
বগুড়া থেকে রায়হানুল ইসলাম:
বগুড়ার কাহালুতে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের শতবর্ষী বসতভিটা থেকে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে সিএনজি ও অটো স্ট্যান্ড স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের মদদে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের মাধ্যমে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিপূর্বেও এ ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ :
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শ্রী সুদর্শন কুমার সাংবাদিকদের জানান, কাহালু-মালঞ্চা রোডের পশ্চিম পাশে তাদের পৈত্রিক ১০ শতক জমিতে সুকুমার দাস দুলাল, সরোজ কুমার দাস, শ্যামল কুমার দাসসহ মোট ৬টি হিন্দু পরিবার দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। রাস্তা সংলগ্ন এই জমিটিই তাদের বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র পথ।
অভিযোগ উঠেছে যে, পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করতে এর আগেও বসতভিটার সামনে পাবলিক টয়লেট তৈরির পাঁয়তারা করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলেও, দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও নতুন কৌশলে সিএনজি স্ট্যান্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৫০০ গজের মধ্যেই রয়েছে বিদ্যমান স্ট্যান্ড :
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রস্তাবিত স্থানের মাত্র ৫০০ গজ দূরে কাহালু স্টেশনের পাশেই একটি বড় সিএনজি ও অটো স্ট্যান্ড রয়েছে। অথচ নতুন করে এই সংখ্যালঘু পরিবারের দরজার সামনে স্ট্যান্ড করার সিদ্ধান্তে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) কাহালু এসিল্যান্ড ওই স্থানে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়ার পর থেকে পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
”আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এটি মূলত আমাদের পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদের একটি নীল নকশা।” > — শ্রী সুদর্শন কুমার, ভুক্তভোগী।
আইনি জটিলতা ও অনধিকার চর্চার অভিযোগ :
ভুক্তভোগীদের দাবি, যে রাস্তাটিতে স্ট্যান্ড করার চেষ্টা চলছে সেটি জেলা পরিষদের আওতাধীন। অথচ পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, যা আইনত সঠিক নয় বলে তারা দাবি করেন। তাছাড়া তাদের কাহালু চারমাথা রেলগেট এর পশ্চিম পাশে আনুমানিক দুই বিঘার ওপরে জায়গা যার বাজার মূল্য ১০ লক্ষ টাকা শতক হলেও মাত্র ২৬ হাজার টাকা শতকে সরকারের প্রয়োজনে নিয়ে নিচ্ছে। এই অবস্থায় তাদের সবকিছু হারিয়ে তারা এখন তাদের শেষ আশ্রয়স্থল ষড়যন্ত্রের শিকারে হারাতে বসেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি স্থগিত থাকলেও আবারও এই অপতৎপরতা শুরু হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে কাহালু উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বর্তমানে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো নিজেদের নিরাপত্তা এবং পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বাবু মিয়া ও রিজভীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা
সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩
‘বাড়ি জামালপুরে’—এটুকুই মনে আছে; পরিচয়হীন অসহায় নারী খুঁজছেন স্বজনদের