JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর জয় ধরে রাখতে মরিয়া ক্ষমতাসীন’রা, বিএনপি মরিয়া জয়ে ফিরতে

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর সংসদীয় আসনে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ইসলামী ঐক্যজোট ও জাকের পার্টির প্রায় ২০ জন প্রার্থী নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এরই মধ্যে ভোটারদের ধারে ধারে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৩৭টি কেন্দ্র নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩,৪৩,৩৯২ জন, তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৭০,৪৭২, মহিলা ভোটার ১,৭২,৯২০ জন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্যতম এই আসনটি বর্তমানে আওয়ামীলীগের দখলে। ইতোমধ্যে এই আসনটিতে জাতীয় পার্টি’র (এরশাদ) তিনবার, জাতীয় পার্টির (নাফি) একবার, আওয়ামীলীগ তিনবার, বিএনপি দুইবার, মহাজোটের শরীক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একবার প্রার্থী জয়লাভ করেন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে ইতোমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন বর্তমান সাংসদ ও নবীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান বাদল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট কাজী মোরশেদ হোসেন কামাল, নবীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব একেএম মমিনুল হক সাঈদ, কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, শিল্পপতি মোঃ এবাদুল করিম বুলবুল,কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি, সদস্য, আওয়ামীলীগ দপ্তর উপ-কমিটি আরিফুল ইসলাম টিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, সদস্য, আওয়ামীলীগ আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটি, সাবেক ছাত্রনেতা ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ, জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগর আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নাহার বেগম, বঙ্গবন্ধু ব্যারিস্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি ও লন্ডনস্থ ওয়েস্ট মিনিস্টার কলেজের আইন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম নবী, দৈনিক যায় যায় কাল পত্রিকার সম্পাদক, সদস্য, আওয়ামীলীগ দপ্তর উপ-কমিটির সাবেক ছাত্রনেতা আলামিনুল হক, বাংলাদেশ ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন এর সাবেক সভাপতি এডভোকেট খোরশেদ আলম, সাবেক সাংসদ আকবর উদ্দিন সিদ্দিকের ছেলে, সাবেক ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন সিদ্দিক (টিটো), নবীনগর মহিলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মাহমুদা আক্তার শিউলী।

মহাজোটের শরীক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, বাংলাদেশ ট্যাক্সেস ল’ইয়ার এসোসিয়েশন এর সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন।বিএনপি থেকে আসনটিতে জয়ে ফিরতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা তকদীর হোসেন মোঃ জসীম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সহ-সভাপতি, মাস্টার দা সূর্যসেন হলের জিএস সায়েদুল হক সাঈদ, সাবেক ৪বারের সাংসদ কাজী আনোয়ার হোসেন ছেলে, জেলা বিএনপি’র অন্যতম সদস্য কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান চৌধুরী (পাপ্পু)।জাতীয় পার্টি’র (এরশাদ) একমাত্র প্রার্থী, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা, জেলা জাতীয় পার্টি’র সদস্য সচিব ও উপজেলা জাতীয় পার্টি’র সভাপতি আলহাজ্ব কাজী মামুনুর রশিদ।

ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা মেহেদী হাসান।জাকের পার্টির কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা, জেলা জাকের পার্টির সহ-সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ রশিদ উল্লাহ। প্রত্যেকই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ব্যানার ফেস্টুন, পোস্টার লাগিয়ে কর্মী সমর্থকদের চাঙ্গা করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। খোজ নিয়ে জানা যায়, ক্ষমতাসীন জোট জয় ধরে রাখতে মরিয়া, অপরদিকে বিএনপি মরিয়া জয়ে ফিরতে।ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ছাড়াও মহাজোট গঠন হলে আওয়ামীলীগের শরীক দল জাসদ ও জাতীয় পার্টি’র প্রার্থী যে কেউ একজন মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মাঠে চাওড় আছে। অপরদিকে বিএনপির শরীক দলের দৃশ্যমান অস্তিত্ব নবীনগরে না থাকায় বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী। ১৪ দল বা মহাজোট যাই গঠিত হোক, সাধারণ কর্মী সমর্থকদের দাবি বর্তমান সরকারের উন্নয়নই হবে তাদের মূল পুঁজি।

এ ব্যাপারে বর্তমান সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নবীনগরের উন্নয়নে বড় বড় কয়েকটি প্রকল্প সহায়তা দিয়েছেন, চলমান উন্নয়নকে ধরে রাখতে নৌকার বিজয়ের বিকল্প নেই।সাবেক সাংসদ জিকরুল আহমেদ খোকন বলেন, জঙ্গী সন্ত্রাসীদের মূল জড় উৎপাটন ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন চলমান রাখতে ১৪দলীয় জোটের ঐক্যের বিকল্প নেই। যেকোন উপায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে সকল বিভেদ ভুলে আমাদেরকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নের মাইলফলকে পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা যেকোন ধরনের ত্যাগ দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নকে চলমান রাখতে চাই।

এবাদুল করিম বুলবুল বলেন, বিশ্ব বরেন্য নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র প্রতি আমাদের আস্থা আছে, আমরা উনার যেকোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শতভাগ সফল হবো।এ্যাডভোকেট মোরশেদ হোসেন কামাল বলেন, উন্নয়নশীল দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে শেখ হাসিনার বিকল্প হতে পারে না। আমরা উনার নেতৃত্বে অবিচল থাকতে চাই।মমিনুল হক সাঈদ বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের অভিবাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিভাবে একটি দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিতে হয়, তিনি আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন। উন্নত দেশ গড়তে আমরা উনার পাশে আছি, যেকোন সিদ্ধান্তে এক থাকবো।

 

তকদির হোসেন মোঃ জসিম বলেন, নবীনগরের মানুষ চায় আমি একবার সংসদ সদস্য হয়ে তাদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করি। সেই লক্ষ্যে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস দল আমাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে এই আসনটি পুনরূদ্ধারের জন্য।সায়েদুল হক সাঈদ বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছি, নবীনগরকে একটি আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে নবীনগরবাসীর খেদমতে কাজ করতে চাই।কাজী নাজমুল হোসেন তাপস বলেন, আমার পিতার আদর্শ নিয়ে নবীনগরের মাঠে, ঘাটে সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করতে গিয়ে দেখেছি, সাধারণ মানুষ আমাকে কত ভালোবেসেছে। আমি তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই।কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, দুই নেত্রীর শাসনব্যবস্থা বাংলাদেশের জনগণ অতিষ্ঠ, তারা হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ’কে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আমার বিশ্বাস সে আলোকে নবীনগরের মানুষ আমাকে সমর্থন দিবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্ষমতাসীন দল আসনটি ধরে রাখতে হলে জোট মহাজোট যাই হোক ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রার্থীর বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাও বড় মাপকাঠি হতে পারে।অন্যদিকে বিএনপি জোট তাদের হারানো আসনটি পুনরূদ্ধারে সর্বশক্তি দিয়ে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সেখানেও কোনরকম অনৈক্য বা অমিল তাদের পরাজয়ের কারণও হতে পারে বলে অভিমত।

সংবাদ পড়ুন, লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

Comments

comments

About আওয়াজ অনলাইন

x

Check Also

একজন সংগ্রামী অপ্রতিরোধ্য নারীর প্রতীকী নাম “জয়িতা”

মোঃ খালেদুজ্জামান জনি: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কতৃক আয়োজিত ...

error: Content is protected !!