JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

উত্তরাঞ্চলের তাঁতশিল্প টিকে রাখতে পারছেনা তাঁতীরা

মোঃ ফিরোজ সরদার (রুমন) কাহালু বগুড়া প্রতিনিধিঃ উত্তরাঞ্চলের বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধার তাঁত শিল্পের বিকাশের জন্য আশির দশকে বগুড়ার কাহালু উপজেলায় সরকারিভাবে তাঁত বোর্ডের বেসিক সেন্টার নির্মাণ করা হয়। বেসিক সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এখান থেকেই উত্তরাঞ্চলের চার জেলার তাঁত শিল্পের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বেসিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা লগ্নে তাঁতীরা অনেকটা উদ্দিপনা নিয়ে তাদের তাঁত চালিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন বাপ-দাদার আদি এই পেশা ধরে রাখতে পারছেনা তাঁতী পরিবার গুলো। বেসিক সেন্টার চালু হওয়ার পর তাঁতীরা যাতে তাঁত শিল্প ধরে রাখতে পারে তার জন্য তাঁতীদের মধ্যে চালু করা হয় ঋন সুবিধা। এছাড়াও নতুন নতুন তাঁতী ও দক্ষ কারিগর তৈরীর জন্য সরকারি অর্থে প্রশিক্ষন দেওয়া হয় তাঁতীদের। তারপর নানা প্রতিকুলতায় তাঁতীরা তাদের তাঁত শিল্প টিকে রাখতে পারছেনা।

কাহালু তাঁত বোর্ডের বেসিক সেন্টার কতৃপক্ষ বলছে তাঁতীরা এখন অনেক ভালো অবস্থানে আছে। আগের চেয়ে তাঁত বেশী হয়েছে। এদিকে বিভিন্ন গ্রামে সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তার উল্টো চিত্র। অধিকাংশ গ্রামের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ তাঁতীই অভাব-অনটনের কারনে তাঁত বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে গেছে। কাহালু বেসিক সেন্টারের তথ্যমতে বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় রয়েছে ৫ হাজার ৬১৫ তাঁতী পরিবার। শ্রমিকসহ তাঁতী পেশায় নিয়োজিত রয়েছে ১১ হাজার ৫৫২ জন। আর তাঁত রয়েছে ৬ হাজার ৭০০ টি। তাঁত শিল্পের উপর প্রশিক্ষন নিয়েছে ৪৫০ জন তাঁতী।

১ হাজার ৯৫৫ জন তাঁতীকে ঘুর্ণায়মানভাবে ঋন দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ টাকা। ঋন আদায় হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বেসিক সেন্টারের তথ্যমতে ঋন আদায় সন্তোষজনক। এদিকে বেশ কয়েক জন্য তাঁতী সমিতির নেতা ও তাঁতীরা জানিয়েছেন তারা বংশ পরম্পরায় তাঁত চালিয়ে সংসার চালালও এখন তা আর পারছেনা।

তাঁত শিল্পের জন্য সুল্ক মুক্ত সুতা আমদানী করা হলেও তাঁতীদের মতে সুতার দাম বৃদ্ধি ছাড়া কমতি নেই। সুতা ও রং এর দাম বৃদ্ধি হয়েছে কিন্ত তাদের তৈরী করা শাড়ী, চাদর, গামছা ও মশারীর দাম সেই তুলনায় বৃদ্ধি হয়নি। যারফলে তাঁতের কাজ করে আর তারা সংসার চালাতে পারছেনা। জয়পুরহাট জেলার কালাই তাঁতী সমিটির নেতা এনামুল জানান, তাঁত শিল্পের অবস্থা খবি একটা ভালো নেই।

তাঁতের কাজ অনেকের সংসার চলেনা। অনেকে বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার আদি পশা ছেড়ে জীবন-জীবিকার ত্যাগিদে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। তার তথ্যমতে তাদের এলাকায় আগে তাঁতের সংখ্যা ছিলো প্রায় ৮৫ টি। এখন সেখানে তাঁতের সংখ্যা কমে ৪৮ টিতে নেমে এসেছে। তারমতে কোনো তাঁতী পরিবারই বলতে পারবেনা তারা ভালো আছে।

যারা তাঁত শিল্প ধরে রেখেছে তারা তাঁতের পাশাপাশি অন্য কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে । কারন হিসেবে তিনি উলে­খ করেছেন এখন ১০ হাজার টাকার সুতা কিনে ১ মাস ধরে পরিশ্রম করে তৈরী করেন গামছাসহ অন্যান্য জিনিস। ১০ হাজার টাকার তৈরী করা জিনিস বিক্রি হয় এখন মাত্র ১৩ হাজার টাকায়। মাসে ৩ হাজার টাকা লাভ করে কোনো পরিবারই সংসার চালাতে পারবেনা।

দুপচাঁচিয়া উপজেলার দেবখন্ড গ্রামের শাহাজাহান জানান, তিনি সুতা দিয়ে প্রায় ৪৫ জনের কাছ থেকে গামছা ও চাদর তৈরী করে নেন। সুতার দাম বেশী হওয়ায় এখন তার লাভ খুবই কম হচ্ছে। তিনিও স্বীকার করলেন আগে যত তাঁত ছিলো তার চেয়ে তাঁত অনেকটা কমে গেছে। কাহালু উপজেলার মালঞ্চার জবেদ আলী জানান, আগে তার তাঁত ছিলো ৫ টি। তাঁত শিল্পের ভালো অবস্থা না থাকায় তিনি এখন মাত্র একটি তাঁত চালাচ্ছেন। তারমতে আগে ১ মোড়া সুতা কিনেছে ৩৫ টাকায়।

এখন ১ মোড়া সুতার দাম ৪৫ টাকা হলেও তার তৈরী করা জিনিসের দাম বাড়েনি। কাহালুর বুড়ইল গ্রামের আঃ খালেক জানান, তার আগে তাঁত ছিলো ৫ টি। তাঁতের কাজ করে সংসার চালাতে না পেরে তিনি একটি তাঁত রেখে বাঁকী সব গুলো বন্ধ করে দিয়েছে। বাড়িতে তার পরিবারের লোকজন তাঁত চালায় আর তিনি অন্য কাজ করে সংসার চালান।

বুড়ইল গ্রামের আম্বিয়া জানান, তিনি আগে তাঁতের কাজ করতেন। তাঁত চালিয়ে সংসার না চলায় এখন তিনি দর্জির কাজ করছেন। বুড়ইল গ্রামের সাহিদা জানান, তাদের গ্রামে আগে প্রায় ১৫০ টির মত তাঁত ছিলো। তাঁতীরা অভাবের তাড়নায় প্রায় সব গুলো তাঁত বন্ধ করে এখন অন্য কাজ করছেন। বুড়ইল গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, কারিগর পাড়ার প্রত্যেক ঘরেই ছিলো তাঁত।

এখন এই গ্রামে আছে ১০ টি বেশী তাঁত চালানোর লোক খুজে পাওা যাবেনা। কাহালু তাঁত বোর্ডের বেসিক সেন্টারের লিয়াজো কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া হোসেন জানান, আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি তাঁত শিল্প টিকে রাখার জন্য। সুতার দাম কিছুটা বেশী হলেও কোনো তাঁতীই লোকসানে নেই। তারমতে তাঁত শিল্প ভালো অবস্থানেই রয়েছে।

সংবাদ পড়ুন, লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

Comments

comments

About গণমানুষের আওয়াজ.কম

x

Check Also

অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের প্রচারণায় ছাত্রলীগ

মো.মোজাম্মেল ভূঁইয়া, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ...

error: Content is protected !!