Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Home » জাতীয় » ইউনিসেফের ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ পুরস্কার নিলেন প্রধানমন্ত্রী
ইউনিসেফের ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ পুরস্কার নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইউনিসেফের ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ পুরস্কার নিলেন প্রধানমন্ত্রী

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ইউএন প্লাজার ইউনিসেফ ভবনের ল্যাবুইসে হলে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) প্রদত্ত এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। ইউনিসেফ’র নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেন এবং ইউনিসেফে’র শুভেচ্ছা দূত এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। পুরস্কার গ্রহণকালে এটি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের জনগণ বিশেষ করে দেশের সকল শিশু এবং সমগ্র বিশ্বের শিশুদের প্রতি তিনি তা উৎসর্গ করেন এবং বলেন, ‘বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে দেশের সকল শিশুর এবং সমগ্র বিশ্বের শিশুদেরই এই স্বীকৃতি প্রাপ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সম্মান আমার একার জন্য নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের কেননা বাংলাদেশের জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে বলেই আমি তাঁদের সেবা করার সুযোগটা পেয়েছি। সেই সুযোগের জন্যই আমার এই পুরস্কার লাভ।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিজ নিজ এলাকার বিদ্যালয়গুলো যেগুলোতে অতীতে তারা লেখাপড়া করেছেন সেগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

দেশের লাখ লাখ তরুণ তাঁদের দক্ষতার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে আমাদের জীবন এবং জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন সাধনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই স্বীকৃতি বাংলাদেশে একটি দায়িত্বপূর্ণ এবং জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ এবং অর্থনীতি বিনির্মাণে আমাদের দৃঢ় পদক্ষেপের পরিচায়ক।’

জাতি গঠনে তরুণদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির যেকোনো প্রয়োজনের মুহূর্তে আমাদের যুব সমাজ অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করে এসেছে।’ দেশের যুব সমাজকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে লাগানোয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতাই এটা প্রথম অনুধাবন করেছিলেন যে, তরুণ-যুবাদের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারলে উন্নতি করা সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি জ্ঞান সমৃদ্ধ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যারা যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগিতা করবে। যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে। আমরা এসব তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে তাঁদের জন্য যথাযথ জ্ঞান এবং দক্ষতা বৃদ্ধির নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তাঁদেরকে আমরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠাতেও উৎসাহিত করছি।’

তিনি বলেন,‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্থানীয় এবং বৈশ্বিক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে যুগোপযোগীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার দেশের একশ’টি উপজেলায় কারিগরি বিদ্যালয় এবং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলাতেই এ ধরনের বিদ্যালয় এবং কলেজ স্থাপন করা হবে। কেউ পিছিয়ে থাকবে না, এমন নীতির ভিত্তিতে সরকারের পরিকল্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বেকার এবং অদক্ষ যুবকদের মানব সম্পদে রূপান্তরিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একইসঙ্গে শিশু এবং নারীদের উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ইউনিসেফ বরাবরই বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।’

ইউনিসেফ’র নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর তার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের চমকপ্রদ উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের প্রশংসা করেন। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আগত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদানের জন্যও বাংলাদেশের প্রশংসা করেন ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক।

অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তৃতায় ইউনিসেফ’র শুভেচ্ছা দূত সাকিব আল হাসান বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বাংলাদেশ তার সকল নীতির কেন্দ্রে শিশুদেরকে স্থান দিয়েছে , একইসঙ্গে শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তাদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করে চলেছে এবং বিদ্যালয়সমূহে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করেছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কাজে সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। এটি সত্যিই চমকপ্রদ যে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ সমাজের দক্ষতা উন্নয়নে তার অবদানের জন্য ইউনিসেফ’র স্বীকৃতি লাভ করেছেন। সরকারের অত্যন্ত ভাল নীতি এবং কর্মসূচিসমূহ আগামীতে বাংলাদেশের আরও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি,সমতা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।’ দেশের নেতা হিসেবে এই অসামান্য স্বীকৃতি অর্জন করায় সাকিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রাণঢালা অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন তিনি।

লাইক ও শেয়ার করুন:
BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error: Content is protected !!