JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.

সিসি টিভির ফুটেজ নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ-“কুষ্টিয়া সাব-রেজিস্ট্রার হত্যাকান্ড”

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নুর মোহাম্মদকে কারা কি কারনে হত্যা করেছে তা এখনো পরিস্কার হতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যাকান্ডের সাথে কয়েকজন যুবক জড়িত বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে। এ যুবকদের সাথে কোন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ ছিল না-কি তারা ভাড়াটে খুনি এটি জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনার সময়কার একটি সিসি টিভির ফুটেজ এখন পুলিশের হাতে। সেই ফুটেজে তিন যুবক হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। বাড়ির মালিকের ছেলেও তিন যুবককে সিড়ি দিয়ে নেমে যেতে দেখেছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে পুলিশ কিছুই বলতে চাচ্ছে না।

 

সাব-রেজিস্ট্রার নুর মোহাম্মদ খুনের ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার নিহতের ছোট ভাই কামরুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে হত্যা মামলা করেছেন।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যখন হত্যাকান্ড ঘটেছে তখন রাত ১০টা বাজে। এ সময় এলাকার অনেকেই বাইরে ছিলেন। বাড়ির মালিকের ছেলে তিন যুবককে দেখেছেন। আশেপাশের অনেকেই খুনিদের বের হতে দেখেছেন। তাদের কথাবার্তা ও চেহারার ধরন দেখে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। খুব দ্রুত খুনিদের পরিচয় জানা যাবে।’

 

কুষ্টিয়া রেজিষ্ট্রি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে কথা হলে জানান,‘ সদর সাব রেজিস্ট্রার নুর মোহাম্মদ শহরের বাবর আলী গেট এলাকায় বিসি স্ট্রিট সড়কের হানিফ আলীর চারতলা বাড়ির তিন তলার একটি ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন। ফ্লাটে তিনি একাই থাকতেন। তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করে। বাসায় অফিসের এক পিয়ন নিয়মিত রাতের খাবার দিয়ে আসতো। হত্যাকান্ডের দিনও রাতের খাবার দিয়ে আসে পিয়ন। হত্যাকান্ডের পর পরই দুই পিয়ন ফারুক হোসেন ও রাব্বিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক জানান,‘ স্যার (নুর মোহাম্মদ) এমনিতেই মিশুক ছিলেন। সবার সাথে ভাল ব্যবহার করতেন। তার বাড়িতো এই জেলায় নয়, তাই তেমন কোন শক্র থাকারও কথা নয়। তবে শহরের একটি জমি কেনাবেচা নিয়ে হয়তো কারো সাথে তার ঝামেলা হতে পারে। শহরের জেলখানা মোড়ের এরশাদনগরে অবস্থিত সেই সম্পত্তির দাম কয়েক কোটি টাকারও বেশি। পুলিশ এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে বলে জানান তারা।

ওই সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার শহরের এরশাদনগর এলাকাস্থ আন্ত:জেলা ট্রাক চোরচক্রের মূল হোতা ও মাদারীপুর জেলা কারাগারে বন্দী মনির হোসেনের বাড়ি কেনা-বেচায় কমিশন দলিল করতে সাব রেজিষ্ট্রার নুর মোহাম্মদ শাহ সোমবার সকালে মাদারিপুর কারাগারে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়াস্থ নিজ কার্যালয়ে ফিরে আসেন। ধারণা করা হচ্ছে ঐ বাড়িটি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে কোন পক্ষগণের বিরোধ থেকে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। ওই সম্পদ কেনাবেচা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিতরে ভিতরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

 

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলা সাব- রেজিস্ট্রার নূর মোহাম্মদকে হাত-পা-মুখ বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বাড়িওয়ালা হানিফ আলীর ছেলে আল মাহমুদ বলেন, রাত ১০টার দিকে একটা শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। বাসায় চোর ঢুকেছে মনে করে তিনি চারতলা ভবনের ছাদে গিয়ে খুঁজতে থাকেন। এ সময় তিনতলার ডান দিকের নূর  মোহাম্মদের ফ্ল্যাটে উচ্চ শব্দে টেলিভিশন চলছিল। ওই ফ্ল্যাটের দরজার নিচের মেঝের ফাঁকা জায়গা পাপোশ দিয়ে আটকানো  দেখেন। সাড়া না পেয়ে কয়েক মিনিট পর তিনি নিচতলায় পানির পাম্পের সুইচ বন্ধ করতে যান।

 

তিনি আরো বলেন, রাত ১০টার দিকে সিঁড়ি বেয়ে তিনজন যুবককে নামতে দেখেন। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতে একটি লম্বা ছুরি ছিল। তাঁরা কারা, কার কাছে এসেছেন, তা জানতে চাইলে এক যুবক বলেন, তাঁরা রেজিস্ট্রার সাহেবের কাছে গিয়েছিলেন। এরপর দ্রুত কলাপসিবল গেট খুলে বাইরে চলে যায় তারা।ফুটেজ দেখা গেছে এক যুবক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়িতে প্রবেশ করে। তার সাথে আরও দুইজন ছিল। প্রায় এক ঘন্টা পর তিন যুবক এক সাথে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় তারা একটি ব্যাগ ও ছুরি ফেলে যায়। কালো ব্যাগের ভেতরে একটা খেলনা পিস্তল পাওয়া গেছে।

 

হত্যাকান্ডের পরে কয়েকজন বাড়ির ভিতর গিয়ে দেখেন, রান্নাঘরে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় সাব রেজিস্ট্রার নূর মোহাম্মদকে পড়ে থাকতে দেখেন। বাড়ির অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সহায়তায় তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া  জেনারেল হাসপাতালে নেয়। তার মাথায় ও শরীরের দুই স্থানে জখম ছিল। ধারালো ছুরি দিয়ে টান দিয়ে কেটে দেয়া হয় এসব স্থানে। রাত ১১টার দিকে পুলিশ কয়েকজনের সহায়তায় নূর  মোহাম্মদকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।

গতকাল মঙ্গলবার নুর মোহাম্মদের ময়নাতদন্ত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক। এ সময় নুর মোহাম্মদের মাথার পিছনে ও হাতে কাটার দাগ দেখতে পায় তারা। হত্যার উদ্দেশ্যেই তার ওপর হামলা করা হয়। তিনি ঠেকানোরও চেষ্টা করেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘নিহত নুর মোহাম্মদের মাথায় ও শরীরের গভীর ক্ষত রয়েছে। ধারালো কোন বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণও হয়েছে।

যে বাড়িতে হত্যাকান্ড ঘটেছে তার পাশেই পুপলার প্রিন্টিং প্রেসের অবস্থান। প্রতিষ্ঠাটিতে একাধিক সিসি ক্যামেরা আছে। রাতেই  গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে, তাদের চিহিৃত করা কাজ শুরু করে। হত্যায় অংশ নেয়া যুবকরা পেশাদার খুনি বলে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ এদের মধ্যে কয়েকজনকে চিহিৃত করেছেও বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এদিকে ওই প্রিন্টিং প্রেস থেকে কম্পিউটার ও হার্ডডিস্ক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মালিকপক্ষ এ নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছে না।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন,‘হত্যাকান্ডের পর পরই তারা ঘটনাস্থলে যান। কিছু আলামত  পেয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে কয়েকজন যুবক হত্যায় অংশ নিয়েছেন। বিষয়টি তারা গভীরভাবে তদন্ত করছেন। এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলার সময় আসেনি। সময় আসলে সব জানানো হবে।’

এদিকে হত্যাকান্ডের পর গতকাল দুপুরে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি কেএএন নাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি পুলিশ সদস্যের নিয়ে জরুরী মিটিং করেন। দ্রুত হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার ও দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

এদিকে নিহত সাব রেজিস্ট্রার নুর মোহম্মদ শাহের লাশের ময়না তদন্ত শেষে অফিসের সহকর্মীদের হাতে লাশ হস্তান্তর করেন পুলিশ। এরপর বেলা ২টার দিকে নিহতের নিজ কার্যালয় জেলা রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে গোসল, কাফন ও জানাযা শেষে মরদেহ গ্রহনকালে উপস্থিত ছিলেন- ছেলে সিফাত ইবনে নূর এবং নিহতের ছোটভাই কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলার পাড়ামওলা গ্রামের আলহাজ¦ মজিবুর রহমান শাহর ছেলে মহসিন আলী শাহ। লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন,‘ মামলাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন তারা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য তাদের হাতে এসেছে। এছাড়া সিসি টিভির ফুটেজও তারা পেয়েছেন। বেশ কয়েকটি দিক মাথায় রেখে তারা এগুচ্ছেন। অচিরেই হত্যার সাথে জড়িতরা আইনের আওতায় আসবে।’

সংবাদ পড়ুন, লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

Comments

comments

About আওয়াজ অনলাইন

x

Check Also

ধুনট সোনাহাটায় বিএনপির মতবিনিময় সভা

এম. এ. রাশেদ বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার সোনাহাটা বাজারে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ...

error: Content is protected !!