JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

পীরগঞ্জের ভুমিহীন জরিনা বেওয়া মাথা গুজার ঠাই পেলেন

আবু তারেক বাধন, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি: অবশেষে মাথা গুজার ঠাই পেলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের ভুমিহীন জরিনা বেওয়া। ফুটো হওয়া পলিথিনের চালা থেকে চুয়ে পড়া বৃষ্টির পানিতে এখন আর ভিজতে হবে না তাকে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় একটি টিনের ঘড় পেয়ে বেশ খুশি তিনি। এক অসহায় বিধবাকে থাকায় আশ্রয় করে দিতে পারায় সন্তেুাষ্ঠ সরকারী কর্মকর্তারাও। বৃহস্পতিবার বিকালে জরিনার নব নির্মিত ঘড় পরিদর্শনে এসে এমনটাই অনভুতি প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

জানা যায়, পীরগঞ্জ পৌর শহরের মধ্য গুয়াগাও গ্রামের ভুমিহীন মইনউদ্দীন মারা যান প্রায় ২০ বছর আগে। রেখে যান স্ত্রী জরিনা ও ৪ মেয়ে। ১ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তখন থেকে ৩ কন্যাকে নিয়ে খাস জমিতে ঝুপড়ি ঘড়ে বসবাস করে আসছেন জরিনা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে দিনে কোন মতে একবেলা খাবার যোগাড় করতে পাড়লেও পারেননি রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর একটি ঘড় নির্মান করতে। বিভিন্ন জনের সাহায্য নিয়ে খড়ের বেড়া ও পলিথিনের ছাউনি দিয়ে নির্মিত ঝুপরি ঘড়েই দিন কেটেছে জরিনা সহ তার মেয়েদের।

এরই মধ্যে বিয়ে দিয়েছেন দু’মেয়েকে। ছোট মেয়ে ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি করে। বিয়ে দিতে পারেননি। জরিনা জানায়, টাকার অভাবে অনেক সময় ছাউনির পলিথিন বদলাতে পারেননি। ফুটা পলিথিন দিয়ে দিনের বেলায় রোদ এবং বৃষ্টির দিনে চুয়ে চুয়ে পানি পড়তো। কাপড় চোপড় ভিজে যেত। অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হতো। তার সাথে মেয়ে পরভিন ও জামাই শফিকুলও থাকে। শফিকুল পেশায় ট্রাক চালকের সহকারী। তারও তেমন আয় রোজগার নেই। সংসার চালাতে সবাইকে কাজ করতে হয়। পারভিনের ২ ছেলে ১ মেয়ে। তারাও ঝুপড়ি ঘড়ে থাকেন।

অভাব আনটনের কারণে জরিনা তার মেয়েদের পড়াতে না পাড়লেও পারভিনের ছেলে মেয়েরা লেখা পড়া করে। পারভিনের মেয়ে রেনু আকতার বর্তমানে পীরগঞ্জ সরকারী কলেজের ২ বর্ষের ছাত্রী। এক ছেলে স্কুলে পড়ে। ভাল ঘড় না থাকায় বৃষ্টিতে প্রায়ই তাদের বই খাতা ভিজে যায়। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতা চায় জরিনা বেওয়া। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন বিষয়টি অবগত হয়ে ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের বিশেষ ফান্ড থেকে ঘড় নির্মানের জন্য জরিনাকে তিন বান্ডিল ঢেউ টিন ও নগদ নয় হাজার টাকা দেন। উপজেলা প্রশাসন এর সাথে কিছু অর্থ যোগ করে জরিনাকে একটি টিনের চালা ঘড় নির্মান করে দেন ফেব্রæয়ারী মাসের শেষ সপ্তাহে।

এতে তার মাথা গুজাবার ঠাই হয়েছে। জরিনা বলেন, তিনি খুব খুশি হয়েছেন। এখন যদি খাস ভিটে মাটি টুকু তাকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়, তাহলেই তিনি মরেও শান্তি পাবেন।বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জাম সেলিম ঘড় পরিদর্শনে এসে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অসহায়দের পাশে রয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছেন, দেশে কোন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। এজন্য কাজ চলছে। জরিনার সাথে তার নাতি-নাতনিরও এখন রাতে অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে। এ রকম কাজ করতে পেরে আমরা নিজেরাও খুশি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডবিøউ এম রায়হান শাহ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তারাও জানান, অসহায় জরিনার পাশে দাড়াতে পেরে তরারও বেশ খুশি।

সংবাদ পড়ুন, লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

Comments

comments

About আওয়াজ অনলাইন

x

Check Also

বগুড়ার শেরপুরে বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত

এম. এ. রাশেদ বগুড়া প্রতিনিধিঃ এখনই সময় অঙ্গিকার করার, যক্ষা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার” এই প্রত্যায় নিয়ে ...

error: Content is protected !!