলিল, মাতা আনোয়ারা খাতুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন আবদুল কাদের। সিঙ্গাইর কলেজ ও লৌহজং কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষকতাও করেছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সালে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘বাটা’-তে যোগ দেন আবদুল কাদের। ৩৫ বছর এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই নাটকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আবদুল কাদের। ঢাবি মহসিন হল ছাত্র সংসদের নাট্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ডাকসু নাট্যচক্রের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যও ছিলেন কাদের। ১৯৭২ সালে টেলিভিশন নাটকে অভিষেক হয় আবদুল কাদেরের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অমল চরিত্রে প্রথমবার অভিনয় করেন তিনি।

আবদুল কাদের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির নিয়মিত শিল্পী ছিলেন। ছোটপর্দা, বিজ্ঞাপন এবং বড়পর্দা- তিন মাধ্যমেই সমান জনপ্রিয় তিনি। টেলিভিশনে দুই হাজারের বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন কাদের। মঞ্চে ৩০টি প্রযোজনার এক হাজারের বেশি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় এ অভিনেতা। এছাড়া সিনেমা এবং বেশকিছু বিজ্ঞাপনেও দেখা গেছে তাকে।

তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘মাটির কোলে’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘শীর্ষবিন্দু’, ‘সবুজ সাথী’, ‘তিন টেক্কা’, ‘যুবরাজ’, ‘আগুন লাগা সন্ধ্যা’, ‘প্যাকেজ সংবাদ’, ‘সবুজ ছায়া’, ‘কুসুম কুসুম ভালোবাসা’, ‘নীতু তোমাকে ভালোবাসি’, ‘আমাদের ছোট নদী’, ‘দুলাভাই’, ‘অজ্ঞান পার্টি’, ‘মোবারকের ঈদ’, ‘বহুরূপী’, ‘এই মেকআপ’, ‘ঢুলি বাড়ি’, ‘সাত গোয়েন্দা’, ‘এক জনমে’, ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’, ‘খান বাহাদুরের তিন ছেলে’।/এইচ.