JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির ষড়যন্ত্র

মুসা ইবনে হোসাইন বিপ্লব, কক্সবাজারঃ এক শ্রেণির অসাধু মিল মালিক সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। নিজেদের পকেট ভারী করতে আমদানিকারক ওই সিন্ডিকেট জোরেশোরে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজন গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহুমুখি তদবির চালাচ্ছে। এতে দেশীয় শিল্প ধ্বংস করে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির রাস্তা সহজ করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে দপ্তরগুলোতে।

অথচ গত ২৫সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে বিসিকের এক কর্মশালায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন ‘এই মুহুর্তে লবণের সংকট নেই, আমদানি করা হবেনা’। অবশ্য শিল্পমন্ত্রী আশ্বস্থ করেন- লবণ চাষি, মিল মালিক ও বিসিকের সমন্বয়ে মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। লবণ চাষিদের ক্ষতি করে কোন সিদ্ধান্ত সরকার নেবেনা। আপাততঃ লবণ আমদানির কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই। ওই কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। এসময় শিল্পমন্ত্রী বলেন, লবণ চাষি, লবণ মালিক, বিসিকের প্রতিনিধি, মিল মালিক, এদেরকে নিয়ে মনিটরিং করা হবে। মনিটরিং করে যেটা সঠিক মনে হবে- সেভাবেই আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

বিসিক বলছে, দেশে ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন লবণ মজুদ আছে। লবণ চাষিদের দাবি, ৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি লবণ অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে মাঠে। বর্তমানে লবণের কোনও ধরণের সংকট নেই। অধিকাংশ মিল মালিকও লবণ আমদানির বিপক্ষে।
এদিকে লবণের চাহিদা মজুদ নিরূপণের লক্ষ্যে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে বিসিক। গেলো ২৬সেপ্টেম্বর মহাব্যবস্থাপক মো. মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাহিদুর রহমান আহবায়ক ও বিসিক কক্সবাজারের লবণশিল্পের উন্নয়ন কর্মসূচির উপ-মহাব্যবস্থাপক দিলদার আহমদ চৌধুরীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন- লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কায়ছার ইদ্রিস, কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি রইছ উদ্দিন ও ইসলামপুর লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি মো. শামসুল আলম আজাদ। এদের মধ্যে একজনই আমদানির পক্ষে বলে জানিয়েছে লবণ মিল মালিক ও চাষিরা।

সূত্রমতে, কক্সবাজার, চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলা (আংশিক)সহ ৬৪ হাজার ১৪৭ একর জমি রয়েছে। চাষি রয়েছে ৫৫ হাজারের বেশি। এসব চাষি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লবণ উৎপাদন করে। কিন্তু দালাল, ফঁড়িয়া ও আমাদনির চক্রের দৌরাত্ম্যে বারবার ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত হচ্ছে চাষিরা। মাঠ পর্যায়ে চাষিদের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে লবণ কিনে অধিক মুনাফা অর্জন করছে মধ্যস্বত্ত¡ভোগি ও মিল মালিকরা। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও অসাধু চক্রটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে বসে এনে লবণ আমদানি করে ওই চক্র। আর এসব আমদানির পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ যোগাচ্ছে অসাধু মিল মালিক সিন্ডিকেট। অথচ আগামী নভেম্বর থেকে পুরোদমে শুরু হচ্ছে লবণ মওসুম।
মহেশখালী, চকরিয়া, ইসলামপুর, টেকনাফ, পেকুয়ার অন্তত ১০টি এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, এখানে প্রচুর পরিমাণ লবণ মজুদ আছে। উৎপাদনমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা লবণ বিক্রি করছেনা। চাষিরা জানায়, যে লবণ গত এক মাস আগে বস্তাপ্রতি ৭৮০ টাকায় বিক্রি হতো সে লবণ বর্তমানে ৭০০ থেকে ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি হওয়ায় পূর্বের তুলনায় লবণের দাম নি¤œমুখি। বাজারে লবণের সরবরাহ ঠিক আছে। কোথাও ঘাটতি নেই বললেই চলে।

ইসলামপুর লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি মো. শামসুল আলম আজাদ বলেন, ফঁড়িয়ারা ছাড়া অধিকাংশ মিল ও মাঠে প্রচুর লবণ মজুদ আছে। বিসিকের রিপোর্ট মতে, ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন লবণ জমা আছে। ঘাটতির কোন অশংকা নেই। এরপরও লবণ শিল্পের ক্ষতি হয়; এমন কোন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত হবেনা।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারের লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে দেশে লবণের চাহিদা ছিল ১৫ দশমিক ৭৬ লাখ মেট্রিকটন। এই মওসুমে উৎপাদন হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ লাখ মেট্রিকটন। এ হিসাবে চাহিদার তুলনায় লবণের ঘাটতি ছিল ২ লাখ ১২ হাজার মেট্রিকটন। সেই বছর ৫ লাখ মেট্রিকটন আমদানি বাদে ২ লাখ ৮৮ মেট্রিকটন উদ্বৃত্ত থাকে। ২০১৮ সালে ১৬ লাখ ২১ হাজার মেট্রিকটন লবণ চাহিদা ছিল। এই বছর ১৪ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিকটন লবণ উৎপাদন হয়। ঘাটতি থাকে ১ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিকটন। ২০১৭ সালের উদ্বৃত্ত ২ লাখ ৮৮ মেট্রিকটন বাদে বর্তমানে ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন লবণ চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে।
ইসলামপুরের লবণ চাষি ফরিদুল আলম বলেন, দেশে চাহিদা অনুযায়ী প্রচুর পরিমাণ লবণ উৎপাদন হওয়ার পরও তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লবণ আমদানি করতে চাচ্ছে। মাঠে প্রচুর অবিক্রিত লবণ পড়ে আছে। যা মওসুম শুরু হয়েও বাঁচবে। লবণের চাহিদা মজুদ নিরূপণে গঠিত ৫ সদস্যের কমিটির আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাহিদুর রহমান বলেন, মিল ও মাঠের তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বিসিককে বলা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, দেশের ক্ষতি হয় এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হবেনা।

বিসিক কক্সবাজারের লবণশিল্পের উন্নয়ন কর্মসূচির উপ-মহাব্যবস্থাপক দিলদার আহমদ চৌধুরী বলেন, মিল ও মাঠের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। শীঘ্রই প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

Comments

comments

About আওয়াজ অনলাইন

x

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে “নৌকার লক্ষ্যে নারীর ঐক্য”

মোঃ ইসলাম,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: বর্তমান দেশের উন্নয়নের বার্তা মানুষের দৌড় গড়ায় পৌছে দিতে ও সাথে ...

error: Content is protected !!