JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

উল্লাপাড়া কৃষি কর্মকর্তা খিজির হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

হুমায়ুন কবির সুমন,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : উল্লাপাড়াকৃষি কর্মকর্তা খিজির হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কর্মস্থলে না থেকে প্রাইভেটকার নিয়ে মাঝে মধ্যে বগুড়া থেকে অফিস করেন তিনি। দাপুটে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স¤প্রতি উপজেলার তিন ফসলী জমিতে ব্যক্তি সুবিধা নিয়ে একাধিক অবৈধ ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি দেয়া সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এই কর্মকতার নানা অনিয়ম দুর্নীতির কারনে উল­াপাড়ার কৃষি অফিসের কর্মকতার কর্মচারীদের মধ্যেও চরম ক্ষোভের সৃষ্ট হয়েছে। তার অনিয়ম দুর্নীতি ও জালিয়াতি নিয়ে গত কয়েকদিন বিভিন্ন টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে এ উপজেলায় কর্মরত থেকে ওই কর্মকতা ব্যক্তি সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তিন ফসলী উর্বর জমিতে নতুন নতুন ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন। তার সময়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলী জমিতে একাধিক ইটভাটা স্থাপন হয়েছে।

কৃষি জমিতে এসব ইটভাটা স্থাপন হওয়ায় চরম হুমকিকে পড়েছে উল­াপাড়ার কৃষি অর্থনীতিতে। এই ইটভাটার কারনে একদিকে যেমন কৃষি জমি কমে গেছে, অন্যদিকে কৃষি জমি থেকে উর্বর টপ সয়েল মাটি কেটে তৈরী হচ্ছে ইট। কৃষি জমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহার হওয়ায় কৃষি জমি অকৃষি জমিতে পরিনত এবং ইটভাটার নিগত ধোঁয়ায় কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনে বিরুপ পড়েছে।

বিভিন্ন এলাকার মাঠে ফসল মরে যাওয়া সহ নানা মরগ দেখা দিয়েছে। ইটভাটাগুলোর আগ্রাসি মাটি সংগ্রহের কারনে উপজেলার মাঠের পর মাঠ কৃষি জমি পুকুর ডোবায় পরিনত হয়েছে। উল­াপাড়া কৃষি কর্মকর্তা খিজির হোসেনের জানান তিন ফসলি জমিতে কাউকে ভাটা করার জন্য অনুমতি দেয়নি তবে একটি ভাটা নিয়ে সমস্য চলছে আমি নাকি টাকা নিয়ে ভাটার অনুমতি দিয়েছি।

ইটভাটাগুলো চলছে কৃষি জমির মাটি বেচাকেনার রমরমা বানিজ্য। স¤প্রতি সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমিতে কৃষি কর্মকতাকে ম্যানেজ করে রাতারাতি ইটভাটা স্থাপনের খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় তোলপাড় চলছে। ওই কর্মকতাকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে গত বছর তিন ফসলী কৃষি জমিতে বেশ কয়েকটা অবৈধ ইটভাটা স্থাপন হয়েছে। এর মধ্য উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের বক্ষকপালিয়া মাঠে তিন ফসলী জমিতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বেঙ্গল বিকস নামে ইটভাটা স্থাপনের ছাড়পত্র দেন তিনি।

এ ভাটার মালিক জামায়াতের ইসলামী ইটালী শাখার সভাপতি ও উল­াপাড়া উপজেলা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা মো. জাহিদ হোসেন মিন্টু। এ বছরও চলছে কয়েকটি ইটভাটা তৈরীর কাজ। তার মধ্যে উপজেলার রানী নগর এলাকায় বিএডিসি প্রজেক্টের জমিকে ৬ মাস জলাবদ্ধতা দেখিয়ে ইটভাটা স্থাপনের প্রত্যয়ন দিয়েছেন। সেখানে এখন ইটভাটা তৈরীর কাজ চলছে। এ উপজেলায় তাকে ম্যানেজ করে এভাবে চলছে একের পর এক ইটভাটা।

এভাবে ফসলী জমিতে ইটভাটা স্থাপন হওয়ায় উল­াপাড়ার কৃষি উৎপাদনে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। এই কর্মকতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কর্মস্থলে পরিবার নিয়ে অবস্থান করার কথা থাকলেও তিনি থাকেন বগুড়ায়। বগুড়া থেকে সপ্তাহে মাঝে মধ্যে বিলাশবহুল প্রাইভেটকার নিয়ে অফিসে এসে সপ্তাহের গড় হাজিরা দেন। অফিসে তাকে খোঁজ করা হলে জানানো হয় তিনি মাঠে আছে। মুঠোফোনে তার অবস্থান জানতে চাইলে তিনি প্রত্যন্ত এলাকায় মাঠে রয়েছেন বলে জানান।

তার এই কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন সহ স্থানীয়দের সবার জানা। মাঝে মাঝে কর্মস্থলে এসে অফিসের কর্মচারীদের সাথে অসধ আচারন করে থাকেন। তার নিজের কাজ করান সহকারী কর্মকতাদের দিয়ে। এই কর্মকতা উপজেলা কৃষি অফিসের সরকারী মোটরসাইকেলটি প্রকাশ্য ডাক বাংলোর পিয়নকে দিয়ে ব্যবহার করাচ্ছেন দিনের পর দিন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এই কর্মকতার সেচ্ছাচারিতায় ক্ষোভ তার অফিসের কর্মচারীদের মধ্যেও।

কথিত আছে তিনি কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এ উপজেলায় নিয়মের বাইরে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। খোদ উপজেলা কৃষি কর্মকতার এমন অনিয়মে উল­াপাড়া কৃষি অফিসের মাঠ কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। তার এহেন কর্মকান্ড নিয়ে উর্ধবতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অপরদিকে উল­াপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের রাণীনগরে বিএডিসির সেচ এর সম্পত্তিতে জোরপূর্বক ইটভাটা নির্মানের অভিযোগ উঠেছে ।

এলাকাবাসির অভিযোগ সুত্রে জানাযায়,উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের রাণীনগর গ্রামে বিএডিসির গভীর নলকুপ (নং-ইউএলপি-০৪-জেএল নং ৪৭,দাগ নং-১০১৭)এর ৩ খন্দ ও ২ খন্দ আবাদকৃত ফসলি জমি যেখানে ধান, পাট, সরিষা সহ বিভিন্ন ফসল আবাদি জমিতে গ্রামের নিয়াজ মোর্শেদ নামে ক্ষমতাসিন দলের নেতা পরিচয় প্রদানকারি স্থানিয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি অবৈধ্যভাবে জোরপূর্বক খতিয়ান নং-১০৪৫-৮২৩,জেএল নং ৪৭,দাগ নং-৭৮৯-৭৯৯নং জমি বেদখল করে বিএডিসির গভীর নলকুপ সেচএর সম্পত্তিতে অবৈধ্য ইটভাটা নির্মানের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জমির মালিক, স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসিরা জানান, উপজেলার রাণীনগরে পূর্বপুরুষের ন্যায় নিজেদের জমিতে নিজেরা ফসল আবাদ করে আসছিল। উক্ত ৩ খন্দ ও ২ খন্দ আবাদকৃত ফসলি জমিতে আরো ভালভাবে ফসল আবাদের লক্ষে স্থানিয়জমির মালিক ও কৃষকেরা নিজেরা একতা বদ্ধহয়ে সমবায় গঠন করে সমবায়ের পদ্ধতিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএডিসির গভীর নলকুপ (ইউএলপি) সেচপাম্প স্থাপন এবং প্রি-পেইড মিটার লাগিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জমিতে ধান, পাট, সরিষা সহ বিভিন্ন ফসল চাষাআবাদ করে আসছে।

এছাড়াও উক্ত সেচ কাজে গভীর নলকুপ অধিকতর কার্যকর করার লক্ষে বিএডিসির গভীর নলকুপ সেচ কর্তৃপক্ষ উক্তজমিকে সম্পূর্ন্য স্কৃমের আওতায় এনে পিভিসি পাইপ লাগিয়ে এবং আন্ডার গ্রাউন্ড ড্রেন নির্মাণএর মাধ্যমে পাণি সরবরাহ করে আসছে।

এতেকরে প্রায় ২৭০/২৮০ বিঘা জমিতে নিয়মিত ভাবে ফসল চাষাবাদ করে আসছে। উক্ত বিএডিসির গভীর নলকুপ সেচ এর মাধ্যমে ৩ খন্দ ও ২ খন্দ আবাদকৃত ফসলি জমিতে স্থানিয় নিয়াজ মোর্শেদ নামে ক্ষমতাসিন দলের নেতা পরিচয় প্রদানকারি এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি জোরপূর্বক অবৈধ্যভাবে ইটভাটা ণির্মানের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরিপ্রেক্ষিতে জমির মালিক ও স্থানিয় কৃষকগন ৩ খন্দ ও ২ খন্দ আবাদকৃত ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মানের প্রতিবাদ জানিয়ে উক্ত ইটভাটা উচ্ছেদ করার দাবী জানিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সভাপতি জেলা সেচ কমিটি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার উল­াপাড়া ও সভাপতি উপজেলা সেচ কমিটি, পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় নিশিন্ধারা বগুড়া, পুলিশ সুপার সিরাজগঞ্জ,নির্বাহী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) বিএডিসি উল্লাপাড়া জোন সিরাজগঞ্জ সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত পত্র দ্বাড়া অবৈধভাবে নির্মানকৃত ইটভাটা উচ্ছেদ করার দাবী জানিয়ে অভিযোগ দাখিল করেন।

এরপরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষখেকে উক্ত অবৈধভাবে নির্মানকৃত ইটভাটা উচ্ছেদ করার নির্দেশনা প্রদান করলেও প্রশাসনের নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে ইটভাটা নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত ইটভাটা উচ্ছেদ করার দাবী জানিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল ৭১ এবং যমুনা টেলিভিশন সহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

Comments

comments

About গণমানুষের আওয়াজ.কম

x

Check Also

উলিপুরে বিদ্যূৎস্পৃষ্ট হয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মান শ্রমিক নিহত

মোকছেদুল মমিন, উলিপুর তকুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিদ্যূৎস্পৃষ্ট হয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মান শ্রমিক নিহত ...

error: Content is protected !!