JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

বরগুনায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল! সুযোগ নিতে চাচ্ছেন বিরোধীদলীয়

বরগুনা থেকে এইচ এম কাওসার মাদবার : সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনার দুটি আসনেই আওয়ামী লীগে অনৈক্য ক্রমশঃ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উভয় আসনেই একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী যেমন সরব রয়েছেন, তেমনি ক্ষমতাসীন দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। আর দলের কোন্দলের পালে বাতাস দিচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকে।জেলার জন্মলগ্ন থেকে বরগুনাতে তিনটি সংসদীয় আসন বিদ্যমান থাকলেও বর্তমানে বরগুনায় মোট সংসদীয় আসন দুটি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসনকে বিলুপ্ত করে জেলায় মোট দুটি সংসদীয় আসন করা হয়। বরগুনা সদর, আমলী ও তালতলী নিয়ে গঠন করা হয় বরগুনা-০১ আসন। অন্যদিক বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা নিয়ে গঠন করা হয় বরগুনা-০২ আসন।বরগুনা-১

এ আসনটিতে বরাবরই আওয়ামী লীগের আধিপত্য। গত দুই যুগের বেশি সময় ধরে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে আসছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ মোট তিনবার নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহ করে তৎকালীন জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন স্বতন্ত্র সাংসদ নির্বাচিত হন। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে ফের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু মনোনয়ন পেয়ে বর্তমান পর্যন্ত পরপর দু’বার নির্বাচিত হন। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের ইর্ষনীয় ঐক্যে ফাঁটল ধরেছে। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি পরিবার কেন্দ্রিক রাজনীতি ও দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্ত নেয়াসহ নানা দ্বন্দের চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের একাংশ শমভুর বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন। এদিকে সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে মশিউর রহমান শিহাব নামের এক ব্যক্তি কয়েক বছর ধরে এলাকায় ব্যানার ফেস্টুন বিলবোর্ডের মাধ্যমে এলাকায় তার রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। শুরুতে তিনি বর্তমান সাংসদের হাত ধরেই এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হয়ে সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করেন। কিন্ত সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি মনোনয়ন চাওয়ার ঘোষণা দিলে বর্তমান সাংসদের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয় এছাড়াও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরওয়ার টুকু, সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শাহজাহান এবার নৌকার মনোনয়ন চাইবেন। বর্তমান সাংসদ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শহরের বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। এছাড়াও মশিউর রহমান শিহাব গত কয়েক বছর ধরে নানা উপলক্ষে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে প্রচারণার পাশাপাশি এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। একইভাবে কামরুল আহসান মহারাজও শহরের কিছু কিছু পয়েন্টে বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যানার সাঁটিয়ে শুভেচ্ছা বার্তার মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশি অন্যদের তেমন প্রচারণা না থাকলেও দলের পক্ষ থেকে জোড়ালো ভাবেই নৌকার মনোনয়ন চাইবেন এমনটা নিশ্চিত করেছেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচন থেকে জোটবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই একজনের পক্ষে কাজ করেছেন এসব নেতারা। ২০০১ সালে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মনোনয়ন চাইলে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং ওই বছরও ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভুকে মনোনয়ন দেয়া হলে দেলোয়ার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। তবে দলীয় নেতাদের অনেকেই শমভুর পক্ষ নেন।

কিন্ত গত দুটি পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অ্যাডভোকেট শাহজাহানকে মনোনয়ন না দেয়া ও কামরুল আহসান মহারাজ মনোনয়ন পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের পক্ষ নেপথ্যে কাজ করার অভিযোগে এ দুজনের সাথে বর্তমান সাংসদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। একইভাবে দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন এবং সাংসদের সাথে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। একইভাবে সাংসদের ছেলে সুনাম দেবনাথ ও জাহাঙ্গীর কবিরের ছেলে জুবায়ের আদনান অনিকের ছাত্রলীগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একইভাবে গোলাম সরওয়ার টুকু গত দু’বারের কাউন্সিলে দলীয় সাধারণ সম্পাদকের দাবি করেও ব্যর্থ হন। সব দায়ভার বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভুর উপর চাপতে থাকে। এক পর্যায়ে এসব নেতা ও তাঁদের অনুসারীরা শমভু বিরোধী জোটে একতাবদ্ধ হন। তারা গত ২৫ জানুয়ারি দুর্নীতি ও অনিয়মের ২৪টি লিখিত অভিযোগ কেন্দ্রে জমা দেন। এরপরপরই মূলত বিরোধ মাঠে গড়ায় এবং পরষ্পরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সভা সমাবেশে বিষোদগার চলতে থাকে। গত ২৮ এপ্রিল সাংসদ শমভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

সবশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অনিয়ম ও দুর্নীতির জনন্য এমপি শমভুকে অবাঞ্চিত ঘোষণা ও এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সিদ্ধান্ত নেয়ায় সভাপতি পদে অনাস্থা দেয়া হয়। এতে সহ সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান মহারাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরওয়ার টুকু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ওলি উল্লাহ ওলিসহ কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে শমভু ও তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, হাইব্রিড কিছু নেতাদের অর্থের কাছে বিক্রি হয়েছেন দলের কয়েকজন নেতা। এলাকায় সাংসদের ইর্ষনীয় উন্নয়নে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তারা স্বয়ং আওয়ামী লীগ, নৌকা ও শেখ হাসিনারই বিরুদ্ধাচারণ শুরু করেছেন। মৌসুমী ওইসব নেতারা স্বার্থসিদ্ধির জন্য দলকে বিভক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যা দলের ও এলাকার কারোর জন্যই মঙ্গলজনক না।

দলীয় হাই কমান্ড এ অবস্থায় সম্প্রতি উভয় পক্ষকে কারণ দর্শানোর জন্য কেন্দ্রে তলব করেছেন। কোন্দলের নিষ্পত্তি না হলে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের দূর্গেও ভাঙন ধরতে পারে বলে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের আশংকা।

আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে পিছিয়ে পড়া বিএনপিও এবার মাঠে সরব রয়েছেন। এ আসনটি থেকে জিয়াউর রহমানের ২য় মেয়াদ ব্যতিত কখনোই জনগণের ভোটে বিএনপি’র কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। দীর্ঘ বছর পর সম্প্রতি বর্তমান জেলা বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক সাংসদ (বরগুনা-৩, আমতলী, তালতলী) মতিউর রহমান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের শ্রম বিষয়ক সহ সম্পাদক ফিরোজ উজ জামান মামুন এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন। সবশেষ কমিটি নিয়ে দ্বন্দের সৃষ্টি হলেও তরুণ নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের মাঠে জোট বাঁধার সম্ভাবনা রয়েছে দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের আধিপত্যের দূর্গে হানা দিতে প্রাণপণ চেষ্টা করবে বিএনপি।

এ আসনের জাতীয় পার্টি থেকে শাহজাহান মানছুরও মনোনয়ন চাইবেন। এছাড়া অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য দলের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই আপাতত ভোটারদের ধারনা।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেই নিশ্চিত নির্বাচিত হবেন এমন ধারনা ও বিগত অভিজ্ঞতার আলোকে মুলত মনোননয়ন প্রাপ্তিটাই এ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বের। তবে দল ও মনোনীত ব্যক্তির সমন্বয় সম্ভব না হলে এ আসনের সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে রাজনৈতিক বোদ্ধাগণের ধারণা।

বরগুনা-২

এ আসনে বর্তমান সাংসদের কর্মকাণ্ডে নাখোশ দল, ভালো আছেন বিএনপি জামায়াত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনার বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগীতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন প্রধান দুইটি দলের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন প্রত্যাশিরা মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০০৮ সালে গোলাম সবুর টুলু নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন। ২০১৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গোলাম সবুর টুলুর মৃত্যু হয়। পরে উপনির্বাচনে তৎকালীন পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত হাসানুর রহমান রিমনকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গোলাম সরওয়ার হিরুকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। দশম সংসদ নির্বাচনেও রিমন মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন।

তবে বর্তমান সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। রিমনের বাবা খলিলুর রহমান বরগুনা মহাকুমার রাজাকারদের কমান্ডার ছিলেন। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। পাশাপাশি বিএনপি জামায়াতের তাঁর সখ্যতা ও ঘনিষ্ঠতায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে মতাদর্শগত বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নিজ হাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের মারধর করা, নেতা- কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে বিতর্কিত ও সমালোচিত ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতায় পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী তিন উপজেলারই দলীয় শীর্ষ নেতারা সাংসদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিজ দলের নেতাদের সাথেও তার সু-সম্পর্ক নেই বললেই চলে।

গত রমজান মাসে পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে ইফতার মাহফিলে পাথরঘাটা উপজেলা আ.লীগ সভাপতি আলমগীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাবির হোসেন প্রকাশ্যে সাংসদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এসময় তারা পাথরঘাটা পৌরসভার বিতর্কিত একজন কাউন্সিলরের মাদক ব্যবসায় রিমনের সহযোগীতার উল্লেখ করে ‘এমপির গাড়িতে পাথরঘাটায় মাদক ঢোকে এ মর্মে বক্তব্য দেন। গত বছরের শেষের দিকে পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদকসহ উপজেলা ছাত্রলীগের ছয়জনের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের অভিযোগ ছিল, সাংসদ রিমনের অনুসারি হিসেবেই সভাপতি রুহি আনান দানিয়েল সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম নির্বাচিত হয়েছিলেন। একইভাবে তিনি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিতে দলীয় নেতাদের পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পছন্দমত কমিটি দেয়ায় মূলত দলের সাথে তাঁর দুরত্ব ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

এছাড়াও সাংসদ রিমন বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে সমালোচিত হয়েছেন। বিশেষ করে সালিশে এক নারীর মাথায় বিষ্ঠা ঢালার নির্দেশ দেয়া এবং সম্প্রতি ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদি জেলা তাঁতীলীগের সভাপতিকে নিজ হাতে মারধর করায় সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা রুজু হয়েছে।

এছাড়াও পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল কাদেরকে সুপারিশ করে মাদ্রাসার সুপার হিসেবে নিয়োগ প্রদান, উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে জামায়াতেন রোকন সদস্যর বাড়ি ভাড়া নেয়া, দলীয় ও জাতীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে গা ছাড়া ভাব নিয়ে দলীয় নেতারাই বিভিন্ন সময়ে সাংসদের সমালোচনা মুখর রয়েছেন। রিমনের বিরুদ্ধ সালিসের নামে একাধিক স্থানে জমি দখল, ও অবৈধ রেনু পোনা ব্যবসায় শেয়ারেরও অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে দলের সাথে সু সম্পর্ক বজায় রাখতে যেমন ব্যর্থ হয়েছেন অপরদিকে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য নেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগ রিমনের কাছে দলকে এক প্রকার অনিরাপদই ভাবে।

আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনেরর নেতা-কর্মীদের বাগে এনে নিজের অবস্থান তৈরী করতে সমর্থ হয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সুভাষ হাওলাদার। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্যানার ফেস্টুন সাঁটিয়ে এলাকায় আগমনী বার্তা জানান দিলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৫ বছর ধরে তিনি মাঠে রয়েছেন। বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন। ফলে তিনি মোটামুটি জনগণের আস্থা অর্জনে সমর্থ হয়েছেন।

এ আসন থেকে বর্তমান সাংসদ ও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সুভাষ হাওলাদার ছাড়াও বর্তমান সংরক্ষিত আসনের সদস্য নাসিমা ফেরদৌসি, সাবেক এমপি গোলাম সবুর টুলুর কন্যা ফারজানা সবুর রুমকি, বাংলাদেশ খ্রিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের বরগুনা জেলার উপদেষ্টা এন্টুনি গোমেজ, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাবির হোসেন, বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুন অর-রশীদ, পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন, বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা প্রমুখ।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী, দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য আলহজ্ব নুরুল ইসলাম মনি, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা জেলা বিএনপির যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মো: ছগির হোসেন লিওন, কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা ও বরগুনা জেলা বিএনপির যুগ্ন-সাধারণসম্পাদক মো: মনিরুজ্জামান মনির, কেন্দ্রেীয় ওলামা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক লন্ডন প্রবাসি মাওলানা শামীম আহম্মেদ প্রমুখ।

এছাড়া আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী গোলাম সরোয়ার হিরু। ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, এরপর ১৯৯৬ সালে ইসলামী আন্দোলন থেকে মনোনায়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

Attachments area

Comments

comments

About গণমানুষের আওয়াজ.কম

x

Check Also

শ্রীপুরে মাদক বিরোধী অভিযানে নারীসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী আটক

শ্রীপুর,গাজীপুর প্রতিনিধি আব্দুর রউফ রুবেল: গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারীসহ ৫ মাদক ...

error: Content is protected !!