JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:
Home / অর্থনীতি / উত্তোলন শুরুর নয় মাসেই রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রে মজুদ শেষ
উত্তোলন শুরুর নয় মাসেই রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রে মজুদ শেষ

উত্তোলন শুরুর নয় মাসেই রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রে মজুদ শেষ

আওয়াজ অনলাইন : উত্তোলন শুরুর নয় মাসের মধ্যেই মজুদ ফুরিয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের। দশমিক ৬৮ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলনের পর গ্যাসক্ষেত্রটির কূপে আর গ্যাস খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন লিমিটেড (বাপেক্স)। যদিও কূপটিতে মোট ৩৪ বিসিএফ গ্যাসের মজুদ ছিল বলে আগে দাবি করেছিল সংস্থাটি।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে দেশের ২৬তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে আবিষ্কার হয় রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র। পাইপলাইন নির্মাণসহ নানা জটিলতার কারণে সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু করতে সময় লেগে যায় আরো তিন বছর।

এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় গত বছরের ২৭ মার্চ। গ্যাসক্ষেত্রের এক নম্বর কূপ থেকে প্রতিদিন ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছিল। রূপগঞ্জ-কামতা সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে এ উত্তোলিত গ্যাস নিজস্ব বিতরণ এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল)।

কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দশমিক ৬৮ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করার পরেই গ্যাসক্ষেত্রটির মজুদ গ্যাস ফুরিয়ে যায়। এরপর গত সাত মাসে দুয়েকদিন ছাড়া কূপটি থেকে আর কোনো গ্যাস উত্তোলিত হয়নি। অথচ ক্ষেত্রটিতে প্রায় ৩৪ বিসিএফ (বিলিয়ন ঘণফুট) গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে দাবি করেছিল বাপেক্স।

এ বিষয়ে বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন) এবিএম মহিউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আাামি এ বিষয়ে কিছু জানি না। কী হয়েছে সেটা আমাদের জনসংযোগ বিভাগ জানে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মজুদ নির্ধারণে অদক্ষতার কারণে গ্যাসক্ষেত্রটি নিয়ে এ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। আবার কারো কারো অভিযোগ, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করলে বাপেক্স কর্মকর্তাদের যে বোনাস দেয়া হয়, তারই লোভে এর মজুদ বেশি দেখানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে অভিমত জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষক ড. বদরুল ইমাম বণিক বার্তাকে বলেন, রূপগঞ্জকে আলাদা গ্যাসক্ষেত্র ঘোষণা করাই ছিল বিতর্কিত। এটা খুবই ছোট একটি কূপ। ধারণা করা হচ্ছে, এটা পার্শ্ববর্তী কামতা গ্যাসক্ষেত্রেরই অংশ। এ গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে অন্তত আমাদের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি রূপগঞ্জে কূপ খনন শুরু করে বাপেক্স। ৩ হাজার ৬১৫ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করে গ্যাসের সন্ধান পায় প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে বাপেক্স ২০১০ সালে রূপগঞ্জে দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ করে। এতেও সেখানে গ্যাস থাকার ধারণা পাওয়া যায়।

দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪১২ কোটি ঘনফুট। কিন্তু দেশীয় গ্যাস কূপগুলো থেকে উৎপাদন ও সরবরাহ হচ্ছে ২৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে সংকট থাকছে ১৩২ কোটি ঘনফুটের। নতুন গ্যাসক্ষেত্র শনাক্ত করতে না পারায় চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

জ্বালানি সংকট সমাধানে বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে সরকার। এরই মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ ও ব্যবহার শুরুর প্রস্তুতি নেয়া শেষ হয়েছে।

দুই মাস আগে থেকেই জাতীয় গ্রিডে এ গ্যাস যোগ হওয়ার কথা থাকলেও, সাব-সি পাইপলাইনে ছিদ্র পাওয়া যাওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সঞ্চালন লাইন নির্মাণের জটিলতায় তা এখনো শুরু করা যায়নি।

সূত্র: বনিক বার্তা। /এইচ.

Comments

comments

About গণমানুষের আওয়াজ.কম

Scroll To Top
error: Content is protected !!