হোম » সারাদেশ » শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিএনপিতে যোগদান: পিরোজপুরে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিএনপিতে যোগদান: পিরোজপুরে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ

পিরোজপুর প্রতিনিধি:
গত অবৈধ নিশিরাইতের মেয়র মালেক মেয়ার মদদে তার নাম ভাঙ্গিয়ে পিরোজপুরের কুমারখালির শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু শিকদার, কবির শিকদার যে খুনখারাবি চালাইতো যাদের দিয়ে মালেক মেয়া হত্যার রাজনীতি করতো যেই আবু শিকদার, কবির শিকদার ছিল মালেক মেয়ার সেনাপতি, ০৪ আগস্ট২০২৪ কবির শিকদার আমাদের উপর হামলা করেছে তারা সহ ইন্দুরকানীর আ.লীগের শাহিন কে যখন বিএনপি পল্টনে বসে ফুল দিয়ে যোগদান করিয়েছে তখন আমরা রাজ পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাত ৮:০০টায় জুলাই-আগষ্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ব্যানারে পিরোজপুর টাউন ক্লাবের সামনে “ফ্যাসিষ্ট আ.লীগের পিরোজপুর জেলা সহ সভাপতি সাবেক মেয়র মালেক মেয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিএনপিতে যোগদানের প্রতিবাদে”বিক্ষোভ মিছিল উত্তর সমাবেশের বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক কমিটি পিরোজপুর জেলার ১ নং প্রতিনিধি ও জুলাই -আগষ্ট আন্দোলনের রাজপথের লড়াকু সৈনিক মুসাব্বির মাহমুদ সানি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন যদি এই আবু শিকদার, কবির শিকদার ও মালেক-আউয়াল বিএনপির মাধ্যমে পূনর্বাসিত হয় তাহলে পিরোজপুরে শান্তি থাকবেনা আবারো খুনের রাজনীতি শুরু হবে আমরা দেখতে পাবো হুটহাট করে কারো হাত চলে গেছে, কারো পা নাই হয়ে গেছে। আমরা চাই আলোমগীর মেয়ার হাত ধরে মালেক মেয়ার রাজনীতি ফিরে না আসুক তাই আমরা জুলাই এর ছাত্র-জনতা, জুলাইয়ে যারা রাজপথে ছিলাম তারা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি । আলোমগীর সাহেব কী ভাবে আবু শিকদারের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীকে, শাহিনের মতো চিহ্নিত আ.লীগকে বিএনপিতে যোগদান করানো চিন্তা করতে পারলেন তার ব্যাখ্যা তাকে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন এই প্রতিবাদ করার কারণে “আমাকে যদি গুলি করে মারতে চান মারতে পারেন”, হয়তো আমি এখান থেকে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেনা পথে কুপিয়ে হত্যা করবেন তারপরও প্রতিবাদ করবো, “মরতে যদি হয় মরব তবুও ফ্যাসিবাদের ঠাঁই পিরোজপুরে হবেনা, হতে দেবোনা।” এই সময় উপস্থিত ছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাফী, শিশির, মেহেদীসহ অসংখ্য ছাত্র জনতা।

ফ্যাসিষ্ট আ.লীগ ও জাতীয় পার্টি (জেপি) ছেড়ে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ও পিরোজপুর পৌরসভার আ.লীগ ও জেপির নেতা কর্মীরা (তিন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৭ ইউপি সদস্য) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে বিএনপিতে। মঙ্গলবার রাজধানীর বিএনপির কেন্দ্রীয় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা যোগ দেন। যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিনা রহমান ও বিলকিস জাহান, পিরোজপুর-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম কিসমত, সাবেক সদস্য সচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলুসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নবাগতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এর আগে তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টি জেপির আহবায়ক মো. শাহীন হাওলাদার, ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা জাতীয় পার্টি জেপির যুন্ম-আহবায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু এবং ৪নং ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টি জেপির সদস্য সচিব মাসুদ করিম তালুকদার ইমনসহ পাঁচটি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও নারী ইউপি সদস্যরা। যোগদানকৃত ইউপি সদস্যদের অধিকাংশই এর আগে ইন্দুরকানি উপজেলার আ.লীগ ও জাতীয় পার্টি (জেপি)’র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া পিরোজপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু শিকদার ও তার ভাই কবির শিকদার আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।

“খুনি ও ফ্যাসিবাদের” দোসরদের দলে পূনর্বাসনের কারণে বিএনপির ত্যাগী নেতা কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!