হোম » সারাদেশ » সিরাজগঞ্জে ভিক্ষুকের মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে, গর্ভের সন্তান নষ্ট করে তালাক

সিরাজগঞ্জে ভিক্ষুকের মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে, গর্ভের সন্তান নষ্ট করে তালাক

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ভিক্ষুকের মেয়ে আফরোজা খাতুনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে, পরে সুকৌশলে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে তালক দেন স্বামী শামিম হোসেন। আদালতে মামলা করেও কোন সুরাহা পাচ্ছেনা ভুক্তভোগী। বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় নারী। তার পেটের সন্তানকে নষ্ট করে বিয়ের সাত মাসেই তালাক দেন আফরোজাকে।
আফরোজা খাতুন উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের হাওড়া গ্রামের ভিক্ষুক মোঃ কাশেম আলী মন্ডলের মেয়ে। অভিযুক্ত শামিম রেজা একই ইউনিয়নে আগ গয়ট্রা গ্রামের আব্দুল সাত্তার প্রামাণিকের ছেলে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে ভুক্তভোগী আফরোজা খাতুন সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাতকারে অভিযোগ করে বলেন, পিবিআই’র অফিসার ফয়সাল আহমেদ আমাকে শান্তনা দিয়ে বলেন সঠিক রিপোর্টটা আমি আদালতে পেশ করব। যেন তুমি সঠিক বিচার পাও। কিন্তু আসামীর পক্ষ নিয়ে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে আমাকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করেছে।
তিনি আরো বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আসামীরা প্রকাশ্যে আমাকে প্রাণনাষের হুমকি দিচ্ছে। এতে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতা ভুকছি। আমি ভিক্ষুকের মেয়ে আমার বাবা বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মামলা সুত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের হাওড়া গ্রামের মোঃ কাশেম আলী মন্ডলের মেয়ে আফরোজা খাতুনের সাথে প্রথমে পার্শ্ববর্তী উধুনিয়া গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে রঞ্জুর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর রঞ্জুর নেশাগ্রস্থ হয়ে মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এতে নেশাগ্রস্থ হয়ে প্রতিদিন আফরোজাকে মারপিট করতে থাকে। নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পেলে। আফরোজা নিরপায় হয়ে বাবার বাড়িতে চলে। বাবার বাড়িতে বসবাস করার সময় আফরোজা খাতুনের উপর ক্রু-দৃষ্টি পরে একই ইউনিয়নে আগ গয়ট্রা গ্রামের আব্দুল সাত্তার প্রামানের ছেলে শামিম হোসেনের। পরে শামিম নানা কৌশলে আফরোজার সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে দৌহিক সম্পর্ক হয়। সেই সুত্র ধরে শামিম হোসেন প্রতিনিয়ত আফরোজার বাড়িতে চলাচল এবং রাত্রি যাপন করে। একপর্যায়ে দৌহিক সর্ম্পকের কারণে আফরোজার গর্ভে সন্তান আসলে আফরোজা তাকে বিয়ের কথা বলে। শামিম হোসেন তখন বলে আমার বাবা-মা বিয়ে করলে মেনে নেবে না। অতএব রাত্রে আমি যখন তোমার ঘরে আসি তখন লোকজন ডেকে নিয়ে আমাকে আটকিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করো। সেই অনুযায়ী ১লাখ টাকা কাবিন মুলে শামিম হোসেনের সাথে আফরোজার সাথে বিয়ে হয়। পরে শামিম হোসেন আফরোজাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়, ঘর-সংসার করতে থাকে। আফরোজা খাতুনের পূর্বের স্বামীর ঘরে ৩ বছরের একটি মেয়ে সন্তান ছিলো। সেই মেয়েকে শামিম হোসেন কৌশলে দত্তক দেয়।

পরবর্তীতের আফরোজার গর্ভে থাকা সন্তানও নষ্ট করে দেন এবং শারিরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে আফরোজা খাতুন উল্লাপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে শামিম হোসেন থানায় একটি মুচলেকা দিয়ে আফরোজাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে নিয়ে শামিম হোসেন আফরোজাকে আরো বেশি নির্যাতন করে। কয়েকদিন পর আফরোজাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এতে আফরোজা দিশেহানা হয়ে পড়ে এবং ন্যায় বিচার প্রার্থনার জন্য উল্লাপাড়া আমলী আদালত, সিরাজগঞ্জে যৌতুক আইনে শামিম হোসেনসহ ৩জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। যার সিআর মামলা নং-৩৩৬/২০২৫। পরবর্তীতে শামিম হোসেন আদালতে এসে নির্যাতন করবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে সংসার করার সর্তে আদালতের মাধম্যে আফরোজা খাতুনকে নিয়ে যায়। ৫ দিন পর আবারো আফরোজা খাতুনকে নির্যাতন শুরু করেন।

পরবর্তীতে আফরোজা খাতুনের গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ায় স্বামী শামিম হোসেন, শুশুর আব্দুস সাত্তার, শাশুড়ি সুফিয়া, ননদ শিমু ও ননদ জামাই কাওসারের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ আদালতে শিশু হত্যা ঘটনায় আরো একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পিবিআই সিরাজগঞ্জকে নির্দেশন দেন। সেখানেও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হন আফরোজা। সিরাজগঞ্জ পিবিআই উপ-পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদকে (০১৭৯৭৫৯৫৩৫৩) নাম্বারে বারবার ফোন দিলেও রিসিভ করেনি।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!