
এইচ এম রুহুল কাদের, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিগরপানখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফলাফল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
মোট ৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, আর ৫৭ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে পাশের হার মাত্র ৩৫.৯৬%, যা স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে বিরল এবং উদ্বেগজনক।
ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহলে হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা ও বিশ্লেষণ।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও শিক্ষকরা মনে করছেন, এই বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ—
১. শিক্ষকদের ক্লাসে অনুপস্থিতি ও পাঠদানে গাফিলতি
২. গাইডনির্ভরতা ও সৃজনশীল প্রশ্নে দুর্বলতা
৩. বিদ্যালয় কমিটিতে অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব
৪. প্রশাসনিক মনিটরিংয়ের ঘাটতি
একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মন্তব্য করেন, “একটি বিদ্যালয়ে যদি সারা বছর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ঠিকভাবে না হয়, তাহলে এমন ফলাফল অস্বাভাবিক নয়।”
একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা প্রতিদিন স্কুলে গিয়েও যদি কিছু না শেখে, তবে এমন ফলাফল শুধু হতাশাজনক নয়, ভয়াবহ। আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত পাঠদান, প্রশাসনিক তদারকি এবং শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ব্যর্থতার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও অভিভাবকদের অসচেতনতাকে দায়ী করেন।

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান