
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরের ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে গত ১৩ দিনে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কে আরো ৩ জন সড়ক দুঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে রয়েছেন প্রায় ২৫ জন। দিন দিন সড়ক দুঘটনা বাড়ায় উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে অভিভাবকরা। কারণ এসকল দুর্ঘটনায় বেশীরভাগই মারা গেছে তরুনেরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শেরপুর উপজেলা একটি জনবহুল এলাকা। এই উপজেলায় প্রায় ৭ উপজেলার মানুষের যাতায়াত। এছাড়াও উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করার যে একটি মহাসড়ক সেটিও শেরপুরের ভিতর দিয়ে গিয়েছে। তাই দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার। গত ১৩ দিনে এই উপজেলায় ৮ টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এতে মারা গেছে ১৩ জন। গত ৬ মার্চ শাহবন্দেগী ইউনিয়নের আন্দিকুমড়া গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে সুজন আলী শেরপুর পৌর শহরের ধুনটমোড় এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ট্রাক-কোচের চাপায়, ৯ মার্চ মহিপুর এলাকায় কোচ-সিএনজি মুখোমুখী সংঘর্ষে অজ্ঞাত ২ জন, ১১ মার্চ শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কের বথুয়াবাড়ী এলাকায় মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া এলাকার রবিন ইসলাম, ১২ মার্চ ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ধরমোকাম এলাকায় দ্রæত গতির ট্রাকের ধাক্কায় খানপুর ইউনিয়নের কয়েরখালী গ্রামের বাদশার ছেলে নাঈম, সিদ্দিকের ছেলে সেলিম ও লিটনের ছেলে রিফাত রহমান, ১৪ মার্চ সকালে ছোনকা ফ্লাইওভার রোডের কাছে আলু বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় নাবিল হোটেলের প্রোডাকশন ম্যানেজার সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার মুত আবু তাহেরের ছেলে শাহজাদা খান, ১৫ মার্চ মির্জাপুর ইউনিয়নের বিরইল এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রæত গতির হানিফ এন্টার প্রাইজের ধাক্কায় মাগুড়া জেলার শালিখা উপজেলা ছানি আড়পাড়া গ্রামের মো. আলম হোসেনের ছেলে অন্তর হোসেন, ১৭ মার্চ মির্জাপুর ইউনয়িনের রাজাপুর এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিরইল গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে শেরউড ইন্টারন্যাশনাল (প্রা.) স্কুল এ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী কামরুল ইসলাম শুভ, সোলায়মান সরকারের ছেলে ছোনকা রহিমা-নওশের আলী ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিদয় সরকার ও ২১ মার্চ শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কের রনবীরবালা এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় ২জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রনবীরবালা এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাজর গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে হারুন অর রশিদ (৪৮), ও হোসনাবাদ গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান প্রামানিক হানিফ উদ্দিন (৩৬)। উক্ত দুর্ঘটনা গুলোতে গুরুতর আহত হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে রয়েছেন প্রায় ২৫ জন। দিন দিন সড়ক দুঘটনা বাড়ায় উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে অভিভাবকরা। এ সকল দুর্ঘটনা রোধে জনসাধারণের মধ্যে সচেনতা তৈরী, হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা সব সময় জনসাধারণের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ন স্থানগুলোতে হাইওয়ে পুলিশ টহল সহ সার্বক্ষনিক অবস্থান করছে। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে পথচারী, যানবহন চালক সহ সকলকেই সচেতন হতে হবে।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক