JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

ইতিহাসে নারায়ণগঞ্জ

মোঃ কবির হোসেন,

শীতলক্ষা তীরের নারায়ণগঞ্জ জেলার ইতিহাসের শুরু সু-প্রাচীন সমরিূদ্ধ নগরী সুবর্নগ্রাম বা সোনারগাঁয়ের জন্মলগ্ন থেকে। পৌড়ানিক সুত্র মতে সুবর্নগ্রামটি ৩ হাজার বছরের অধিক প্রাচীন জনপদ হিসেবে চিনহীত করা যায়। মসলীন’র ক্রয়-বিক্রয় অতি প্রাচীন কাল হতেই সুবর্নগ্রাম থেকে সম্পন্ন হতো।কৌটিল্লের অর্থ শাশ্রে, বঙ্গের সুক্ষ বস্রের উল্লেখ আছে।

এ সুক্ষবস্র নিশ্বন্দেহে মুসলীন, প্রচীন কালের মিহি মুসলীন কাপরের উত্তরাধীকার হিসেবে এ অঞ্চলের জামদানি শাড়ি আজও বাঙালী নারীদের আভিজাত্তের পোষাক, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বর্হিবিশ্বে এর কদর ক্রমেই বেরে চলেছে।

ঐতিহাসিক স্বরূপচন্দ্র রায়ের মতে সুবর্নগ্রাম একটি প্রাচীন গ্রাম, বদ্ধ আমলে সুবর্নগ্রাম সুর, পাল, দেবরাজাদের রাজধানি হিসেবে মর্যাদা পেয়ে ছিলো। এই ইতিহাস বানিজ্যের, এই ইতিহাস শিল্প-কুশলতার, এই ইতিহাস এক স্বাধীনতা প্রিয় জনপদের।

১৩১০ খ্রি: সুলতান বাহাদুর শাহ্ এবং তার পিতা ফিরোজ শাহ্ সোনারগাঁয়ের টাকশাল থেকে প্রচার করেন নিজেদের মোহরাঙ্কিত স্বর্ন মুদ্রা যা ছিলো স্বাধীনতার প্রতিক।

১৩৩৮ খ্রি: ফকরুদ্দীন মোবারক শাহ্ সিংহাসনে বসার পর সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। তারপর থেকে ক্রমান্নয়ে শিল্প, সংস্কৃতি, বানিজ্য আর শিক্ষার উৎকর্ষে সোনারগাঁ হয়ে উঠে বিশ্বের এক অগ্রগণ্য নগরী।

১৩৪৫ খ্রি: বিখ্যাত পরিক রাজক ইবনে বদূতা, সোনারগাঁ ভ্রমন করেন এবং তার সফরনামায় সোনারগাঁকে উল্লেখ করেন এক শমরিূদ্ধ বানিজ্যিক নগরী হিসেবে।

১৩৯৩ খ্রি: সিংহাসনে বসেন সুলতান আমলের সবচেয়ে যোগ্য শাশক বলে খ্যাত, সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ্, পারোশ্ব্যের জগত খ্যাত কবি হাফিজকে সোনারগাঁয়ে আমন্ত্রন জানালে এ সংস্কৃতিবান সুলতানের জন্য কবি রচনা করেন তার অমর কাব্য হাফিজ-ই দেওয়ান।

১৫৬০ খ্রি: সোনারগাঁয়ের মশনদে অধিষ্ঠিত হন বারো ভূইয়া প্রধান ঈশাখাঁ, সোনারগাঁ থেকে এ বীরযোদ্ধা বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই করে যান, কথিত আছে তিনি এ যোদ্ধে মোঘল সেনাপতি মানসিংহকে পরাস্ত করেন, ১৫৯৯ সালে তার মৃত্যুর পর থেকেই সোনারগাঁয়ের গৌরব ম্লান হতে শুরু করে, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তার পুত্র মুসাখাঁ।

১৬০৮ খ্রি: দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাশন আমলে বাংলার রাজধানী সোনারগাঁ থেকে স্থনান্তরিত হয় ঢাকায়। সোনারগাঁ হয়ে যায় এক বিশ্রিত নগরী, ঊনিশ শতকের শেষের দিকে আবার নতুন করে গুরুত্ব্ পেতে শুরু করে সোনারগাঁ, এবং ১৯৭৬ সালে লোকশিল্প যাদুঘর স্থাপনের কারনে সাবার গোচরে আসে।

কিন্তু থেমে থাকে না নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস, জলপথের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচণায় মগ আর আরাকান শত্রুর মোকাবেলার প্রয়োজনে এখানে মোঘলারা তৈরি করেন, হাজিগঞ্জ দূর্গ, সোনাকান্দা দূর্গ।

১৬৬৫ খ্রি: ইস্টইন্ডিয়া কম্পানি বাংলার দেয়ানি লাভ করে বানিজ্য কুটি স্থাপন করে নারায়ণগঞ্জের বন্দর সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য, লবনের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠে এখানে, এ ব্যবসায় ভাগ্য ফিরে পাওয়া ধর্মপ্রান বীকনলাল ঠাকুর দেবতা নারায়ণের নামে প্রতিষ্ঠিত আখরার খরছ জোগাতে শীতলক্ষা পারের বাজার গুলোকে দেবোত্তোর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষনা করেন, ক্রমেই তা গঞ্জে পরিনত হয়, প্রতিষ্ঠা পায় নারায়ণগঞ্জ নামে।

১৭৯১ খ্রি: বোর্ড অফ ট্রে পাটের বানিজ্যিক সম্ভবনা যাচাইয়ের জন্য লন্ডনে নমুনা পাঠায়, এবং ১৮৩২ সালে ড্যান্ডি শহরের দুটি কারখানা হতে সুতা তৈরিতে সক্ষম হয়। পাট শিল্পে ড্যান্ডির এ সাফল্য নারায়ণগঞ্জে বানিজ্যিক মেরুকরন ঘটায়, শুধু কাচা পাটের বাজার জাত করন নয় বরং গোটা পাট শিল্পের অন্যতম প্রধান কেদ্র হয়ে উঠে এই নারায়ণগঞ্জ। এবং পরিচিতি পায় প্রাচ্যের ড্যান্ডি নামে, বানিজ্যের টানে দলে দলে ইংরেজ ও ইউরোপিয়রা সহ অন্যান্যরা এখানে আসতে থাকে, দ্রুত বদলাতে থাকে দৃশ্বপট, ইস্টইন্ডিয়া কম্পানীর বানিজ্যিক কাযক্রম ও চিরস্থায়ী বন্দস্তের ফলে ইউরোপিয় অনুপ্রেরনায় নতুন ওপেনবেশিক স্থাপক তৈরিতে গড়ে উঠে পানাম নগরী। বাড়িগুলোর স্থাপত্বে ওপেনবেশিকতা ছাড়াও মোঘল, কৃত এবং গান্ধাড়া স্থাপত্বশৈলীর সাথে স্থানীয় কারিগরদের শিল্পকুশলতার অপূর্ব সংমিশ্রন দেখা যায়। প্রতিটি বাড়ি এ ব্যবহার উপযোগিতা, কারুকাজ, রঙের ব্যবহার এবং নির্মন কৌশলের দিক দিয়ে উধভবানিয়তায় ভরপুর।

১৮৬২ খ্রি: স্টিমার সার্ভিস চালুর কারনে নারায়নগঞ্জ হয়ে উঠে পূর্ব বাংলার প্রবেশপথ, যে কারনে এ উপমহাদোশের এবং উপমহাদেশে আগত বিক্ষাত ব্যক্তিবর্গ কোন না কোন সময়ে নারায়ণগঞ্জে পা রেখেছেন। লর্জ কার্জন, নেতাজি সুভাস বোস, মহাত্বা গান্ধী, বিশ্ব কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহি কবি কাজী নজরুল ইসলাম,  কে আসেননি এখানে, নেতাজি সুভাস বোস, ৭ নভেম্বর ১৯৩১ সালে গ্রেফতার হয়ে ছিলেন এই স্টিমার ঘাট থেকেই।

১৮৭৬ খ্রি: ঘটিত হয় নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, ১৮৮০ খ্রি: নারায়ণগঞ্জকে ফ্রী পোর্ট বা শুল্কমুক্ত বন্দর হিসেবে ঘোষনা করা হয়। ১৮৮২ খ্রি: নারায়ণগঞ্জ মহকুময় উন্নিত হয়। ১৮৮৫ খ্রি: ঢাকাকে ট্রানজিট করে উদ্বোধন করা হয় নারায়ণগঞ্জ-মায়মনসি রেল ট্রেক, যা ছিলো পূর্ববঙ্গে প্রথম। ১৮৯৩ খ্রি: ইউরোপিয়ান ক্লাব নাম নিয়ে স্থাপিত হয় পূর্ববঙ্গের প্রথম ক্লাব যা এখন নারায়ণগঞ্জ ক্লাব হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৪ খ্রি: নারায়ণগঞ্জ জেলা হিসেবে পরিচিতি পায়।২০১১ সালে ঘটিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারনা প্রধানের জন্য সকলকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ প্রকাশ করছি।

Comments

comments

About গণমানুষের আওয়াজ.কম

x

Check Also

বিকল্পধারার নামে দল গঠন হাস্যকর-মাহী বি. চৌধুরী

আওয়াজ অনলাইনঃ বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাহী বি. চৌধুরী বলেছেন, যারা বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ...

error: Content is protected !!