
জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটে হঠাৎ করে গত কয়েক দিন থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে নতুন নতুন রোগী। রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। গত ১ সপ্তাহে ৫ শতাধিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নারী, পুরুষ ও শিশু রোগী জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চিকিৎসা নিয়েছেন ।
প্রতিদিনই অনেক রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। এ হাসপাতালটি ডায়রিয়া ওয়ার্ড ৮ বেডের, কিন্তু রোগিরা বেড না পেয়ে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায়, সিড়ির ধার, ও করিডোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গাদাগাদি করে শুয়ে বসে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন শতাধিক রোগী। রোগি এবং স্বজনদের পদচারণায় হাসপাতালে পা ফেলানোর জায়গা নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুম,আবহাওয়া পরিবর্তন, ধুলোবালি ,অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পানির সমস্যার কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে।
জানা গেছে, শুধু জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালেই গেল এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে এসেছে প্রায় ১০০ জন রোগী। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতাল, বিভিন্ন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও কনসালটেশন সেন্টারেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরাও চিকিৎসা নিচ্ছেব। এদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু ও বয়স্ক রোগী রয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তির পর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা করেকদিন চিকিৎসা নেয়ার পর তারা সুস্থ হাসপাতাল ছাড়ছেন। কেউ বেশি রোগীর চাপে টয়লেট বাথরুম অপরিষ্কার ও অন্যান্য সমস্যার কারণে। বাড়িতে ফিরে অথবা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এসব ডায়রিয়া রোগীদের প্রচন্ডজ্বর,শরীর ব্যথা এবং শিশুরা সাধারণত বমি, পাতলা পায়খানা ও পেটের ব্যাথা নিয়ে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
হাসপাতালেন চিকিৎসা নিতে আসা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শহরের বিশ্বাস পাড়া এলাকার হুজাইফা এবং শহরের নতুনহাট এলাকার বাসিন্দা শিমুল হোসেন জানান, তারা ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গত পাঁচদিন থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের বেড পাইনি, মেঝোতা চিকিৎসা নিচ্ছি, বেশি রোগীর কারণে টয়লেট অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর। চরম সমস্যার মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছি।
সদর উপজেলার হানাইল গ্রামের জাকির হেসেন বলেন, হঠৎ ইফতারের পর তার স্ত্রীর পেট ব্যথার পাশাপাশি বমি শরু হয়। এর পর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে আমি নিজেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। হাসপাতালের পরিবেশ খুব খারাপ। মেঝেতে পা রাখার জায়গা নেই রোগীদের অনেক চাপ।
জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, শুষ্ক মৌসুম, আবহাওয়া পরিবর্তন, ধুলোবালি, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং সাপ্লাইয়ের পানির কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। শহরে ৪ লেন রাস্তার জন্য ড্রেনের ও পানির লাইনের কাজ চলছে পানির লাইনের পাইপ ফেটে যাওয়ার কারণে সাপ্লাই পানি দুষিত হয়ে এই সমস্যা হতে পারে বলে ধারণা করছি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের মাত্রাটা বেশি। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া আক্রান্ত প্রায় ৫ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। প্রতিনিয়ত এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমারা রোগীদের সরকারি ইনজেকশন এবং স্যালাইন সরবরাহ করছি।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক