
খুলনা প্রতিনিধি: সরকারি পাটগুলো বন্ধের পর এবার শত বছরের ঐতিহ্য কাঁচাপাট রপ্তানী বাণিজ্যের উপর কালোছায়া পড়েছে। ভুল তথ্যের মাধ্যমে দেশে পাটের সংকট দেখিয়ে কাঁচাপাট রপ্তানীর উপর প্রতি মন পাটে ৮০০টাকার উপরে রপ্তানী শুল্ক আরোপের অপচেষ্টা চলছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ)।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) সভাপতি সৈয়দ আলী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে পাট অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী এবছর দেশে ৯২ দশমিক ৩৮ লাখ বেল পাট উৎপাদিত হতে পারে বলে প্রথমে প্রকাশ করা হয়।
পরবর্তীতে বন্যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮৪ দশমিক ১৪ লাখ বেল। দেশের অভ্যন্তরীন কাঁচা পাটের চাহিদা প্রায় ৫৫ লাখ বেল (সরকারি জুট মিলগুলোর চাহিদা প্রায় ১৩ লাখ বেল এবং বেসরকারি জুট ও স্পিনিং মিলসগুলোর চাহিদা প্রায় ৪২ লাখ বেল)।
কিন্তু সরকারি জুট মিলগুলো বন্ধের কারণে তাদের প্রায় ১৩ লাখ বেল পাটের চাহিদা থাকছে না। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ কাঁচা পাটের চাহিদা এখন সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ বেল। বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি জুটমিলগুলো তাদের মজুদ করা বিপুল পরিমাণ পুরাতন কাঁচাপাট তাদের নিজস্ব সরবরাহকারীদের পাওনা টাকার পরিবর্তে ফেরত দেওয়ায় সেই পাটও বাজারে চলে আসবে। এরফলে এবছর প্রায় ৪০ লাখ বেল কাঁচাপাট উদ্বৃত্ত থেকে যাবে। উদ্বৃত্ত পাট থেকে আমরা প্রতি বছর মাত্র ৮ থেকে ৯ লাখ বেল কাঁচাপাট বিদেশে রপ্তারি করে থাকি।
১৯৮৪ সাল হতে ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করার কারণে পাটের অভাবে বিদেশের অনেক জুট মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের বৈদেশিক বাজার ২৮ থেকে ৩০ লাখ বেল হতে ৮ থেকে ৯ লাখ বেলে সংকুচিত হয়েছে। ইচ্ছা করলেও বৈদেশিক ক্রেতার অভাবে আমরা এখন অতিরিক্ত পাট রপ্তানি করতে পারবো না। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পাটের উৎপাদনও এখন অনেক বাড়েছে। তাই উদ্বৃত্ত পাট ব্যবহারের জায়গা বের করতে না পারলে অধিক পাট উৎপাদনের সুফল আমরা পাবো না। তাই কাঁচাপাট রপ্তানি সচল রাখার মাধ্যমে কাঁচাপাটের আন্তর্জাতিক বাজার ধরে রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন ভুল তথ্যের মাধ্যমে দেশে পাটের সংকট দেখিয়ে কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর ২৫০ মার্কিন ডলার অথাৎ প্রতি মণ পাটে ৮০০ টাকার ওপরে রপ্তানি শুল্কারোপের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করছে এবং কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজেএ।
সৈয়দ আলী আরও বলেন, তাদের উদ্দেশ্য সফল হলে পাটের বাজারে ধস নামবে এবং কোটি কোটি কৃষক পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আগামীতে পাট চাষে উৎসাহ হারাবে। এছাড়া কাঁচা পাট রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে খুলনা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশে সম্পৃক্ত লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বে। আর ব্যবসার ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে যেটুকু কাঁচা পাটের আন্তর্জাতিক বাজার আছে, তাও আর থাকবে না। এসময়ে খুলনা মহানগর আ’লীগের সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বিজেএর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২