
রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর
জামালপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় এক বিচারক দম্পতির বাসায় জানালার গ্রিল কেটে এক চাঞ্চল্যকর ও দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র বাসা থেকে হীরার আংটি, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিয়েছে।
রহস্যজনক বিষয় হলো, চুরির ঠিক আগমুহূর্তে ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরাটি বিকল করে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী বিচারক দম্পতি হলেন— মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতের বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল এবং তার স্ত্রী দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক নুসরাত জেরিন জেনি। তারা আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেনের তিন তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গত সাত মাস ধরে ভাড়া থাকছিলেন।
যেভাবে ঘটল এই দুর্ধর্ষ চুরি
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল তার স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য বাসা থেকে বের হন। বাসাটি পুরোপুরি ফাঁকা থাকার সুবর্ণ সুযোগ নেয় ওত পেতে থাকা চোরচক্র। তারা ভবনের পেছনের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি ভেঙে একটি মূল্যবান হীরার আংটি, ৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ টাকা লুটে নিয়ে নির্বিঘ্নে চম্পট দেয়।
তালা না খোলায় সন্দেহ, অতপর দরজা ভাঙা
রাত ৮টার দিকে বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল বাসায় ফিরে মূল দরজার তালা খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভেতর থেকে লক থাকায় চাবি দিয়েও তালা খুলছিল না। প্রথমে তিনি ভাবেন তালাটি হয়তো নষ্ট হয়ে গেছে। পরে মিস্ত্রি ডেকে এনেও দরজা খুলতে ব্যর্থ হলে তার মনে খটকা লাগে। তিনি সন্দেহ করেন, ভেতরে চোর ঢুকে দরজা আটকে রেখেছে।
পরবর্তীতে রাত ৯টার পর দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখ ছানাবড়া! দেখা যায়, জানালার গ্রিল কাটা এবং ঘরের ভেতরের আলমারি ও আসবাবপত্র তছনছ করে সব লুটে নেওয়া হয়েছে।
বাড়ির মালিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,
“আমার এই তিন তলা ভবনে মোট ৫টি ইউনিট রয়েছে। এর আগে কখনো এখানে এমন ঘটনা ঘটেনি। ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও চুরির সময় সেটি সচল ছিল না। আমাদের ধারণা, চোরচক্র অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরাটি বিকল করে এই অপরাধ ঘটিয়েছে।”
খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগী বিচারক দম্পতির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধীদের শনাক্ত ও লুটের মালামাল উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

আরও পড়ুন
৪৭তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বাঘার মেয়ে সাদিয়া আফরিন
মনিগ্রামে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ
বালিয়াডাঙ্গীতে একই স্কুলের চার শিক্ষার্থী নিখোঁজ