
ইকবাল হোসেন জীবন,(মিরসরাই) চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: যেখানে সিনেমা হল তৈরির কাজ শুরু হয়েছিলো সেখানে আজ ইসলামী শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে কোরআন মহল। ১৯৮২ সালে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ওয়ার্লেস নামক এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এক একর জমির উপর সিনেমা হলের নির্মান কাজ শুরু হয়। সে সময় অলি আউলিয়ার পুর্নভূমি সিনেমা হলের বিরুদ্ধে উপজেলার মিরসরাই লতিফিয়া কামিল মাদরাসা ও মিঠাছড়া ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসা শতশত ছাত্র-শিক্ষক ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
সিনেমা হলের মালিক ব্যর্থ হয়ে জমি বিক্রি করে দেন। স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী সমাজবেক জমিটি ক্রয় করে কিছু অংশ মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মানের জন্য দান করেন। পরবর্তীতে সেখানে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মসজিদ কমপেক্স ও কোরআনে হাফেজ তৈরির প্রতিষ্ঠান “দারুল উলুম মাদরাসা”। মাত্র ১ জন ছাত্র দিয়ে প্রতিষ্ঠিানের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে মাদরাসার ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৩ শতাধকি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শতাধকি হাফেজ এ মাদ্রাসা থেকে পবিত্র কুরআন শরীফ হেফয করে কুরআনানের আলোয় নিজের জীবনকে রাঙ্গিয়ে তুলেছেন।
জানা গেছে, ২০১০ সালরে ১ জানুয়ারী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন উপজলোর মিরসরাই সদর ইউনয়িনের ওয়ার্লেস নামক এলাকায় দারুল উলুম মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে মাত্র ১ জন ছাত্র দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হয়। বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক একে এস এম মোস্তফা ২৪ শতক জমি বায়তুছ সোবহান মসজিদ কমপেক্স প্রতষ্ঠিার জন্য দান করেন। পরবর্তীতে আর একজন বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও দানবীর নাসির উদ্দিন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব এর মাধ্যমে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগীতায় মসজিদ কমপ্লেক্সের নির্মান কাজ শুরু করেন।
সাথে সাথে প্রতিটি গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে পাঠদানের কাজ শুরু করেন। মাদ্রাসার পরিচালক যথেষ্ট পরিশ্রম ও মেহনতের মাধ্যমে উক্ত কমপ্লেক্সের এর কাজ আজ অবধি যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছেন। দিন দিন পড়ালেখার মানন্নোয়নের ফলে মাদরাসার সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মিরসরাই উপজলোর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশ্ববর্তী উপজলোগুলো থেকে ছাত্র ভর্তি করানোর জন্য সন্তানদের নিয়ে আসেন অভিভাবকরা।
মাদরাসায় বর্তমানে ৩তলা একটি মসজিদ কমপ্লেক্স ও ২টি টিন সেটের পাঠদানের ঘর রয়েছে। সরকারী ভাবে কোন বরাদ্ধ না থাকায় স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে মাদরাসাটি। এখানে ৩ শতাধকি শিক্ষার্থীর পড়ালেখা, থাকা-খাওয়া ও রান্নার কাজ হচ্ছে প্রতিদিন। বর্তমানে শ্রেণী কক্ষ ও আবাসন সংকটের কারণে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া সম্ভব হচ্ছ না। মাদরাসার জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মান, নতুন করে জমি ক্রয়, নতুন ভবন নির্মান, আসবাবপত্র সংকট দেখা দিয়েছে চরম আকারে।
বাংলাদেশ কাওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধিনে পরিচালিত মাদরাসাটিতে বর্তমানে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাশ রয়েছে। মাদরাসায় কিতাব বিভাগ, হিফযুল কুরআন বিভাগ, নাজেরা বিভাগ ও নুরানী বিভাগে পাঠদান চালু রয়েছে। এছাড়া মাদরাসার এতিম ফান্ড থেকে ৮২ জন এতিম শিক্ষার্থীর থাকা-খাওয়া ও পড়ালখোর খরচ বহন করা হয়। দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মুফতী ও মুহাদ্দিস মাওলানা জসিম উদ্দিন সাহেবের তত্ত¡াবাবধানে মাদরাসা পরিচালনার জন্য মিরসরাই এর বিশিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামদের সমন্বয়ে একটি সূরা কমিটি রয়েছে। এছাড়া মাননীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাহেবকে আহবায়ক করে উপদেষ্ঠা কমিটি ও আলহাজ্ব আজহারুল হক চৌধুরী নওশা মিয়াকে সভাপতি করে একটি উন্নয়ন কমিটি রয়েছে।
মাদ্রাসার লেখা পড়ার মান ও সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান এর অভিভাবক মাওলানা মাহবুবুল হক সাহেব জানান, দারুল উলুম মাদরাসায় পড়ালখোর মান অন্যান্য মাদরাসা থেকে ভিন্ন। এখানে শিক্ষকরা অভিভাবকের মতো আন্তরিকিতার সহিত পড়ালখো করান। মাদরাসার মনোরম পরিবেশে শিক্ষার্থীরা আনন্দ উপভোগের মাধ্যমে লেখাপড়া করে।
নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমানরে পিতা নুরুল আবছার বলেন, অত্র মাদরাসায় দক্ষ শিক্ষকগণ পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার ব্যাপারেও বেশ মনোযোগী। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবকসুলভ আচরণ করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা দ্রæত সময়ে পড়ালেখা আয়ত্ব করতে সক্ষম হয়। অপর দ্ইুজন শিক্ষার্থী আতাউল্লাহ ও শেফায়েতুল্লাহ’র পিতা এমদাদ উল্লাহ, মাদ্রাসার অভ্যন্তরীন পরিবেশ ও শিক্ষকদের পাঠদান পদ্বতিতে সন্তোষ প্রকাাশ করেন।
মাদরাসার পরিচালক ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব বলেন, মাদরাসায় ৪টি বিভাগে ৩ শতাধিক আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। বিগত ৯ বছরে শতাধিক হাফেজ কুরআন শরীফ হেফয করে বের হয়েছেন। এছাড়া চলতি বছর ৩০ জন হাফেজ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে খতম তারাবীহ নামাজ পড়িয়েছেন।
আগামী বছর থেকে মাদরাসায় ছাত্রীদের জন্য নতুন বিভাগ চালু করা হবে। যেখানে মহিলা শিক্ষক দ্বারা মহিলা হাফেজ তৈরী হবে। এছাড়া অন্ধ ও বাকপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য হিফজ বিভাগ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষ সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি মাদরাসার ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকলের দোয়া কামনা করেন।
মাদরাসার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আজহারুল হক চৌধুরী নওশা মিয়া বলেন, কুরাআন-হাদীস তথা ইসলামী শিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রে দারুল উলুম মাদরাসা ব্যাপক ভূমকিা রাখছে। স্থানীয় বিত্তশালীদের সহায়তায় মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দরিদ্র-এতিম শিক্ষিার্থীদের পড়ালেখার ব্যয় বহন করা হয়। বর্তমানে জমি ও আবাসন সংকটের কারণে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই তিনি সমাজের বিত্তশালী ও সরকাররে সহায়তা কামনা করনে।

আরও পড়ুন
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে ছাত্রদলের সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে র্যাগিং ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাবি চুরির অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া