হোম » সারাদেশ » ব্যাংক চেক-সংক্রান্ত মামলায় হয়রানি রোধে আইন সংস্কারের দাবি, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ

ব্যাংক চেক-সংক্রান্ত মামলায় হয়রানি রোধে আইন সংস্কারের দাবি, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ

রায়হান শেখ, মোল্লাহাট, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
ব্যাংক চেক-সংক্রান্ত মামলায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনের সংস্কার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রকৃত লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ যাচাই বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন চেক-সংক্রান্ত মামলায় হয়রানির অভিযোগ করা একদল ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা এ বিষয়ে সরকার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাকরিতে নিয়োগ, ব্যবসায়িক চুক্তি, ডিলারশিপ, ঋণ বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সময় অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অজুহাতে দুই থেকে চারটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি বা কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে ওই চেক ব্যবহার করে প্রকৃত পাওনার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ দাবি করে মামলা দায়ের করা হয় বলে তাঁদের অভিযোগ।
তাঁদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চেক-সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা আপসে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। ফলে অনেক ভুক্তভোগী মামলা, গ্রেপ্তার বা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার আশঙ্কায় শেষ সম্বল ভিটেমাটি বিক্রি করে আপস করতে বাধ্য হন। কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে যান, আবার অনেকে কারাবাসও করেন। এতে অসংখ্য পরিবার আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের মতে, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের মামলায় আদালত পর্চা, দলিল, খতিয়ান, নামজারি, দখলসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও বিরোধের বিষয় নির্ধারণ করেন। একইভাবে ব্যাংক চেক-সংক্রান্ত মামলায়ও কেবল একটি চেকের ওপর নির্ভর না করে চুক্তিপত্র, বিল, চালান, হিসাব বিবরণী, অর্থ গ্রহণের রসিদ, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ সহজ হবে এবং ভিত্তিহীন মামলা কমবে।
তাঁদের আরও দাবি, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য, জাল নথি বা প্রকৃত পাওনার তুলনায় অতিরঞ্জিত দাবি উপস্থাপন করে মামলা দায়ের করে এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, জেল ও জরিমানাসহ কার্যকর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা উচিত।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন আদালতে ব্যাংক চেক-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে একদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে, অন্যদিকে আদালতের মামলার জটও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁদের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রকৃত লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ যাচাই বাধ্যতামূলক করা হলে হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা কমবে, প্রকৃত পাওনাদারের অধিকার সংরক্ষিত হবে এবং নিরপরাধ মানুষও আইনি সুরক্ষা পাবেন।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ব্যাংক চেক-সংক্রান্ত মামলার অপব্যবহার রোধে বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন করা হোক। একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রকৃত লেনদেনের সব প্রমাণ বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপরাধ মানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
তবে ভুক্তভোগীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস, প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে প্রকৃত পাওনাদারের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে নিরীহ মানুষ অযথা হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন। এর ফলে বিচারব্যবস্থায় জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং আদালতের মামলা জটও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একটাই প্রত্যাশা— “প্রকৃত অপরাধী শাস্তি পাক, নিরপরাধ মুক্তি পাক।”
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!