
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সিরাজগঞ্জে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
যমুনা পাড়ের এ জেলায় দিন দিন শীতের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জেলাজুড়ে কনকনে শীত বিরাজ করছে। সকালে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। শীত নিবারণের জন্য বিভিন্ন স্থানে মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
রিক্সা চালক রহিজ উদ্দিন বলেন, ঝির ঝির মতো কুয়াশা পড়ছে। একারণে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় তেমন কোন মানুষ দেখা যাচ্ছে না। এতে কাজ কাম নেই। তারপরে সংসার চালাতে ঠান্ডার মধ্যেই রিকশা নিয়ে বেড় হয়েছি।
ইট ভাটার নারী শ্রমিক ছকিনা বেওয়া (৬৫) বলেন, কুয়াশার সঙ্গে প্রচণ্ড ঠান্ডা। এই ঠান্ডার মধ্যে ইটের সাজিয়ে রাখার কাজ করছি। এতে শরীরে ঠান্ডা জমে যাচ্ছি। তারপরে কাজ করতে হয়। কাজ না করতে খাবো কি।
তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির মতো ঝির ঝির কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়াও বইছে, যে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি। সকালে তাড়াশে তাপমাত্রা ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকতে পারে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শীতের প্রকোপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার বলেন, টানা কুয়াশার সঙ্গে কনকনে ঠান্ডায় শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শীত মৌসুমে শিশু ও বৃদ্ধদের সতর্কতার সঙ্গে পরিচর্যার পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন
বগুড়ায় ২ বছরের শিশুকে অপহরণ চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার