
নিজস্ব প্রতিবেদক
ধানমন্ডি-৩২-এ শুক্রবার দুপুরে ঘটে গেল এক বিরল দৃশ্য—যেন রাজনৈতিক “টক শো” মঞ্চ ছেড়ে সরাসরি অ্যাকশনে নেমেছে! কেন্দ্রবিন্দুতে সেই চেনা মুখ—ভাইরাল সিদ্দিক। যিনি কখনো নিজেকে আওয়ামী লীগের গেরিলা কর্মী, কখনো বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিকে শব্দবাণে ঝাঁজালো করে তুলেছেন, আবার কখনো নিজের পরিচয় নিয়ে এমন বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন যে, “গুগল ম্যাপ”ও খুঁজে পায় না।
সেদিন তিনি নাকি বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে এসে শ্রদ্ধা জানাবেন—এই ঘোষণা শুনে মনে হচ্ছিল শান্তিপূর্ণ দিন কাটবে। কিন্তু জনতা তাকে দেখামাত্রই যেন রাজনৈতিক “জলন্ত খই” হয়ে উঠল। এক পর্যায়ে সিদ্দিক চলন্ত বাসে চড়ে নায়কের মতো পালানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু ভাগ্যদেবী বললেন—“না রে ভাই, এই দৃশ্য এখনো শেষ হয়নি।” জনতা বাস থেকে নামিয়ে তাকে মাটিতে ফিরিয়ে আনল, যেন বলছে—“এখানেই তোমার ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য হবে!”
এরপর ঘটল “অ্যাকশন সিন”—কয়েকজন যুবক তাকে এমনভাবে পিটুনি দিলেন যে, আশেপাশের কবুতরও উড়তে ভুলে গেল। শেষ পর্যন্ত শতাধিক জনতার মাঝে আটকা পড়া সিদ্দিককে উদ্ধার করেন পুলিশের এসআই তরিকুল, যিনি বোধহয় ভেবেছিলেন—এখন না নিলে, পরের দৃশ্য হবে মেডিকেল কলেজ।
পালানোর পথে সাংবাদিকদের দিকে সিদ্দিক রহস্যমাখা ভঙ্গিতে বললেন, তিনি শুধু “শ্রদ্ধা জানাতে” এসেছিলেন। যদিও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে তার আগের কয়েকটি ভিডিও—যেখানে তিনি একবার বিএনপি-জামায়াতকে ধমকাচ্ছেন, আবার আরেকবার নিজেকে “জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কর্মী” ঘোষণা করছেন। আরেকটি ভিডিওতে তো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে খাসা ডায়লগ দিয়ে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন—“ইউনুস, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দিবা…!”
সব মিলিয়ে, ভাইরাল সিদ্দিক এখন রাজনীতির এমন এক চরিত্র, যিনি কোন দলে আছেন তা না হয় বাদই দিলাম—কিন্তু কোন বাসে উঠবেন, তা নিয়েও তার ভাগ্য অনিশ্চিত।

আরও পড়ুন
“অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে তামাকপণ্যের উপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব চিকিৎসকদের”
বনানী উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস