Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Home » অন্যান্য বিভাগ » ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য ত্রিপুরা ভ্রমণ
ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য ত্রিপুরা ভ্রমণ

ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য ত্রিপুরা ভ্রমণ

এম হিরন প্রধান: ভারতের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ত্রিপুরা তার শান্ত সরল ও মনোরম পরিবেশের জন্য ভ্রমনের একটি আদর্শ জায়গা হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে। ত্রিপুরা ভ্রমণকালে ঘূর্ণায়মান সবুজ উপত্যকা, ঘন অরণ্য, সুস্পষ্ট প্রাসাদ এবং প্রাচীন বৌদ্ধস্থল আপনার দৈনন্দিন জীবনের উদ্বেগকে ভুলিয়ে দেবে।

ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য হল ত্রিপুরা। এই রাজ্যের ইতিহাস মহাভারতের সময় কাল থেকে সূচনা হয়েছে। জনপ্রিয় ধারনা অনুযায়ী বলা হয়ে থাকে যে ভুমি অধিষ্ঠাত্রী দেবী “ত্রিপুরা সুন্দরী”র নামানুসারে এই নামটি নামাঙ্কিত করা হয়েছিল।

ত্রিপুরা পূর্বে মাণিক্য রাজবংশের মহারাজাদের দ্বারা শাসিত ছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এই রাজ্যেটি ভারতের সঙ্গে মিলিত হয় এবং ১৯৭২ সালে ত্রিপুরা একটি রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন করে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অংশ। উত্তর, পশ্চিম, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ। ত্রিপুরার ভাষা বাংলা, কক্বরক্, চাকমা, মণিপুরী, হিন্দি ও ইংরেজি। ধর্ম হিন্দু, বৌদ্ধ, উপজাতীয় ধর্ম।

ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে দূরর্বতী স্থান হিসাবে গন্য করা হয়ে থাকে। ছোট হলেও এটি অতীব সুন্দর একটি রাজ্য। পুরাতন বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থান ও হিন্দু মন্দির, বন্য উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের আবাসস্থল এবং বিভিন্ন উপজাতিদের স্পন্দনশীল গঠনের সমন্বয়ে ত্রিপুরা অনাবিষ্কৃত সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে।

বিমান মাধ্যমে : প্রধান বিমানবন্দরটি রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত। আগরতলা থেকে অনেক সরকারি ও বেসরকারি বিমানসংস্থা নিয়মিত বিমান চালনা করে থাকে। কলকাতা ও গুয়াহাটি থেকে উড়ানের মাধ্যমে ত্রিপুরা পৌঁছতে মাত্র ৪৫ মিনিট সময় লাগে। এই রাজ্যে আরও ৩-টি বিমানবন্দর আছে যথা খোয়াই, কমলপুর এবং কৈলাশহর যেখানে ছোট নিজস্ব বিমান সহজেই অবতরণ করতে পারে।

সড়ক মাধ্যমে : ৪৪-নং জাতীয় সড়কের সাহায্যে আগরতলা থেকে শিলং এর মাধ্যমে গুয়াহাটি পৌঁছানো যায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে। অবস্থানগত সুবিধার কারনে বাংলাদেশ থেকে সড়ক মাধ্যমে ত্রিপুরা পৌঁছানো সহজ।

রেল মাধ্যমে : আগরতলা থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত কুমারঘাট হল নিকটস্হ রেলপ্রান্ত। কুমারঘাট রেলপথ দ্বারা গুয়াহাটির সাথে সংযুক্ত, যা দেশের বাকি অংশের সাথেও যুক্ত।ভারতের প্রধান রেলওয়ে স্টেশনগুলি থেকে যে কেউ গুয়াহাটি পৌঁছাতে পারে।

ত্রিপুরার পরিদর্শনযোগ্য স্থান : ত্রিপুরার চিত্রবত্ পরিবেশ সবুজ উপত্যকা, পাহাড়ী স্রোত, পাহাড় এবং উপত্যকা দ্বারা পরিবেষ্ঠিত। ত্রিপুরার জনপ্রিয় আকর্ষণ স্থলগুলি হল কমলাসাগর হ্রদ, ডামবুর হ্রদ, উজ্জায়ান্তা প্রাসাদ, নীড়মহল, কুঞ্জবন প্রাসাদ, ত্রিপুরা সরকারী যাদুঘর, জাম্পুই পাহাড় ইত্যাদি। এই রাজ্যটি ২২ ডিগ্রী ৫৬ মিনিট থেকে ২৪ ডিগ্রী ৩২ মিনিট উত্তর অক্ষাংশে এবং ৯১ ডিগ্রী ১০ মিনিট থেকে ৯২ ডিগ্রী ২১ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই রাজ্যটি পূর্বে মিজোরাম, উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম এবং উত্তর, দক্ষিণ এবং পশ্চিম দিকে বাংলাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত।

আপনি যদি ত্রিপুরার সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণীর সাক্ষী হতে চান তাহলে গোমতী অভয়ারণ্য, তৃষ্ণা অভয়ারণ্য, রোয়া অভয়ারণ্য এবং সিপাহিজলা অভয়ারণ্যগুলি পরিদর্শন করতে পারেন। যে সমস্ত ব্যাক্তিরা ধর্মীয় স্থান ভ্রমন করতে চান তাদের জন্যও এখানে অনেক মন্দির এবং বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে যেমন ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির, কমলাসাগর কালী মন্দির, ভুবনেশ্বরী মন্দির, দক্ষিণ ত্রিপুরার মনু বকুল বৌদ্ধ মন্দির, আগরতলার বেণুবন বিহার বৌদ্ধ মন্দির, উত্তর ত্রিপুরার পেচারথাল বৌদ্ধ মন্দির।

ত্রিপুরায় বহু সংখ্যক আকর্ষণীয় এবং সুশোভিত পর্যটক স্থান রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা, তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সুন্দর প্রাসাদ, অভয়ারণ্য, পবিত্র মন্দির এবং জাদুঘরের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এই শহরে ভ্রমন করার জন্য অনেক আকর্ষনীয় পর্যটনস্থল রয়েছে।

ত্রিপুরার নিকটবর্তী পর্যটন গন্তব্যস্থল : ত্রিপুরার অভয়ারণ্য স্পষ্টভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে ব্যাখ্যা করে। এই রাজ্যে চারটি অভয়ারণ্য রয়েছে যেগুলি বন্যপ্রাণীদের আশ্রয়স্থল হিসাবে এবং প্রকৃতির একটি অত্যাশ্চর্য আলো-আঁধারি নিয়ে অবস্থিত।

ত্রিপুরার দর্শনীয় স্থান যেমন:- * ত্রিপুরার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য * গোমতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য * ভুবনেশ্বরী মন্দির * রৌয়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য * সিপাহিজলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য * ত্রিপুরার সরকারী যাদুঘর * ত্রিপুরার মন্দির * ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির * কমলাসাগর কালী মন্দির :

রাজধানী আগরতলা হল ত্রিপুরার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল। এই শহরটি দর্শনীয় স্থানে পরিপূর্ণ এবং ১৮৩৮ খ্রীস্টাব্দে মহারাজা কৃষ্ণ কিশোর মাণিক্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আগরতলায় জনপ্রিয় পর্যটক গন্তব্যস্থল যেগুলি দর্শনকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেইগুলি হল :
* পুরাতন আগরতলা। * উজ্জায়ান্তা প্রাসাদ। * উমামহেশ্বর মন্দির। * জগন্নাথ মন্দির। * বেণুবন বিহার। * রবীন্দ্র কানন। * বুদ্ধ মন্দির।

ত্রিপুরায় কেনাকাটা : উপজাতি অধ্যুষিত ত্রিপুরার গর্ব হল সুবিশাল বনভূমি যেখানে বাঁশ ও বেতের প্রাচুর্য দেখা যায়। এই রাজ্যের চমত্কার হস্তশিল্পের ঐতিহ্য গঠনে এই দুটি কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা ত্রিপুরায় কেনাকাটা করতে আপনাকে আনন্দ দেবে।

ত্রিপুরার কেতাদুরস্ত গোষ্ঠীগুলি বেত থেকে বিভিন্ন উপযোগী জিনিস ও বস্তুসামগ্রী তৈরী করে, পাশাপাশি মাটি, কাঠ, তাল পাতা হস্তশিল্পের অন্যতম মাধ্যম হিসাবেও বিবেচিত হয়। ত্রিপুরার কারিগরদের চারুতা এবং সূক্ষ্ম ডিজাইন দ্বারা তৈরি হস্তনির্মিত জিনিস এবং আসবাবপত্র, তাদের সৌন্দর্যের জন্য দেশের মধ্যে সেরা স্থান দখল করে।

ত্রিপুরায় কেনাকাটার জন্য সবচেয়ে ভাল জায়গা হল রাজ্যের রাজধানী আগরতলা। আপনি আদিবাসী গ্রামগুলি পরিদর্শনের মাধ্যমে সেখানকার কারিগরদের কর্মযজ্ঞ দেখতে পারেন এবং তাদের কাছ থেকে কেনাকাটাও করতে পারেন।

অন্যান্য রাজ্যের ন্যায় ত্রিপুরাতেও আপনি কেনাকাটার জন্য সরকার পরিচালিত দোকান এবং ব্যক্তিগত দোকান খুঁজে পাবেন। এখানে বিচিত্র হস্তনির্মিত ভাণ্ডারের সঙ্গে আনন্দময় বাজার দর্শন করে আপনি আনন্দ লাভ করতে পারেন। একটি মিশ্র ব্যাগ জুড়ে যদি মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়-এর বৈশিষ্ট্য সামগ্রী থাকে তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই কারণ এই উত্তর-পূর্ব রাজ্যের শিল্প ও কারুশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।

লাইক ও শেয়ার করুন:
BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error: Content is protected !!