JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

মানুষের মানচিত্রঃ জঙ্গল ভিসা

 

আনিছুর রহমান খানঃ খন্দকার নূরুল ইসলাম দুদু মিয়া (৬০) গ্রাম শাহজাহানপুর, উপজেলা উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ (ছবিতে শশ্রুমন্ডিত)। ১৯৯৫ সনে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন কাজের জন্য। তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন কিভাবে? উত্তরে বল্লেন, “জঙ্গল ভিসায়”।

গত ১১-১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, আওয়াজ মানব উন্নয়ন সংস্থার আমন্ত্রনে আওয়াজ ফাউন্ডেশন অভিবাসন কার্যক্রম টিম সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ায় মঙ্গাপিরিত ও নদীভাঙ্গা মানুষের মাঝে “নিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধ” বিষয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও ডকমেন্টেশন করার জন্য গিয়েছিল। এ যাবত বাংলাদেশ থেকে কাজের নামে বিভিন্ন দেশে মানব পাচারের একটা বড় অংশ ছিল পাবনা-সিরাজগঞ্জের।

পাবনার সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পে ঐতিহ্য একসময় সারা বাংলাদেশে সুপরিচিত ছিল। সাধারন মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভাল ছিল। কালক্রমে নদীর ভাঙ্গনে বাড়ী-ঘর ও ফসলী জমির বিলুপ্তিতে এখানকার প্রান্তিক মানুষ নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হতে থাকে। তাঁদেরই একজন খন্দকার নূরুল ইসলাম দুদু মিয়া। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ডিমের ব্যবসা ধরেন; কিন্ত তা’তেও সংসার চলেনা। বড় স্বমন্ধি ট্যুরিষ্ট ভিসায় মালয়েশিয়া গিয়ে ৩ মাসের মাথায় কাজ পেয়েছেন। তাই দেখে জঙ্গল ভিসায় ছোট শ্যালকও থাইল্যান্ড হয়ে ৩ দিনে মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজ করছেন।

 

একদিকে সংসারে অভাব অনটন অন্যদিকে শ্যালকদের সফল (?) মালয়েশিয়া গমন তাঁকেও উদ্বুদ্ব করে। ঐসময় কলিং ভিসা ছিলনা; উপরন্ত বৈধ পথে যেতে এক লক্ষ ৬০-৭০ হাজার টাকা লাগতো। তাই শুধু ৬০ হাজার টাকায় দালালের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের জঙ্গল হয়ে মালয়েশিয়া যাবার চেষ্টা করেন; কিন্ত তাঁর ক্ষেত্রে ঘটে নানা বিপর্যয়,

মালয়েশিয়া যাবার প্রতীক্ষায় দুদু মিয়াদের থাইল্যান্ড জঙ্গলে তাবু টাঙ্গিয়ে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়, কখন সময় আসবে। এই সময় অনাহার, অনিদ্রায় চরম দুর্দশার মধ্য দিয়ে তাঁদের দিনাতিপাত করতে হয়েছে। ইতিমধ্যে একবার মালয়েশিয়া জেলে ১২ দিন রেখে আবার থাইল্যান্ড পাঠিয়ে দেয়। সুযোগ বুঝে ৪/৫ জনকে নিয়ে পুলিশের গাড়ীর করে ডালার ভিতর ঢুকিয়ে মালশিয়ান বর্ডার পার করে দিত। মালয়েশিয়ান পুলিশও এই চক্রের সাথে জড়িত ছিল। ঢাকা থেকে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া পর্যন্ত পাচারকারিদের একটা শক্ত নেটওয়ার্ক ছিল।

পুলিশের গাড়ীর ডালার ভিতর করে তাদেরকে মালয়েশিয়ার সিলাঙ্গার ডিষ্ট্রিকের কাজানের একটা কনষ্ট্রাকশন প্রজেক্টে আনা হয়। এখান থেকেই আত্বীয়-স্বজনেরা তাঁদের নিয়ে যায়, আর যাঁদের আত্বীয়-স্বজন ছিল না, তারা এখানেই কাজ করতো এবং ৬ মাস পর মালয়েশিয়ান সরকারের সাধারন ক্ষমার সুযোগে বৈধ হয়ে যায়। (মানুষের মানচিত্র চলবে)

ফটোঃ আনিকা তাবাসসুম আদৃতা

সংবাদ পড়ুন, লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

Comments

comments

About গণমানুষের আওয়াজ.কম

x

Check Also

বোরহানউদ্দিনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেকরাই বহাল

বোরহানউদ্দিন(ভোলা)সংবাদদাতাঃ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আজ বোরবাজ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত  হয়েছে।৬৮ ...

error: Content is protected !!