
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ২০১৪ সাল থেকে ২৪ সাল যত এমপি ছিল সব এমপি ছিল ভুয়া। কোন ভোট হয় নাই, সবাই ভোট ছাড়া এমপি। আমাকে কড্ডা দিয়ে, সয়দাবাদ দিয়ে বাড়িতে যেতে দেওয়া হতো না। একটা কুখ্যাত একটা চেয়ারম্যান ছিল সয়দাবাদে, দাও নিয়ে বন্দুক নিয়ে বসে থাকতো। পুলিশের ছত্রছায়ায় আমার পথ বন্ধ করতে পেরেছিল। কিন্তু এই শহীদদের রক্তের পিচ্ছিল রাস্তায় তোমরা কোথায় পালিয়ে গেছ। আমরা রাজনীতি করি আমরা পালাই না। বিএনপি কোনদিনও পালায় নাই। মঞ্চভর্তি লোক আছে পিছে দাঁড়িয়ে আছে। এমন একটা লোক নাই যে জেলখানায় যায় নাই, এমন একটি লোক নাই যাদের উপর নির্যাতন করে নাই।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ধোপাকান্দি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, শহীদ সাইদ-মুগ্ধ, সিরাজগঞ্জের রঞ্জু, লতিফ, সুমনসহ ১৪ জন এবং সারাদেশের প্রায় দুই হাজার শহীদদের সালাম জানাই। তাদের রক্তে যদি স্ফুলিঙ্গ না হতো তাহলে বাংলাদেশের মানুষ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতো না। শেখ হাসিনার গোলামে রূপান্তরিত হতো। আজকে মুক্ত দেশে কামারখন্দে এসে মিটিং করতে পারছি। এটা তো স্বপ্ন ছিল। যে কামারখন্দে মিটিং করতে এসে একজন মহিলাকে নির্মমভাবে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রভার গ্রহণ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন। একটি দল উপহার দিয়েছিলেন। যার নাম বিএনপি। উনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিশ্বাস করতেন। তাই সবাইকে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছিলেন। আওয়ামীলীগ দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে ৭১-৭৫ এর চেয়েও খারাপ ঘটনা ঘটিয়েছে। যে কারণে খুনী হাসিনা জনগণের রোষে পড়ে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। তার ছওয়াল-পাল যারা আছে তারাও দেশত্যাগ করে চলে গেছে। তবে আমি শুনতে পাই কিছু কিছু আওয়ামীলীগ নেতা এখনো দেশে আছে। দুষ্ট লোকে বলে, তারা নাকি আমার দলের কর্মীদের ছত্রছায়ায় আছে। এটাই যদি সত্য হয় যারা করেছে তারা বিএনপি করতে পারবে না।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রেজাতে রাব্বি উথানের সঞ্চালনায় জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশীদ খান হাসান প্রমূখ।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২