JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ-এর বার্ষিকীতে গাইবান্ধার প্রবীণ দুইজন পত্রিকা বিক্রেতাকে সম্মাননা দেয়া হচ্ছে

শাহজাহান সিরাজ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পাবলিক লাইব্রেরী এন্ড ক্লাব মিলনায়তনে আগামী ১৯ মার্চ মঙ্গলবার দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ পত্রিকার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেয়া হচ্ছে গাইবান্ধার সফল এবং প্রবীণ দুইজন পত্রিকা বিক্রেতাকে। এরা হলেন, সফল পত্রিকা বিক্রেতা মোঃ আব্দুর রহমান শেখ, আর অপরজন প্রায় অর্ধ শতাব্দি ধরে পত্রিকা বিক্রি করা মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

হাজী মোঃ আব্দুর রহমান শেখ, গাইবান্ধার একজন পরিশ্রমী এবং প্রতিষ্ঠিত সফল পত্রিকা বিক্রেতার নাম। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৯৮২ সালে বিক্রির জন্য পত্রিকা হাতে তুলে নেন তিনি। প্রতিবেশী বন্ধু নজরুল ইসলামের পরিচয়ে গাইবান্ধার তৎকালীন এজেন্ট বাবুল রায়ের পত্রপত্রিকা নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মাত্র দেড়’শ টাকা মাসিক বেতনে কাজ শুরু করেন এই মানুষটি। তার বন্ধুরা মাসে মাত্র দেড়’শ টাকা বেতনের কথা শুনে তাকে তাচ্ছিল্য করে বলেছিল, “ আমাদের সাথে থাকেক, দিনে ওরকম দুই’শ-তিন’শ টাকা কামাই করতে পারবি।” কিন্তু সেইদিন বন্ধুদের কোন কথাই না শুনে উল্টো চাকরীতে আরো বেশি মনোযোগ দেন। শুধুমাত্র পায়ে হেটে তিনি গাইবান্ধা শহরের অফিস-আদালত এবং বাসাবাড়িতে দীর্ঘ সাড়ে ৯ বছর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সরবরাহ করেছেন। সদা হাস্যোজ্বল, পরিশ্রমী এবং বিশ্বাসী হওয়ায় তিনি তৎকালীন এজেন্ট বাবুল রায়ের বিশ্বাস অর্জন এবং মন জয় করে নেন। ফলে তিনি আব্দুর রহমান শেখকে ম্যানেজারের দায়িত্ব প্রদান করেন।

এরপর ১৯৯১ সালের শেষের দিকে গাইবান্ধার বর্ষিয়ান রাজনীতিক ও সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষের সহযোগিতায় ছোট্ট একটি ঘরে পত্রিকা বিতান নামে নিজেই পত্রিকার ব্যবসা শুরু করেন এই মানুষটি। সেই থেকে শুরু..। সাংবাদিক সেলিমের হাত ধরে আল মোজাদ্দেদ পত্রিকা তিনি প্রথম এজেন্সি নেন। এরপর আজকের কাগজ, মানবজমিন। তার এজেন্সি ব্যবসায় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু, কবি সরোজ দেব, সাংবাদিক রজতকান্তি বর্মণ, পুলিশের সার্জেন্ট আনোয়ারুল কবীর সুজন, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বাবুসহ পরিচিত অনেক মুখ। সততা, নিষ্ঠা এবং সুন্দর ব্যবহারের কারণে এখন নতুন কোনো পত্রিকা প্রকাশ হলে, তাঁকে এজেন্সি পেতে আর কোনো কষ্ট করতে হয়না। বরং তারা নিজেরাই সৎ, নিষ্ঠাবান আব্দুর রহমান শেখকেই যেন খুঁজে নেয়-এমনই আস্থা এবং বিশ্বাস তিনি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

কৃতিমান এই মানুষটি জন্মেছেন গাইবান্ধা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কুঠিপাড়া এলাকায় ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। পিতা মরহুম নছিমুদ্দিন শেখ। মা মোছাঃ আয়তন শেখ। বাবার অভাবী সংসারের হাল ধরে নিজের দুই বোনকে বিবাহ দিয়েছেন আব্দুর রহমান শেখ। মোছাঃ সাহেরা বেগমকে বিয়ে করে নিজের ঘর গেরস্থলি শুরু করেন তিনি। সংসার জীবনে ৪ মেয়ে ও ১ পুত্র সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে ইতোমধ্যে তিন মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন। ছোট ভাই আব্দুর রহিম শেখকেও বিয়ে দিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। ২০১৮ সালে মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় আব্দুর রহমান শেখ পবিত্র হজব্রত পালন করেন। বর্তমানে তিনি তার নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান “পত্রিকা বিতান এবং বিভিন্ন সংবাদ পত্রের এজেন্সি অত্যন্ত সুনামের সাথে পরিচালনা করে আসছেন।

পরিশেষে তিনি বলেন, “যে কোনো ব্যক্তি সৎভাবে অন্তরে বিশ্বাস নিয়ে পরিশ্রম করলে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেনই- এর প্রমাণ আমি নিজে, আব্দুর রহমান শেখ।”

অপর দিকে প্রায় অর্ধ শতাব্দি ধরে গাইবান্ধার রেলষ্টেশন, বাস ষ্টেশনসহ বিভিন্ন অফিস আদালতে, হাটে-বাজারে পত্রিকা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন প্রবীন এই পত্রিকা বিক্রেতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন। এখন তার বয়স আনুমানিক ৭৫ বছর। সদা হাসোজ্বল এবং মিশুক মনের এই মানুষটি ৬ষ্ট শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে খেলার বয়সেই সংসারের অভাব অনটন ঘুচাতে পেশা হিসেবে পত্রিকা বিক্রিকে বেছে নেন। সেই থেকে এখন অবধি এই পেশাতেই রয়েছেন প্রিয় এ মানুষটি।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খোলাবাড়ি গ্রামে মৃত আজিমুদ্দিন সরকার এবং মৃত দিলজান বেওয়ার সংসারে জন্মগ্রহণ করেন এই দেলোয়ার হোসেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫/৬ বছর পর বিয়ে করেন মোছাঃ মনোয়ারা নামের একটি মেয়েকে। পত্রিকা বিক্রি করেই চলতো তাদের সুখের ঘর সংসার। সংসার জীবনে ৩ মেয়ে ও ১ পুত্র সন্তানের পিতা এই মানুষটি। পত্রিকা বিক্রির মতো কঠিন পরিশ্রমের হালাল রোজগারে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে সংসার সামালাতে হিমশিম খেলেও জীবনে কখনো কারো মুখাপেক্ষী হওয়া কিংবা কারো কাছে গিয়ে হাত পেতে সাহায্য নেয়াকে সবসময়ই তিনি ঘৃণার চোখেই দেখেছেন। বর্তমানে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়ে এবং ছেলেকে দর্জির কাজ শিখিয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বেশ সুখে শান্তিতেই রয়েছেন আমাদের গাইবান্ধার প্রবীন এই ভ্রাম্যমান পত্রিকা বিক্রেতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

সংবাদ পড়ুন, লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

Comments

comments

About আওয়াজ অনলাইন

x

Check Also

বগুড়ার শেরপুরে বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত

এম. এ. রাশেদ বগুড়া প্রতিনিধিঃ এখনই সময় অঙ্গিকার করার, যক্ষা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার” এই প্রত্যায় নিয়ে ...

error: Content is protected !!